৫/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৫৩ - তাহাজ্জুদ শেষে নূরের দোয়া
রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত সম্পর্কে
নূরের দোয়া: তাহাজ্জুদ, মিসওয়াক ও সূরা আলে ইমরানের আয়াত
সুনানে আবূ দাউদ : ১৩৫৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩৫৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّهُ رَقَدَ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَرَآهُ اسْتَيْقَظَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ وَهُوَ يَقُولُ : ﴾ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ﴿ حَتَّى خَتَمَ السُّورَةَ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أَطَالَ فِيهِمَا الْقِيَامَ وَالرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ، ثُمَّ إِنَّهُ انْصَرَفَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ، ثُمَّ فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ بِسِتِّ رَكَعَاتٍ، كُلُّ ذَلِكَ يَسْتَاكُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وَيَقْرَأُ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ، ثُمَّ أَوْتَرَ - قَالَ عُثْمَانُ : بِثَلاَثِ رَكَعَاتٍ، فَأَتَاهُ الْمُؤَذِّنُ فَخَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ - وَقَالَ ابْنُ عِيسَى : ثُمَّ أَوْتَرَ فَأَتَاهُ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، فَصَلَّى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - وَهُوَ يَقُولُ : " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي لِسَانِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا، وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، اللَّهُمَّ وَأَعْظِمْ لِي نُورًا».
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা তিনি নবী (ﷺ) এর সাথে ঘুমালেন। অতঃপর তিনি দেখলেন যে, তিনি ঘুম থেকে জেগে মিসওয়াক করে উযু সেরে আল্লাহর এ বাণী তিলাওয়াত করলেনঃ “ইন্না ফি খালক্বিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি” সূরা আল ‘ইমরানের শেষ আয়াত পর্যন্ত। তারপর উঠে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। সালাতের ক্বিয়াম, রুকূ’ ও সাজদাহ্ খুব দীর্ঘায়িত করলেন। অতঃপর সালাত শেষে তিনি নাক ডেকে ঘুমাতে লাগলেন। এরূপে তিনবারে ছয় রাক‘আত আদায় করলেন এবং প্রতিবারই মিসওয়াক করে উযু সেরে উক্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন। সবশেষে বিতর পড়লেন।বর্ণনাকারী ‘উসমান বলেন, তিনি বিতর সালাত তিন রাক‘আত আদায় করেছেন। অতঃপর মুয়াজ্জিন এলে তিনি মসজিদে চলে গেলেন। ইবনু ঈসা বলেন, তিনি বিতর করলেন, অতঃপর ফাজ্রের আবির্ভাব হলে বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের সংবাদ দিলেন। তিনি ফাজরের দু’ রাক‘আত সুন্নাত আদায়ের পর মসজিদে যান এবং দোয়া পাঠ করেনঃ “হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দাও, আমার জবানে নূর দাও, আমার কানে নূর দাও, আমার চোখে নূর দাও, নূর দান করো আমার পিছনে ও সম্মুখভাগে এবং আমার উপরে ও নীচে। হে আল্লাহ! আমাকে পর্যাপ্ত নূর দান করো”।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর রাতের ইবাদত কাছ থেকে দেখার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم জেগে মিসওয়াক করলেন, ওজু করলেন এবং সূরা আলে ইমরানের শেষ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন—“নিশ্চয়ই আসমান ও জমীনের সৃষ্টিতে...” থেকে শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি দুই রাকাত সালাত পড়লেন এবং কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করলেন। আবার ঘুমালেন, আবার উঠলেন, মিসওয়াক করলেন, ওজু করলেন এবং আয়াতগুলো পড়লেন। এভাবে ছয় রাকাত হলো, তারপর বিতর পড়লেন। ফজরের সময় হলে তিনি দুই রাকাত সুন্নত পড়েন এবং মসজিদে যাওয়ার সময় নূরের দোয়া পড়েন। এই হাদিসে তাহাজ্জুদ নামাজ, মিসওয়াক, ওজু, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়ার সুন্দর মিল দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতে জেগে মিসওয়াক ও ওজু করার বর্ণনা এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم সূরা আলে ইমরানের আয়াত তিলাওয়াত করে সালাতে দাঁড়াতেন।
- তাহাজ্জুদে কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করার কথা এসেছে।
- নূরের দোয়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর মুখে এসেছে এবং তা গভীর অর্থবহ।
