২/২২১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১০৮০ - মিম্বারে সালাত ও শেখানোর পদ্ধতি
মসজিদে মিম্বার স্থাপন সম্পর্কে
মিম্বারে সালাত পড়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শেখানোর পদ্ধতি
সুনানে আবূ দাউদ : ১০৮০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১০৮০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيُّ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمِ بْنُ دِينَارٍ، أَنَّ رِجَالاً، أَتَوْا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ وَقَدِ امْتَرَوْا فِي الْمِنْبَرِ مِمَّ عُودُهُ فَسَأَلُوهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْرِفُ مِمَّا هُوَ وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ أَوَّلَ يَوْمٍ وُضِعَ وَأَوَّلَ يَوْمٍ جَلَسَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَى فُلاَنَةَ امْرَأَةٍ قَدْ سَمَّاهَا سَهْلٌ " أَنْ مُرِي غُلاَمَكِ النَّجَّارَ أَنْ يَعْمَلَ لِي أَعْوَادًا أَجْلِسُ عَلَيْهِنَّ إِذَا كَلَّمْتُ النَّاسَ " .فَأَمَرَتْهُ فَعَمِلَهَا مِنْ طَرْفَاءِ الْغَابَةِ ثُمَّ جَاءَ بِهَا فَأَرْسَلَتْهُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَأَمَرَ بِهَا فَوُضِعَتْ هَا هُنَا فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَلَّى عَلَيْهَا وَكَبَّرَ عَلَيْهَا ثُمَّ رَكَعَ وَهُوَ عَلَيْهَا ثُمَّ نَزَلَ الْقَهْقَرَى فَسَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ ثُمَّ عَادَ فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا صَنَعْتُ هَذَا لِتَأْتَمُّوا بِي وَلِتَعَلَّمُوا صَلاَتِي " .
আবূ হাযিম ইবনু দীনার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
কতিপয় লোক মসজিদের মিম্বার কোন কাঠের তৈরী ছিলো এ বিষয়ে সন্দিহান হলে তারা সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী (রাঃ) এর নিকট এসে তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তা কোন কাঠের তৈরী ছিলো তা আমি জানি। প্রথম যেদিন স্থাপন করা হয়েছিল তাও আমি অবগত আছি। আবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথম যেদিন তার উপর বসেছিলেন আমি সেদিনও তা দেখেছি।একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক মহিলার (যার নাম সাহ্ল (রাঃ) উল্লেখ করেছিলেন) এর নিকট কাউকে এ সংবাদসহ পাঠালেন যে, লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য বা খুত্ববাহর সময় আমার বসার জন্য তোমার কাঠমিস্ত্রি ক্রীতদাসকে আমার জন্য কিছু কাঠ প্রস্তুত করতে (মিম্বার বানাতে) বলো। মহিলা তাকে তাই করতে আদেশ করলো। ক্রীতদাসটি আল-গাবা নামক স্থানের ঝাউগাছের কাঠ দিয়ে তা তৈরী করে আনলে ঐ মহিলা তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পাঠিয়ে দেন।অতঃপর তাঁর (ﷺ) নির্দেশে সেটি এ স্থানে রাখা হলো। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এর উপর সালাত পড়তে, তাকবির বলতে, রুকু’ করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি পিছন দিকে সরে গিয়ে মিম্বারের গোড়ায় সিজদাহ্ করেন। এরপর তিনি পুনরায় মিম্বারে উঠেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি লোকদের দিকে ঘুরে বলেনঃ হে লোকেরা! আমি এজন্যই এরূপ করেছি যাতে তোমরা আমাকে সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারো এবং আমার সালাত আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারো।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১০৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে সহল ইবনু সাঈদ আস-সাঈদী (রাঃ) মসজিদে নববীর মিম্বার সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন। কিছু লোক মিম্বারের কাঠ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি জানেন সেটি কী কাঠের ছিল, প্রথম স্থাপনের দিনও দেখেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথম যেদিন তাতে বসেছিলেন তাও দেখেছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) এক মহিলাকে বলেছিলেন, তার কাঠমিস্ত্রি কৃতদাস যেন মানুষের উদ্দেশ্যে কথা বলার সময় বসার জন্য কাঠ তৈরি করে। সেটি আল-গাবার ঝাউগাছের কাঠ দিয়ে বানানো হয়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) মিম্বারের ওপর সালাত পড়েন, তাকবির বলেন, রুকু করেন, তারপর পিছিয়ে নেমে মিম্বারের গোড়ায় সিজদা করেন। সালাত শেষে তিনি বলেন, তিনি এমন করেছেন যাতে মানুষ তাঁকে অনুসরণ করতে পারে এবং তাঁর সালাতের পদ্ধতি জানতে পারে। এই হাদিস নবীর শিক্ষাদান পদ্ধতি, মিম্বার এবং সালাত শেখার বিষয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) কাজের মাধ্যমে সাহাবিদের সালাত শেখাতেন।
- মিম্বার খুতবা ও মানুষের সঙ্গে কথা বলার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
- সাহাবিরা মসজিদের ইতিহাস ও নবীর আমল সংরক্ষণ করেছেন।
- সালাত শেখার ক্ষেত্রে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পদ্ধতি অনুসরণ করাই মূল লক্ষ্য।
