১১/৫২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৮৮৫ - রমল ও সাঈর প্রেক্ষিত শিক্ষা
তাওয়াফকালে দোয়া পাঠ করা
রমল ও সওয়ারিতে সাঈ নিয়ে ইবনু আব্বাসের ব্যাখ্যা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৮৮৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৮৮৫
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الْغَنَوِيُّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عَبَّاسٍ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ رَمَلَ بِالْبَيْتِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ . قَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا . قُلْتُ وَمَا صَدَقُوا وَمَا كَذَبُوا قَالَ صَدَقُوا قَدْ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ إِنَّ قُرَيْشًا قَالَتْ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ دَعُوا مُحَمَّدًا وَأَصْحَابَهُ حَتَّى يَمُوتُوا مَوْتَ النَّغَفِ . فَلَمَّا صَالَحُوهُ عَلَى أَنْ يَجِيئُوا مِنَ الْعَاِمِ الْمُقْبِلِ فَيُقِيمُوا بِمَكَّةَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَالْمُشْرِكُونَ مِنْ قِبَلِ قُعَيْقِعَانَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لأَصْحَابِهِ «ارْمُلُوا بِالْبَيْتِ ثَلاَثًا» . وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ .قُلْتُ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرِهِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ فَقَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا . قُلْتُ مَا صَدَقُوا وَمَا كَذَبُوا قَالَ صَدَقُوا قَدْ طَافَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرِهِ وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ كَانَ النَّاسُ لاَ يُدْفَعُونَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَلاَ يُصْرَفُونَ عَنْهُ فَطَافَ عَلَى بَعِيرٍ لِيَسْمَعُوا كَلاَمَهُ وَلِيَرَوْا مَكَانَهُ وَلاَ تَنَالَهُ أَيْدِيهِمْ .
আবুত তুফাইল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, আপনার সম্প্রদায়ের ধারণা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় দ্রুতপদে হেঁটেছেন এবং এরূপ করা সুন্নাত। তিনি বললেন, তাঁরা সত্য বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে। আমি বললাম, তাঁরা কি সত্যি বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘রমল’ করেছেন, এ কথা সত্য কিন্তু একে সুন্নাত বলা মিথ্যা।হুদায়বিয়ার সময় কুরাইশগণ মুসলিমদেরকে তিরস্কারস্বরূপ বলেছিলো যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তাঁর সাথীদের এভাবেই থাকতে দাও। এমনকি তাঁরা উট ও বকরীর মত মৃত্যুবরণ করে নিঃশেষ হবে। অতঃপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ্র (ﷺ) এর সাথে সন্ধি চুক্তি করলো, মুসলিমরা আগামী বছর এসে মক্কায় তিন দিন অবস্থান করবে। সুতরাং পরবর্তী বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন। মুশরিকরা ‘কুয়াইকিয়ান পাহাড়ের পাদদেশে সমবেত হলো (মুসলিমদের অবস্থান লক্ষ্য করতে)। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন যে, তাওয়াফের মধ্যে তিনবার রমল করো। সুতরাং তাঁরা তাই করলেন। এরূপ করা মূলত সুন্নাত নয়।আমি আবার বললাম, আপনার সম্প্রদায়ের ধারণা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উটে চড়েই সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন। আর এরূপ নাকি সুন্নাত। তিনি বললেন, তাঁরা সত্যও বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে। আমি বললাম, তাঁরা কি সত্যি বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উটে সওয়ারী হয়ে সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন, তাদের এ কথা সত্য। কিন্তু এটাকে সুন্নাত বলা মিথ্যা।প্রকৃত ব্যাপার হলো, তখন লোকদের অবস্থা এরূপ ছিলো যে, তাদেরকে রাসূলুল্লাহ্র (ﷺ) কাছ থেকে সরানো যেত না এবং তিনিও তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারতেন না। সুতরাং তিনি উটে আরোহী অবস্থায় তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন। যাতে প্রতিটি লোক তাঁর কথা শুনতে পায়, তাঁকে সরাসরি দেখতে পায় এবং তাদের হাত তাঁর শরীরে না লাগে।
[১৮৮৫]
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৮৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে ইবনু আব্বাস (রা.) দুটি বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমত, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় রমল করেছেন—এ কথা সত্য। কিন্তু এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, একে সাধারণভাবে সুন্নাত বলা মিথ্যা। তিনি কারণ হিসেবে হুদাইবিয়ার পরের ঘটনা উল্লেখ করেন। কুরাইশরা মুসলিমদের দুর্বল ভাবছিল। তাই রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের তিন চক্করে রমল করতে বলেন। দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাফা-মারওয়ার মাঝে উটে চড়ে সাঈ করেছেন—এ কথাও সত্য। কিন্তু ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, এটাকে সাধারণ সুন্নাত বলা ঠিক নয়। কারণ তখন মানুষ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ভিড় করত, তাই তিনি সওয়ারিতে ছিলেন, যাতে সবাই তাঁর কথা শুনতে ও তাঁকে দেখতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো কাজ নবী (صلى الله عليه وسلم) করেছেন—এ কথা সত্য হলেও তার কারণ বোঝা জরুরি।
- ইবনু আব্বাস (রা.) রমল ও সওয়ারিতে সাঈ বিষয়ে ভুল ধারণা আলাদা করেছেন।
- মানুষের ভিড়ের কারণে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সওয়ারিতে সাঈ করেছেন বলে বর্ণনায় এসেছে।
- হাদিস বুঝতে শুধু কাজ নয়, কাজের কারণও বিবেচনায় রাখা দরকার।
