সূরা Fatir

Originator

৪৫ আয়াতপারা ২২মাক্কী

সূরা Fatir হলো পবিত্র কুরআনের 35 নাম্বার সূরা। সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রতিদিন এই সূরা পড়ে মনের শান্তি ও আল্লাহর হেদায়েত লাভ করেন। এই পেজে আপনি সূরা Fatir-এর সম্পূর্ণ আরবি টেক্সট সহজে পড়তে পারবেন। প্রতিটি আয়াতের সঠিক মর্ম বোঝার জন্য আমরা বিশ্বস্ত বাংলা অনুবাদও যুক্ত করেছি। আপনি প্রথমবার কুরআন পড়ছেন কিংবা ইসলামের শিক্ষা আরও গভীরভাবে জানতে চাইছেন — তাহলে এই মাক্কী সূরা আপনাকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার পবিত্র বাণীর সাথে হৃদয়ের সংযোগ গড়তে সাহায্য করবে।

৩৫

Fatir

Originator

মাক্কী৪৫ আয়াতপারা ২২৪৫ রুকু
Fatir

ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ جَاعِلِ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ رُسُلًا أُو۟لِىٓ أَجْنِحَةٍۢ مَّثْنَىٰ وَثُلَـٰثَ وَرُبَـٰعَ ۚ يَزِيدُ فِى ٱلْخَلْقِ مَا يَشَآءُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ ١

Ahsanul Bayaan

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, ফেরেশতাদেরকে বাণীবাহকরূপে নিযুক্তকারী, যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টির মধ্যে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

مَّا يَفْتَحِ ٱللَّهُ لِلنَّاسِ مِن رَّحْمَةٍۢ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا ۖ وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُۥ مِنۢ بَعْدِهِۦ ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ ٢

Ahsanul Bayaan

আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন তা আটকে রাখার কেউ নেই। আর তিনি যা আটকে রাখেন, তারপর তা ছাড়াবার কেউ নেই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ هَلْ مِنْ خَـٰلِقٍ غَيْرُ ٱللَّهِ يَرْزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ ۚ لَآ إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ ٣

Ahsanul Bayaan

হে মানুষ, তোমাদের উপর আল্লাহর নিআমতকে তোমরা স্মরণ কর। আল্লাহ ছাড়া আর কোন স্রষ্টা আছে কি, যে, তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিয্ক দিবে? তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। অতএব তোমাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে?

وَإِن يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌۭ مِّن قَبْلِكَ ۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ ٤

Ahsanul Bayaan

আর যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তোমার পূর্বের রাসূলগণকেও মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। আর সকল বিষয় আল্লাহর-ই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّ وَعْدَ ٱللَّهِ حَقٌّۭ ۖ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا ۖ وَلَا يَغُرَّنَّكُم بِٱللَّهِ ٱلْغَرُورُ ٥

Ahsanul Bayaan

হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য; অতএব দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে; আর বড় প্রতারক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারণা না করে।

إِنَّ ٱلشَّيْطَـٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّۭ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّا ۚ إِنَّمَا يَدْعُوا۟ حِزْبَهُۥ لِيَكُونُوا۟ مِنْ أَصْحَـٰبِ ٱلسَّعِيرِ ٦

Ahsanul Bayaan

নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য কর। সে তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়।

ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَهُمْ عَذَابٌۭ شَدِيدٌۭ ۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌۭ وَأَجْرٌۭ كَبِيرٌ ٧

Ahsanul Bayaan

যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব; আর যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।

أَفَمَن زُيِّنَ لَهُۥ سُوٓءُ عَمَلِهِۦ فَرَءَاهُ حَسَنًۭا ۖ فَإِنَّ ٱللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ ۖ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَٰتٍ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِمَا يَصْنَعُونَ ٨

Ahsanul Bayaan

কাউকে যদি তার অসৎ কাজ সুশোভিত করে দেখানো হয় অতঃপর সে ওটাকে ভাল মনে করে, (সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যে ভালকে ভাল এবং মন্দকে মন্দ দেখে?) কেননা আল্লাহ যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন; অতএব তাদের জন্য আফসোস করে নিজে ধ্বংস হয়ো না। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা জানেন।

وَٱللَّهُ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ ٱلرِّيَـٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًۭا فَسُقْنَـٰهُ إِلَىٰ بَلَدٍۢ مَّيِّتٍۢ فَأَحْيَيْنَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ كَذَٰلِكَ ٱلنُّشُورُ ٩

Ahsanul Bayaan

আর তিনিই আল্লাহ যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালা সঞ্চালিত করে, তারপর তাকে আমি মৃত ভূমির দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তা দিয়ে আমি যমীনকে তার মৃত্যুর পর জীবিত করি; এভাবেই পুনরুত্থান হবে।

مَن كَانَ يُرِيدُ ٱلْعِزَّةَ فَلِلَّهِ ٱلْعِزَّةُ جَمِيعًا ۚ إِلَيْهِ يَصْعَدُ ٱلْكَلِمُ ٱلطَّيِّبُ وَٱلْعَمَلُ ٱلصَّـٰلِحُ يَرْفَعُهُۥ ۚ وَٱلَّذِينَ يَمْكُرُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ لَهُمْ عَذَابٌۭ شَدِيدٌۭ ۖ وَمَكْرُ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُوَ يَبُورُ ١٠

Ahsanul Bayaan

কেউ যদি সম্মান চায় (তবে তা যেন আল্লাহর কাছেই চায়) কেননা সকল সম্মান আল্লাহরই। তাঁরই পানে উত্থিত হয় ভাল কথা* আর নেক আমল তা উন্নীত করে। আর যারা মন্দকাজের চক্রান্ত করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব আর ওদের ষড়যন্ত্র তো নস্যাৎ হবে। * ভাল কথা বলতে বুঝানো হয়েছে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। কারো মতে তা হল ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’। কেউ বলেন, তা হল আল্লাহর যিকির ও স্মরণ। ইমাম শাওকানী বলেন, যে কোন উত্তম ও ভাল কথা এখানে বুঝানো হয়েছে।

অন্যান্য সূরাসমূহ

সূরা Fatir এর সারসংক্ষেপ

সূরা Fatir অনলাইনে পড়ুন। এটি পবিত্র কুরআনের 35 নাম্বার সূরা এবং এর সুন্দর অর্থ হলো "Originator"। এখানে আপনি স্পষ্ট সূরা Fatir আরবি টেক্সট পড়তে পারবেন। সাথে আহসানুল বায়ান কর্তৃক সূরা Fatir এর বাংলা অনুবাদও পাবেন। এই মাক্কী সূরায় মোট 45 টি আয়াত এবং 5 টি রুকু রয়েছে। এটি জুজ 22 এ সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিদিন কুরআন পড়া মুসলমানদের আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলার)-এর আরও কাছে নিয়ে আসে।

সূরা Fatir এর আসল অর্থ বুঝতে চান? এই পেজ আপনার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছে। মনের শান্তি পেতে আজই পবিত্র কুরআন পড়ুন। আমাদের সুন্দর ডিজাইন যেকোনো মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে পড়া আরামদায়ক করে তোলে। আয়াত হিফজ করা হোক বা দৈনিক কুরআন তিলাওয়াত — সবকিছুর জন্য এটি একদম উপযুক্ত। আপনার দৈনিক তিলাওয়াতের জন্য এই পেজটি বুকমার্ক করুন এবং যেকোনো সময় এই পবিত্র সূরার বরকত উপভোগ করুন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

সূরা Fatir এর অর্থ হলো "Originator"। এটি পবিত্র কুরআনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূরা যা মুসলমানরা হেদায়েত ও মানসিক শান্তির জন্য পড়ে থাকেন।
আরও দেখুন