১২/৪৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৭২ - আযল ও কেয়ামত পর্যন্ত জন্ম
আজল (স্ত্রী যৌনাঙ্গের বাইরে বীর্যপাত)
আযল ও কেয়ামত পর্যন্ত জন্মের তাকদীর
সুনানে আবূ দাউদ : ২১৭২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২১৭২
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ،قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَرَأَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْعَزْلِ، فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْىِ الْعَرَبِ فَاشْتَهَيْنَا النِّسَاءَ وَاشْتَدَّتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَأَحْبَبْنَا الْفِدَاءَ فَأَرَدْنَا أَنْ نَعْزِلَ ثُمَّ قُلْنَا نَعْزِلُ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ «مَا عَلَيْكُمْ أَنْ لاَ تَفْعَلُوا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ وَهِيَ كَائِنَةٌ».
ইবনু মুহায়রিয (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-কে দেখতে পেয়ে তাঁর কাছে গিয়ে বসি এবং তাঁকে ‘আযল’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সাথে বনু মুসতালিকের যুদ্ধাভিযানে বের হই। তখন আমাদের হাতে কিছু মহিলা বন্দী হয়। ঐ সময় আমরা স্ত্রীদের থেকে দূরে অবস্থান করায় নারী বন্দীদের প্রতি আমাদের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়।অতঃপর আমরা তাদেরকে অধিক মূল্যে বিক্রি করার ইচ্ছায় তাদের সাথে আযল করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা ভাবলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথেই আছেন। কাজেই তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস না করে আযল করা উচিত হবে না। সুতরাং আমরা এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমরা এরূপ না করলে কি ক্ষতি? কেননা কিয়ামত পর্যন্ত যারা সৃষ্টি হবে বলে নির্ধারিত তারা তো জন্মাবেই।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু মুহাইরীয বলেন, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী রাঃ-এর কাছে আযল সম্পর্কে জানতে চান। আবু সাঈদ রাঃ বনী মুসতালিকের অভিযানের একটি ঘটনা বলেন। তখন সাহাবীদের কাছে কিছু নারী বন্দি ছিল, তারা স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকায় আযল করতে চাইলেন এবং রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করলেন। নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, তোমরা তা না করলে কী ক্ষতি? এরপর তিনি মূল কথা বললেন—কেয়ামত পর্যন্ত যারা সৃষ্টি হবে বলে নির্ধারিত, তারা জন্মাবেই। এই হাদিসে আযল নিয়ে প্রশ্ন করার আদব, নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার গুরুত্ব এবং আল্লাহর তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস শেখানো হয়েছে। মানুষ কারণ অবলম্বন করলেও জন্মের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অস্পষ্ট দাম্পত্য বিষয়ে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞেস করা উচিত।
- আযল করলেও আল্লাহর নির্ধারিত জন্ম রোধ করা যায় না।
- সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে থাকা অবস্থায় অনুমতি ও জ্ঞানকে গুরুত্ব দিতেন।
- জীবন সৃষ্টি আল্লাহর তাকদীরের অধীন।
