৫/৯. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১২৭৩ - আসরের পর দুই রাকাতের কারণ

আসরের পর সালাত আদায়

আসরের পর দুই রাকাত: যুহরের ছুটে যাওয়া সালাত

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১২৭৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَزْهَرَ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقُلْ إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْهُمَا .فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي بِهِ فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ . فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي بِهِ إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَنْهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا أَمَّا حِينَ صَلاَّهُمَا فَإِنَّهُ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَصَلاَّهُمَا فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ فَقُولِي لَهُ تَقُولُ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَسْمَعُكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ .قَالَتْ فَفَعَلَتِ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ «يَا بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالإِسْلاَمِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ».

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস, ‘আব্দুর রহমান ইবনু আযহার ও আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) সকলেই তাকে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর কাছে প্রেরণ করেন। (তাঁরা তাকে বললেন), আমাদের পক্ষ হতে ‘আয়িশাহকে সালাম জানাবে, তাঁকে আসরের পরে দু’ রাকাত সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবে এবং বলবে যে, আমাদের জানতে পেরেছি, আপনি ঐ দু’ রাকাত সালাত আদায় করে থাকেন। অথচ আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা পড়তে নিষেধ করেছেন।(বর্ণনাকারী কুরাইব বলেন), অতঃপর আমি তাঁর কাছে যাই এবং তাঁরা আমাকে যে সংবাদসহ পাঠিয়েছেন, তা পৌঁছাই। তিনি বললেন, এ বিষয়ে উম্মু সালামাহ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করো। সুতরাং আমি তাদের নিকট ফিরে এসে তাঁর বক্তব্য তাদেরকে জানাই। তাঁরা আমাকে পুনরায় উম্মু সালামহ (রাঃ) এর নিকট ‘আয়িশাহর অনুরূপ সংবাদসহ পাঠালেন। উমু সালামাহ (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এ দু’ রাকাতকে যে নিষেধ করেছেন, তা আমিও শুনেছি। কিন্তু পরবর্তীতে আমি তাকে এ দু’ রাকাত আদায় করতে দেখেছি। তবে তিনি এ দু’ রাকাত আদায় করেছেন আসরের (ফারয) সালাতের পরে।অতঃপর তিনি যখন আমার কাছে আসেন, তখন আনসারের বনি হারাম গোত্রীয় কতিপয় মহিলা আমার কাছে উপস্থিত ছিল। তিনি সে সময় তা আদায় করেছেন। আমি আমার এক দাসীকে তাঁর কাছে এ বলে প্রেরণ করি যে, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! উম্মু সালামাহ (রাঃ) এ দু’ রাকাত সালাত সম্পর্কে আপনাকে নিষেধ করতে শুনেছেন। অথচ এখন তিনি দেখেছেন যে, আপনি তা নিজেই আদায় করেছেন। এ সময় তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলে তাঁর থেকে সরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, দাসী তাই করলো। তিনি তাকে হাত দ্বারা ইঙ্গিত করায় সে সরে দাঁড়ালো।অতঃপর তিনি সালাত শেষে বললেনঃ হে আবু উমাইয়্যার কন্যা! তুমি আমাকে আসরের পরে দু’ রাকাত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছো। ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশে ‘আবদুল ক্বায়িস গোত্রীয় কতিপয় লোক আমার নিকট আসার কারণে আমি যুহরের দু’ রাকাত আদায় করতে পারিনি। এটা সেই দু’ রাকাত।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১২৭৩-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে আসরের পরে দুই রাকাত সালাতের একটি নির্দিষ্ট ঘটনা পরিষ্কার করা হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ), আবদুর রহমান ইবন আযহার (রাঃ) ও আল-মিসওয়ার (রাঃ) আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে জানতে পাঠান। আয়িশা (রাঃ) উম্মু সালামা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে বলেন। উম্মু সালামা (রাঃ) জানান, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে আসরের পরে দুই রাকাত পড়তে দেখেছেন, যদিও তিনি এ দুই রাকাত সম্পর্কে নিষেধও শুনেছেন। পরে নবীজি ব্যাখ্যা করেন, আবদুল কায়িসের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের জন্য আসায় তিনি যুহরের পরের দুই রাকাত পড়তে পারেননি; আসরের পরে যে দুই রাকাত পড়েছেন, সেটি সেই ছুটে যাওয়া দুই রাকাত। তাই এই হাদিসে আসরের পরের সালাতকে সাধারণ নিয়ম নয়, একটি নির্দিষ্ট কারণসহ ঘটনা হিসেবে বুঝতে হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাহাবিরা কোনো আমল নিয়ে প্রশ্ন হলে সরাসরি জিজ্ঞেস করতেন।
  • নবীজির আসরের পর দুই রাকাতের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ ছিল।
  • হাদিস বোঝার সময় ঘটনার কারণ ও কথার সীমা খেয়াল রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন