ইসলাম নিয়ে মনে সন্দেহ? তরুণ মুসলিমদের জন্য প্রশান্তির সহজ গাইড

আব্দুর রহমান
আব্দুর রহমান
১০ জুন, ২০২৬·২২

ইসলাম নিয়ে মনে কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ আসা মানেই যে আপনার ঈমান চিরতরে শেষ হয়ে গেছে—এমনটি ভাবা একদমই ঠিক নয়। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনেক তরুণ মুসলিম ইন্টারনেটে বিভিন্ন ভিডিও দেখে, বন্ধুদের তর্কে জড়িয়ে, কিংবা জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে সাময়িক ঈমানি অস্থিরতায় ভোগে। এই গাইডটি আপনাকে দেখাবে কীভাবে মনের এই সন্দেহগুলোকে লুকিয়ে না রেখে শান্ত মাথায় বুঝবেন, সঠিক ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করবেন এবং আল্লাহর দিকে ফিরে মনকে স্থির করবেন।

ইসলাম নিয়ে মনে সন্দেহ আসলে কী ধরনের প্রশ্ন?

ইসলাম নিয়ে মনে আসা সন্দেহ বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব বলতে এমন সব প্রশ্নকে বোঝায়, যা আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, পবিত্র কুরআন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত, পরকাল কিংবা শরিয়তের কোনো বিধান নিয়ে মনে অস্বস্তি তৈরি করে। কখনো কখনো দ্বীনি জ্ঞানের অভাব থেকে এই প্রশ্নের জন্ম হয়, আবার কখনো এটি কেবল শয়তানের প্ররোচনা বা ‘ওয়াসওয়াসা’ হয়ে থাকে। অনেকে আবার ইন্টারনেটে খণ্ডিত বা ভুল তথ্য দেখে বিভ্রান্তিতে পড়েন।

এখানে একটি বড় বিষয় আমাদের বুঝতে হবে—সত্য জানার উদ্দেশ্যে মনে প্রশ্ন জাগা আর অহংকারবশত সত্যকে অস্বীকার করা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। একজন তরুণ মুসলিম যদি আন্তরিকভাবে সত্য উন্মোচন করতে চায়, আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং সঠিক ব্যক্তির কাছ থেকে দ্বীন শেখে, তবে তা প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে ঈমান আরও মজবুত ও খাঁটি হতে পারে।

ইসলাম কখনো অন্ধ অনুকরণের কথা বলে না; বরং দলিল ও গভীর জ্ঞান অর্জনের ওপর জোর দেয়। তাই মনে কোনো সংশয় দেখা দিলে তা মনে পুষে রেখে নিজের মধ্যে দমবন্ধ পরিবেশ তৈরি করবেন না। প্রশ্নটিকে চিহ্নিত করুন এবং সঠিক পন্থায় তার সমাধান খুঁজুন। শান্ত থাকুন, আপনি এই পথযাত্রায় একা নন।

তরুণদের মনে ঈমানের সন্দেহ কেন তৈরি হয়?

আজকের দিনে তরুণরা খুব সহজেই অগাধ তথ্যের মুখোমুখি হয়। ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, শর্ট ভিডিও, মিম কিংবা বিভিন্ন কমেন্ট সেকশনে প্রতিনিয়ত ধর্ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলে। তবে মনে রাখতে হবে, সব তথ্যই কিন্তু খাঁটি জ্ঞান নয়। অনেক কনটেন্ট কেবল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ বা ‘ভিউ’ পাওয়ার জন্য উসকানিমূলকভাবে তৈরি করা হয়। ফলে মনের অবচেতন কোণে খণ্ডিত তথ্যের কারণে ঈমানি সন্দেহ উঁকি দেয়।

সন্দেহ বা সংশয় তৈরির আরেকটি বড় কারণ হলো জীবনের টানাপোড়েন। অনেক সময় মন খুলে দোয়া করার পরও যখন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না, কষ্ট দীর্ঘায়িত হয়, পারিবারিক অশান্তি বা গুনাহের অভ্যাসের কারণে মনের কোমলতা নষ্ট হয়, তখন শয়তান এই দুর্বল মুহূর্তে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। সে মনে গেঁথে দেয়—‘দেখো, তোমার দোয়া তো কবুল হচ্ছে না!’ অথচ আল্লাহ তাআলা কোনো দোয়াই বৃথা যেতে দেন না। তিনি তাঁর অসীম জ্ঞান দিয়ে আমাদের জন্য যা কল্যাণকর, তা সঠিক সময়ে দান করেন।

তাছাড়া বন্ধুবান্ধব বা সামাজিক পরিবেশের প্রভাবও অপরিসীম। বন্ধুমহলে যদি দ্বীনকে হালকা করে দেখার প্রবণতা থাকে, সালাত নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা হয় কিংবা সবকিছুকে শুধু বস্তুগত যুক্তির বেড়াজালে ফেলা হয়, তবে ঈমান দুর্বল হওয়া স্বাভাবিক। তাই নিজের ভেতরের এই সংশয়গুলো দূর করতে হলে তথ্যের উৎস, বন্ধুমহল ও ব্যক্তিগত অভ্যাসগুলোর দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।

মনে সন্দেহ দেখা দিলে প্রথম করণীয় কী?

মনে যখন তীব্র সংশয় তৈরি হয়, তখন প্রথম কাজ হলো আতঙ্কিত না হওয়া। নিজে নিজে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না যে আপনার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে। বরং ঠান্ডা মাথায় নিচে বর্ণিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:

১. প্রশ্নটি খাতায় লিখে রাখুন

একসাথে অনেকগুলো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেলে চারপাশ অন্ধকার মনে হতে পারে। তাই একটি খাতায় বা মোবাইলের নোটে নির্দিষ্ট প্রশ্নটি পরিষ্কারভাবে এক লাইনে লিখুন। যেমন—‘আল্লাহ যদি আমাদের ভালোবাসেন, তবে পৃথিবীতে এত কষ্ট কেন?’ এরপর পাশে লিখুন, ‘আমি সত্য জানতে চাই, অহংকারী হয়ে বিতর্ক জিততে চাই না।’ আপনার এই আন্তরিক নিয়ত আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার প্রথম চাবিকাঠি।

২. ভুল তথ্যের উৎসগুলো বন্ধ করুন

যেসব ভিডিও, পেজ বা গ্রুপ আপনার মনে বারবার নেতিবাচক চিন্তা বা সন্দেহ বাড়াচ্ছে, সাময়িকভাবে সেগুলো দেখা বন্ধ রাখুন। মনের এই নাজুক অবস্থায় বিতর্কিত কনটেন্ট দেখা মানে জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো। প্রথমে নিজের আকিদা ও বুনিয়াদি জ্ঞান শক্ত করুন, তারপর যেকোনো সংশয়ের যৌক্তিক উত্তর খুঁজুন।

৩. আল্লাহর কাছে সরল ভাষায় সাহায্য চান

আল্লাহর সাথে যোগাযোগের জন্য জটিল ভাষা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার মাতৃভাষা বাংলায় মনের আকুতি জানিয়ে বলুন—‘হে আল্লাহ! আমার মনকে হকের ওপর অবিচল রাখুন, আমাকে ভুল চিন্তা থেকে বাঁচান।’ পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার একটি দোয়া শেখানো হয়েছে যা তরুণ মুসলিমদের জন্য খুব দরকারি:

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

উচ্চারণ: রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা'দা ইয হাদাইতানা ওয়াহাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।

অর্থ: হে আমাদের রব! সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘী (বক্র) করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের করুণা দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৮)

পবিত্র কুরআন যেভাবে আমাদের সংশয় দূর করে

কুরআনুল কারীম আমাদের স্পষ্ট শিক্ষা দেয় যে, সুনির্দিষ্ট জ্ঞান ছাড়া কোনো বিষয়ের পেছনে অন্ধভাবে ছুটে চলা যাবে না। ইসলাম মানুষকে জোরপূর্বক অন্ধবিশ্বাসী বানাতে চায় না, বরং সংশয়কে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নম্রতার সাথে দূর করতে উৎসাহিত করে। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় নবী হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামও আল্লাহর কাছে মৃতকে জীবিত করার চাক্ষুষ প্রমাণ দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি অবিশ্বাসী ছিলেন না, বরং তিনি হৃদয়ের পরম প্রশান্তি ও স্থিরতা কামনা করেছিলেন।

