৩/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১১৭৪ - জুমুয়ায় বৃষ্টির দোয়া
ইসতিসকার সালাতে দুই হাত উত্তোলন সম্পর্কে
জুমুয়ার খুতবায় বৃষ্টির দোয়া ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রার্থনা
সুনানে আবূ দাউদ : ১১৭৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১১৭৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَيُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ،قَالَ أَصَابَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ قَحْطٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَبَيْنَمَا هُوَ يَخْطُبُنَا يَوْمَ جُمُعَةٍ إِذْ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْكُرَاعُ هَلَكَ الشَّاءُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَسْقِيَنَا فَمَدَّ يَدَيْهِ وَدَعَا قَالَ أَنَسٌ وَإِنَّ السَّمَاءَ لَمِثْلُ الزُّجَاجَةِ فَهَاجَتْ رِيحٌ ثُمَّ أَنْشَأَتْ سَحَابَةً ثُمَّ اجْتَمَعَتْ ثُمَّ أَرْسَلَتِ السَّمَاءُ عَزَالِيَهَا فَخَرَجْنَا نَخُوضُ الْمَاءَ حَتَّى أَتَيْنَا مَنَازِلَنَا فَلَمْ يَزَلِ الْمَطَرُ إِلَى الْجُمُعَةِ الأُخْرَى فَقَامَ إِلَيْهِ ذَلِكَ الرَّجُلُ أَوْ غَيْرُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَحْبِسَهُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ «حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا» . فَنَظَرْتُ إِلَى السَّحَابِ يَتَصَدَّعُ حَوْلَ الْمَدِينَةِ كَأَنَّهُ إِكْلِيلٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবদ্দশায় একবার মাদীনাহ্বাসী দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। ঐ সময়ের জুমু’আহর দিন তিনি আমাদের উদ্দেশে খুত্ববাহ দানকালে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! (অনাবৃষ্টির কারণে) উট-বকরি ইত্যাদি প্রায় ধ্বংসের মুখে। সুতরাং আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণের দোয়া করুন।অতঃপর তিনি হাত প্রসারিত করে দোয়া করলেন। বলেন, তিনি দোয়া করার পূর্বে পর্যন্ত আকাশ মেঘমুক্ত স্বচ্ছ কাঁচের ন্যায় পরিষ্কার ছিল, (দোয়া করার পর) হঠাৎ বায়ু প্রবাহিত হয়ে এক খণ্ড মেঘ প্রস্তুত হলো, অতঃপর বিভিন্ন খণ্ড একত্র হয়ে আকাশে অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষিত হলো। এমনকি আমরা বৃষ্টিতে ভিজে বাড়িঘরে ফিরে এলাম এবং একটানা পরবর্তী জুমু’আহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকলো।এ জুমু’আহতে ঐ লোক অথবা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! (অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে) ঘর-বাড়ি ধসে যাচ্ছে, কাজেই বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তার কথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে দোয়া করলেন, (হে আল্লাহ!) আমাদের আশেপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের উপরে নয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম, তা মদীনাহ্র আশেপাশে উঁচু উঁচু সুদৃশ্য চূড়ার মত বিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১১৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদিনায় দুর্ভিক্ষের সময় জুমুয়ার খুতবার মধ্যে বৃষ্টির দোয়ার ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানালেন যে অনাবৃষ্টির কারণে উট-বকরী ধ্বংসের মুখে। তখন তিনি হাত প্রসারিত করে দোয়া করলেন। বর্ণনায় এসেছে, দোয়ার আগে আকাশ পরিষ্কার ছিল, পরে মেঘ জমে অঝোর বৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী জুমুয়া পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে থাকে। এরপর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ির ক্ষতির কথা বলা হলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মুচকি হেসে দোয়া করলেন: আমাদের আশেপাশে বৃষ্টি দাও, আমাদের উপর নয়। এই হাদিস বৃষ্টির দোয়া, জুমুয়ার খুতবা এবং উপকারী বৃষ্টির জন্য ভারসাম্যপূর্ণ দোয়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমুয়ার খুতবার সময় মানুষের প্রয়োজন শুনে দোয়া করার বর্ণনা এসেছে।
- অনাবৃষ্টির কষ্টে আল্লাহর কাছে বৃষ্টি চাওয়া হয়েছে।
- অতিরিক্ত বৃষ্টির ক্ষতি হলে আশেপাশে বৃষ্টি চাওয়ার দোয়া এসেছে।
- দোয়ায় মানুষের বাস্তব প্রয়োজন ও কল্যাণের কথা রাখা উচিত।
