৫/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১২৯৮ - সালাতুত তাসবীহের আরেক বর্ণনা
সালাতুত তাসবীহ
সালাতুত তাসবীহ: সময় ও বসে তাসবীহ পড়ার বর্ণনা
সুনানে আবূ দাউদ : ১২৯৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১২৯৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ الأُبُلِّيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ أَبُو حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، كَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يُرَوْنَ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «ائْتِنِي غَدًا أَحْبُوكَ وَأُثِيبُكَ وَأُعْطِيكَ» . حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ يُعْطِينِي عَطِيَّةً قَالَ «إِذَا زَالَ النَّهَارُ فَقُمْ فَصَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ» .فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ «تَرْفَعُ رَأْسَكَ - يَعْنِي مِنَ السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ - فَاسْتَوِ جَالِسًا وَلاَ تَقُمْ حَتَّى تُسَبِّحَ عَشْرًا وَتَحْمَدَ عَشْرًا وَتُكَبِّرَ عَشْرًا وَتُهَلِّلَ عَشْرًا ثُمَّ تَصْنَعُ ذَلِكَ فِي الأَرْبَعِ رَكَعَاتٍ» . قَالَ " فَإِنَّكَ لَوْ كُنْتَ أَعْظَمَ أَهْلِ الأَرْضِ ذَنْبًا غُفِرَ لَكَ بِذَلِكَ» . قُلْتُ فَإِنْ لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ أُصَلِّيَهَا تِلْكَ السَّاعَةَ قَالَ " صَلِّهَا مِنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ خَالُ هِلاَلٍ الرَّائِيِّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْمُسْتَمِرُّ بْنُ الرَّيَّانِ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مَوْقُوفًا وَرَوَاهُ رَوْحُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَجَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ النُّكْرِيِّ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَوْلُهُ وَقَالَ فِي حَدِيثِ رَوْحٍ فَقَالَ حَدِيثُ النَّبِيِّ ﷺ .
আবুল জাওযা’ (রহঃ) সূত্র হতে বর্ণিতঃ
আমাকে নবী (ﷺ) এর এক সাহাবী বর্ণনা করেছেন। তাদের ধারণা, তিনি হচ্ছেন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)। তিনি বলেছেন, একদা নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, তুমি আগামীকাল ভোরে আমার কাছে আসবে, আমি তোমাকে কিছু দান করবো, আমি তোমাকে দিবো, আমি তোমাকে উপঢৌকন প্রদান করবো। আমি ধারণা করলাম, তিনি আমাকে কোন জিনিস দিবেন। (অতঃপর পরদিন তাঁর নিকটে আসলে) তিনি বললেনঃ “দুপুরে সূর্য হেলে পড়লে তুমি দাঁড়িয়ে চার রাক’আত সালাত আদায় করবে”। অতঃপর পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত।তিনি বললেনঃ অতঃপর দ্বিতীয় সাজদাহ্ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং দাঁড়ানোর পূর্বে দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আল্হামদুলিল্লাহ, দশবার আল্লাহু আকবার এবং দশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে। এভাবে তোমার চার রাক’আত আদায় করবে। তিনি বললেনঃ তুমি দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহগার হয়ে থাকলেও এ বিনিময়ে তোমাকে ক্ষমা করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমি ঐ সময়ে এ সালাত আদায় করতে না পারলে? তিনি বললেনঃ রাত ও দিনের যে কোন সময়ে সুযোগ পেলেই তা আদায় করে নিবে।
[১৩০১] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সালাত, হাঃ ৪৮১, ইমাম তিরমিযী বলেন, আনাসের হাদিসটি হাসান গরীব)। উল্লেখ্য, সালাতুত তাসবীহ এর হাদিসগুলোকে হাদীসবিশারদ ইমামগণের একদল দুর্বল বলেছেন এবং আরেক দল বলেছেন হাসান বা সহীহ। **সালাতুত তাসবীহ জামা’আত করে আদায় করা বিদ’আতঃ** তাসবীহের সালাত রাসূলুল্লাহ (ﷺ), সাহাবায়ি কিরাম এবং তাবেঈ ইমামগণ থেকে জামা’আতের সাথে আদায় করার কোন প্রমাণ নেই। না মসজিদে, না ঘরে, না রমজান মাসে, না অন্য মাসে। তাই এর জামা’আত করা এবং জামা’আতের ব্যবস্থা করা বিদ’আত থেকে মুক্ত নয়। কাজেই সালাতুত তাসবীহ জামা’আত করে আদায় করা থেকে বিরত থাকা উচিত। (আইনী তুহফা সালাতে মুস্তফা)
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১২৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم এক সাহাবীকে বলেন, পরদিন ভোরে আসতে; তিনি ভেবেছিলেন হয়তো কোনো বস্তু দেওয়া হবে। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে চার রাকাত সালাতের শিক্ষা দেন। বলা হয়েছে, দুপুরে সূর্য হেলে পড়লে সালাত আদায় করবে। পূর্বের হাদিসের মতো নিয়মের সঙ্গে এখানে দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসে দাঁড়ানোর আগে দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আলহামদুলিল্লাহ, দশবার আল্লাহু আকবার এবং দশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার কথা এসেছে। যদি সে সময় আদায় করতে না পারে, তাহলে রাত বা দিনের যে কোনো সময়ে সুযোগমতো আদায় করবে। শেষে আবূ দাউদ রহ. বর্ণনার সূত্র বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, যা হাদিসের বর্ণনা-আলোচনার অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতুত তাসবীহের একটি বর্ণনায় দুপুরের সময়ের কথা এসেছে।
- দ্বিতীয় সিজদার পর বসে তাসবীহ পড়ার নিয়ম এখানে উল্লেখিত।
- নির্দিষ্ট সময়ে না পারলে রাত বা দিনের সুযোগমতো আদায়ের কথা বলা হয়েছে।
- বর্ণনার শেষে সূত্র-সম্পর্কিত মন্তব্য থাকায় বিষয়টি বুঝতে সতর্ক থাকা দরকার।