এখান থেকে তরুণ মুসলিমদের জন্য শিক্ষণীয় হলো, মনের প্রশ্নগুলোকে অবহেলা করবেন না, আবার সেগুলোকে নিয়ে অতি-নাটকীয়তাও করবেন না। কুরআন আমাদের মধ্যমপন্থা শেখায়—সঠিক মানুষের কাছে যান, দ্বীন শিখুন এবং আল্লাহর সামনে নিজেকে সমর্পণ করুন।

কুরআনের কোনো অনুবাদ বা বিধান যদি আপনার কাছে কঠিন মনে হয়, তবে তৎক্ষণাৎ কোনো রায় দেবেন না। কারণ, শুধুমাত্র একটি লাইনের শাব্দিক অনুবাদ দেখে ইসলামের মতো গভীর জীবনব্যবস্থাকে বিচার করা ভুল। এর জন্য তাফসির, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শানে নুযুল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ব্যাখ্যা জানা প্রয়োজন। তবেই মনের সব ধোঁয়াশা দূর হয়ে যাবে।

অনলাইন বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকার উপায়

আজকের সময়ে ‘শুবুহাত’ বা বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারগুলো মূলত সম্পাদিত ক্লিপ, ভুয়া উক্তি, মনগড়া অনুবাদ এবং উগ্র তর্কা-তর্কির মাধ্যমে ছড়ানো হয়। ইন্টারনেট জগতে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা আপনার ঈমান রক্ষারই একটি অংশ। অনলাইনে দ্বীনি জ্ঞান নেওয়ার সময় এই দুটি বিষয় সর্বদা মাথায় রাখুন:

প্রথমত, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করুন। যিনি কথা বলছেন, তিনি কি স্বীকৃত দ্বীনি আলেম? তিনি কি পবিত্র কুরআন, সহিহ হাদিস ও পূর্বসূরিদের নির্ভরযোগ্য তাফসিরের আলোকে কথা বলছেন? নাকি কেবল নিজের খেয়ালখুশি ও উগ্রতা দিয়ে সমাজকে উস্কে দিচ্ছেন? মনে রাখবেন, বাগ্মীতা বা আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি মানেই কিন্তু ধ্রুব সত্য নয়।

দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমকে নিজের আকিদার শিক্ষক বানাবেন না। আপনি মনের অজান্তে একবার কোনো বিভ্রান্তিকর ভিডিও দেখলে অ্যালগরিদম আপনাকে বারবার তেমনই কনটেন্ট সাজেস্ট করবে। তাই আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ফিড পরিষ্কার রাখুন। ভালো ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের পেজ, নির্ভরযোগ্য ইসলামি শিক্ষামূলক চ্যানেল এবং আকিদার ক্লাসগুলো ফলো করে রাখুন।

মানসিক প্রশান্তি ও ঈমানী শক্তি বাড়াতে তরুণদের দৈনন্দিন রুটিন

ইসলাম নিয়ে মনের সংশয় দূর করতে কেবল তাত্ত্বিক উত্তরই যথেষ্ট নয়, এর সাথে প্রয়োজন একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর জীবনধারা বা রুটিন। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, অনিয়মিত ঘুম, একাকীত্ব ও পাপাচারের অভ্যাস মনকে সহজেই দুর্বল করে দেয়। একটি সুন্দর রুটিন আপনার মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করবে:

  • ভোরে ঘুম থেকে উঠে দিনের শুরুতে অন্তত ৫-১০ মিনিট অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত করুন।
  • পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে আপনার দৈনিক রুটিনের প্রধান নোঙর বা ভিত্তি বানান। সব একদিনে নিখুঁত না হলেও অন্তত শুরু করে দিন।
  • সারাদিনে কিছু সহজ জিকির করার অভ্যাস গড়ে তুলুন (যেমন—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আস্তাগফিরুল্লাহ)।
  • এমন একজন ভালো বন্ধু বা পরামর্শদাতার (মেন্টর) সংস্পর্শে থাকুন, যার সাথে মনের কথা নির্দ্বিধায় শেয়ার করা যায়।
  • রাতে ঘুমানোর আগে এমন সব কনটেন্ট বা স্ক্রিন টাইম পরিহার করুন, যা মনে নেতিবাচক চিন্তা বা অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

এই অভ্যাসগুলো হয়তো সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনে তা হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি ও বরকত এনে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই কেবল অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সূরা আর-রাদ, আয়াত: ২৮)

কখন আলেম কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন?

সব সমস্যার সমাধান নিজে নিজে একা করা সম্ভব নয়। একা একা বেশি চিন্তা করলে অনেক সময় সংশয় আরও ঘনীভূত হয়। যদি কোনো প্রশ্ন আপনার মনে অবিরাম ঘুরপাক খায়, সালাত আদায়ে চরম অনিহা চলে আসে, কিংবা নিজেকে ইসলাম থেকে দূরে সরে যেতে দেখেন—তবে কালক্ষেপণ না করে কোনো বিশ্বস্ত আলেমের শরণাপন্ন হোন।

আলেম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। এমন কাউকে বেছে নিন যিনি পরম ধৈর্য সহকারে আপনার কথা শুনবেন, কটূক্তি করবেন না এবং কুরআন ও সুন্নাহর দলিলভিত্তিক মার্জিত উত্তর দেবেন। একই সাথে আপনার মনের এই অস্থিরতা যদি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা বিষণ্ণতার রূপ নেয়, তবে একজন পেশাদার মুসলিম কাউন্সিলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। নিজেকে সুরক্ষার এই প্রচেষ্টা আপনার সচেতনতারই প্রমাণ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ইসলাম নিয়ে মনে সন্দেহ তৈরি হলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যায়?
না, শুধু মনে প্রশ্ন বা অনিচ্ছাকৃত সন্দেহ সৃষ্টি হলেই ঈমান নষ্ট হয়ে যায় না। যদি আপনি মনে-প্রাণে সত্যকে ভালোবাসেন এবং মনের এই অস্থিরতাকে অপখন্দ করেন, তবে বুঝতে হবে এটি আপনার জাগ্রত ঈমানের লক্ষণ। শান্ত থাকুন, আল্লাহর কাছে সাহায্য চান এবং সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন।
দ্বীনি সংশয় দূর করতে কার কাছে প্রশ্ন করা উচিত?
যেকোনো নির্ভরযোগ্য আলেম, আকিদা শাস্ত্রের শিক্ষক কিংবা কোনো প্রাজ্ঞ মুসলিম মেন্টরের কাছ থেকে আপনার প্রশ্নের উত্তর জেনে নিন। ইন্টারনেটের র্যান্ডম কমেন্ট বা খণ্ডিত ক্লিপ দেখে নিজের বিশ্বাসের বিষয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
অনলাইনে ইসলামবিরোধী অপপ্রচার বা ভিডিও দেখলে আমার করণীয় কী?
সবার আগে সেই ক্ষতিকর পেজ বা ভিডিওগুলো দেখা ও ফলো করা বন্ধ করুন। কোনো সংশয় দেখা দিলে তা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বিশ্বস্ত ইসলামি বইপত্র বা আলেমদের লেকচার থেকে সঠিক ব্যাখ্যাটি জানুন। আপনার মনের নিয়ন্ত্রণ সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের হাতে দেবেন না।
শয়তানের প্ররোচনা (ওয়াসওয়াসা) এবং বাস্তব প্রশ্নের মধ্যে পার্থক্য কী?
শয়তানের দেওয়া ওয়াসওয়াসা সাধারণত অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যহীন ভীতি তৈরি করে, যার কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান থাকে না। অন্যদিকে, বাস্তব প্রশ্নগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যা সঠিক জ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে সহজে নিরসন করা সম্ভব। উভয় ক্ষেত্রেই ‘আউযুবিল্লাহ’ পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে।
ঈমানের স্থিরতা ও দৃঢ়তা অর্জনের জন্য কোন আমলটি বেশি কার্যকর?
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করুন, অর্থসহ কুরআন অধ্যয়ন করুন এবং সকাল-সন্ধ্যার জিকিরসমূহ বজায় রাখুন। সৎ ও নেককার মানুষের সাহচর্য আপনার মনের অস্থিরতা দূর করতে চমৎকার কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।
অস্থিরতা বা সন্দেহের বশে সালাত ছেড়ে দিলে কী করণীয়?
সালাত বা ইবাদত ছেড়ে দেওয়া শয়তানের প্রধান ফাঁদ। মনোযোগ পুরোপুরি না থাকলেও সালাত আদায় করা বন্ধ করবেন না। আল্লাহর দয়ার দরজা সর্বদা খোলা রয়েছে। ভুলত্রুটির জন্য তওবা করে পুনরায় সালাত শুরু করুন এবং মহান রবের কাছে হেদায়েতের জন্য আকুল আবেদন জানান।

