১/৪. অধ্যায়ঃ
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ৪ - রাতে জাগলে দোয়া ও ইস্তিগফার
রাত্রে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তার দু‘আ
রাতে ঘুম ভাঙলে দোয়া: তাওহীদের জিকির ও ইস্তিগফার
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস : ৪
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীসহাদিস নম্বর ৪
উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাত্রে নিদ্রা ভঙ্গ হলে বলে, (লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া সুবহানাল্লা-হ আল্লাহু আকবার ওয়ালা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।) অর্থাৎ, আল্লাহ্ ছাড়া সত্যিকার কোন উপাস্য নেই। তিনি এক ও একক। তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব ও সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাশীল। আল্লাহ্রই সমস্ত প্রশংসা। তিনি পূত-পবিত্র ও মহান। তাঁর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজ করার ও মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার শক্তি নেই। তারপর সে যদি আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, “হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করে দাও, অথবা অন্য দোয়া করে, তাহলে তার দোয়া কবুল হয়।”
(বুখারী ১১৫৪)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাতে ঘুম ভেঙে গেলে পড়ার দোয়া এবং আল্লাহর কাছে চাওয়ার আদব এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে নিদ্রা ভঙ্গ হলে আল্লাহর একত্ব, তাঁর রাজত্ব, প্রশংসা, ক্ষমতা এবং নিজের অক্ষমতার কথা স্মরণ করে এই জিকির পড়ে, তারপর ক্ষমা চায় বা অন্য কোনো দোয়া করে, তার দোয়া কবুল হয়। হাদিসের দোয়ায় তাওহীদ, তাহমিদ, তাসবিহ, তাকবির এবং “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”—সবই আছে। অর্থাৎ, রাতের নিরিবিলি সময়ে ঘুম ভাঙলে তা শুধু বিরক্তির বিষয় নয়; বরং আল্লাহকে স্মরণ করার সুযোগ। রাতে জাগলে দোয়া, ইস্তিগফার এবং তাওহীদের জিকির—এই তিনটি বিষয় এই হাদিসে খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতে ঘুম ভাঙলে আল্লাহর তাওহীদ ও প্রশংসার জিকির করা উচিত।
- জিকিরের পর ইস্তিগফার করা হাদিসে উৎসাহিত হয়েছে।
- ঘুম ভাঙার সময় দোয়া করার একটি বিশেষ সুযোগ আছে।
- ভালো কাজ ও মন্দ থেকে বাঁচার শক্তি আল্লাহর সাহায্যেই আসে।
