৯/৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৫৬৩ - স্বর্ণের অলংকারের যাকাত
গচ্ছিত মাল কি এবং অলংকারের যাকাত প্রসঙ্গে
স্বর্ণের অলংকারের যাকাত: কঙ্কনের ঘটনা থেকে শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৫৬৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৫৬৩
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، - الْمَعْنَى - أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا وَفِي يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَهَا «أَتُعْطِينَ زَكَاةَ هَذَا» . قَالَتْ لاَ . قَالَ " أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللَّهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ» . قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِيِّ ﷺ وَقَالَتْ هُمَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُولِهِ .
আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা এক মহিলা তার কন্যাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাছে আসলো। তার কন্যার হাতে দু’টি মোট স্বর্ণের কঙ্কন ছিলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে কেয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দু’টি কঙ্কন পরিয়ে দিবেন? বর্ণনাকারী বলেন, সে তৎক্ষণাৎ তা খুলে নবী (ﷺ) সামনে রেখে দিলে বললো, এ দু’টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।
১৫৬৩
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৫৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে স্বর্ণের অলংকারের যাকাত নিয়ে একটি সরাসরি ঘটনা এসেছে। এক মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসেন। মেয়ের হাতে দুটি মোটা স্বর্ণের কঙ্কন ছিল। নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করেন, সে এগুলোর যাকাত দেয় কি না। মহিলা বলেন, না। তখন তিনি কেয়ামতের দিনের আগুনের কঙ্কনের কথা বলে সতর্ক করেন। এই কথা শুনে মহিলা সঙ্গে সঙ্গে কঙ্কন দুটি খুলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য দিয়ে দেন। হাদিসটি গহনার যাকাত বিষয়ে গভীর সতর্কতা দেয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সাজসজ্জার জিনিস হলেও যাকাতের হক অবহেলা করা উচিত নয়, যখন তা যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে পড়ে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বর্ণের অলংকারের যাকাত নিয়ে অবহেলা করা উচিত নয়।
- নবী صلى الله عليه وسلم সরাসরি প্রশ্ন করে যাকাতের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
- সতর্কবার্তা শুনে দ্রুত সাড়া দেওয়া ঈমানি আচরণের অংশ।
- সম্পদের সৌন্দর্যের চেয়ে আল্লাহর হক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
