৯/২১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬২২ - সবার পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর
অর্ধ সা‘ গম ফিতরা দেয়ার বর্ণনা
সাদাকাতুল ফিতর কার ওপর: ইবন আব্বাস রাঃ-এর শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৬২২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৬২২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حُمَيْدٌ أَخْبَرَنَا عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ خَطَبَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي آخِرِ رَمَضَانَ عَلَى مِنْبَرِ الْبَصْرَةِ فَقَالَ أَخْرِجُوا صَدَقَةَ صَوْمِكُمْ فَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَعْلَمُوا فَقَالَ مَنْ هَا هُنَا مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قُومُوا إِلَى إِخْوَانِكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ فَإِنَّهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ هَذِهِ الصَّدَقَةَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ أَوْ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ قَمْحٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوكٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ فَلَمَّا قَدِمَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - رَأَى رُخْصَ السِّعْرِ قَالَ قَدْ أَوْسَعَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَلَوْ جَعَلْتُمُوهُ صَاعًا مِنْ كُلِّ شَىْءٍ .قَالَ حُمَيْدٌ وَكَانَ الْحَسَنُ يَرَى صَدَقَةَ رَمَضَانَ عَلَى مَنْ صَامَ .
হাসান বাসরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) রমাযানের শেষভাগে বাসরাহতে মিম্বারে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, তোমরা তোমাদের সাওমের সদাক্বাহ প্রদান করো। লোকেরা হয়ত বিষয়টি অবগত ছিল না। তিনি বললেন, এখানে মাদীনাহবাসী কেউ আছে কি? তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে গিয়ে তাদেরকে এ বিষয়ে শিক্ষা দাও। কেননা তারা (ফিতরা সম্পর্কে) অজ্ঞ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিতরা নির্ধারণ করছেন মাথাপিছু এক সা’ খেজুর বা যব বা অর্ধ সা’ গম স্বাধীন কিংবা গোলাম, পুরুষ অথবা নারী, ছোট অথবা বড়- সকলের পক্ষ হতে।পরবর্তীতে ‘আলী (রাঃ) বাসরাহতে এসে জিনিসপত্রের দাম খুবই কম দেখে বললেন, আল্লাহ তোমাদেরকে প্রাচুর্য দান করেছেন। সুতরাং তোমরা প্রত্যেক বস্তু হতে এক সা‘ প্রদান করো (এটাই ভাল হয়)। হুমাইদ আত-তাবীল (রহঃ) বলেন, হাসান বাসরীর মতে, কেবল সাওম পালনকারীর উপর রমাযানের ফিতরা দেয়া ওয়াজিব।
১৬২২. নাসাযী (অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ২৫১৪), আহমাদ, দারাকুতনী।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন আব্বাস রাঃ রমজানের শেষভাগে বাসরায় মানুষকে সাওমের সদকা বা ফিতরা দিতে বলেন। তিনি দেখলেন, অনেকেই বিষয়টি জানে না। তাই মদিনাবাসীদের বলেন, তারা যেন ভাইদের কাছে গিয়ে শিক্ষা দেয়। হাদিসের মূল বক্তব্য হলো রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মাথাপিছু ফিতরা নির্ধারণ করেছেন। খেজুর বা যব এক সা, আর গম অর্ধ সা হিসেবে উল্লেখ আছে। স্বাধীন, গোলাম, পুরুষ, নারী, ছোট ও বড়—সবার পক্ষ থেকে এই সদকার কথা এসেছে। পরে আলী রাঃ জিনিসপত্রের দাম কম দেখে প্রত্যেক বস্তু থেকে এক সা দেওয়াকে ভালো বলেন। এখানে ফিতরা আদায়ের নিয়মের পাশাপাশি জ্ঞান শেখানোর দায়িত্বও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতরা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; পরিবার ও সমাজকে শেখানোও দরকার।
- হাদিসে ছোট-বড়, নারী-পুরুষসহ সবার পক্ষ থেকে ফিতরার কথা এসেছে।
- পরিস্থিতি বুঝে উত্তম পরিমাণ দেওয়ার প্রতি সাহাবীদের আগ্রহ দেখা যায়।
- যারা জানে, তাদের উচিত অজ্ঞ ভাইদের সহজ ভাষায় শেখানো।