শেষ কথা: সংশয়কে করুন ঈমান দৃঢ় করার সোপান

ইসলাম নিয়ে মনে আসা প্রশ্নগুলো আপনাকে ধ্বংস করার জন্য নয়; বরং এগুলোকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে আপনি নিজের ঈমানকে আরও মজবুত করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন অহংকার পরিহার করে বিনীত অন্তরে সত্যের সন্ধান করা। মন্দ প্রভাব ও ভুল উৎস বর্জন করুন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে মনোযোগী হোন এবং আল্লাহর কাছে অবিচলতা প্রার্থনা করুন।

তারুণ্যের এই দীপ্ত সময়ে মনে নানা জিজ্ঞাসার জন্ম হতে পারে, তবে এই লড়াইয়ে নিজেকে একা ভাববেন না। ভালো সাহচর্য, সঠিক মেন্টর এবং সুশৃঙ্খল রুটিন আপনার মনকে স্থির রাখবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সরল ও সঠিক পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

  1. পবিত্র কুরআন, সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৬০ — হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের হৃদয়ের প্রশান্তি কামনার ঘটনা।
  2. পবিত্র কুরআন, সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬ — জ্ঞানহীন কোনো বিষয়ের পেছনে না চলার ঐশ্বরিক নির্দেশ।
  3. পবিত্র কুরআন, সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৭ — না জানলে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করার তাগিদ।
  4. পবিত্র কুরআন, সূরা আর-রাদ, আয়াত: ২৮ — আল্লাহর জিকির ও স্মরণে অন্তর শান্ত হওয়ার শাশ্বত সত্য।
  5. পবিত্র কুরআন, সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৮ — সরল পথ পাওয়ার পর অন্তরকে বক্র না করার চমৎকার প্রার্থনা।
  6. সহিহ বুখারি: ৭১, সহিহ মুসলিম: ১০৩৭ — আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন।
  7. জামে আত-তিরমিজি: ২৫১৮ — সন্দেহজনক বিষয় বর্জন করে সংশয়হীন বিষয় গ্রহণ করার অমূল্য উপদেশ।
আব্দুর রহমান

আব্দুর রহমান

এসইও স্পেশালিস্ট ও কনটেন্ট রাইটার

আব্দুর রহমান একজন এসইও স্পেশালিস্ট এবং ইসলামিক কনটেন্ট রাইটার। তিনি ফিকহ, দৈনন্দিন ইবাদত, নামাজ, পারিবারিক দিকনির্দেশনা এবং বাস্তব মুসলিম জীবনধারা নিয়ে সহজ প্রবন্ধ লেখেন, যাতে পাঠকরা প্রতিদিনের জীবনে ইসলাম অনুসরণ করতে পারেন।

আপডেট থাকুন

আমাদের সর্বশেষ আপডেট ও রিলিজ মিস করবেন না