১/৬৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬২ - রায়ের আগে সুন্নাহর অনুসরণ
(মোজার উপর) মাসেহ করার নিয়ম
মোজার উপরিভাগ মাসাহ: রায়ের আগে সুন্নাহর শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৬২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৬২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - يَعْنِي ابْنَ غِيَاثٍ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ لَوْ كَانَ الدِّينُ بِالرَّأْىِ لَكَانَ أَسْفَلُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ مِنْ أَعْلاَهُ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرِ خُفَّيْهِ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ধর্মের মাপকাঠি যদি রায়ের (মানুষের মনগড়া অভিমত ও বিবেক-বিবেচনার) উপর নির্ভরশীল হত, তাহলে মোজার উপরিভাগের চেয়ে নিচের (তলার) দিক মাসাহ্ করাই উত্তম হত। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর (পায়ের) মোজাদ্বয়ের উপরিভাগ মাসাহ্ করতে দেখেছি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ধর্ম যদি মানুষের রায় বা নিজের ভাবনার উপর হতো, তাহলে মোজার নিচের দিক মাসাহ করা বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারত। কিন্তু তিনি নিজে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে মোজার উপরিভাগে মাসাহ করতে দেখেছেন। তাই “মোজার উপরিভাগ মাসাহ” এবং “ধর্মে রায়ের বদলে সুন্নাহ” — এই দুই বিষয় এখানে একসাথে এসেছে। হাদিসটি শেখায়, ইবাদতের নিয়ম শুধু নিজের যুক্তি দিয়ে ঠিক করা যায় না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দেখা আমলই এখানে মূল নির্দেশনা। ওজুতে খুফের উপর মাসাহ করার ক্ষেত্রে এই বর্ণনা খুব সহজভাবে সুন্নাহ অনুসরণের দিকটি তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মীয় আমলে ব্যক্তিগত রায়ের চেয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাহকে আগে রাখতে হয়।
- মোজার উপরিভাগে মাসাহ করার আমল আলী (রাঃ) নিজে দেখেছেন।
- কোনো কাজ যুক্তিতে ভিন্ন মনে হলেও সুন্নাহ থাকলে সেটাই অনুসরণীয়।
- ওজুর বিধান শেখার ক্ষেত্রে সাহাবিদের বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ।
