১৩/১৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২১৪ - খাওলা রাঃ ও যিহারের কাফফারা

যিহার

খাওলা রাঃ-এর অভিযোগ ও যিহারের কাফফারা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২১৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، عَنْ خُوَيْلَةَ بِنْتِ مَالِكِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، قَالَتْ ظَاهَرَ مِنِّي زَوْجِي أَوْسُ بْنُ الصَّامِتِ فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَشْكُو إِلَيْهِ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُجَادِلُنِي فِيهِ وَيَقُولُ " اتَّقِي اللَّهَ فَإِنَّهُ ابْنُ عَمِّكِ " .فَمَا بَرِحْتُ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ ﴾ قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا ﴿ إِلَى الْفَرْضِ فَقَالَ «يُعْتِقُ رَقَبَةً» . قَالَتْ لاَ يَجِدُ قَالَ «فَيَصُومُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ» . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ شَيْخٌ كَبِيرٌ مَا بِهِ مِنْ صِيَامٍ . قَالَ " فَلْيُطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا " .قَالَتْ مَا عِنْدَهُ مِنْ شَىْءٍ يَتَصَدَّقُ بِهِ قَالَتْ فَأُتِيَ سَاعَتَئِذٍ بِعَرَقٍ مِنْ تَمْرٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنِّي أُعِينُهُ بِعَرَقٍ آخَرَ . قَالَ " قَدْ أَحْسَنْتِ اذْهَبِي فَأَطْعِمِي بِهَا عَنْهُ سِتِّينَ مِسْكِينًا وَارْجِعِي إِلَى ابْنِ عَمِّكِ " .قَالَ وَالْعَرَقُ سِتُّونَ صَاعًا قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي هَذَا إِنَّهَا كَفَّرَتْ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْتَأْمِرَهُ . وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا أَخُو عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ .

খুওয়াইলাহ বিনতু মালিক ইবনু সা’লাবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমার সাথে আমার স্বামী আওস ইবনুস সামিত (রাঃ) যিহার করলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে অভিযোগ করলাম। তিনি আমার স্বামীর পক্ষ হতে আমার সাথে বিতর্ক করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহকে ভয় করো, সে তো তোমার চাচার ছেলে। মহিলাটি বলেন, আমি সেখান থেকে চলে না আসতেই কোরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “নিশ্চয় আল্লাহ ঐ মহিলার কথা শুনতে পেয়েছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বিতর্ক করছে” (সূরা আল-মুজাদালাঃ ১) এখান থেকে কাফফারাহ পর্যন্ত অবতীর্ণ হলো।অতঃপর তিনি বললেনঃ সে একটি দাস মুক্ত করবে। মহিলাটি বলেন, তার সে সামর্থ্য নেই। তিনি বললেনঃ সে একাধারে দু’মাস সাওম পালন করবে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সে খুবই বৃদ্ধ, সাওম পালন করতে অক্ষম। তিনি বললেনঃ তবে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে। মহিলাটি বললেন, সদাক্বাহ করার মত পয়সা তার নেই।মহিলাটি বলেন, এ সময় সেখানে এক ঝুড়ি খুরমা আসলো। তখন আমি (মহিলা) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ পরিমাণ আর এক ঝুড়ি খুরমা দিয়ে আমি তাকে সহযোগিতা করবো। তিনি বললেনঃ তুমি ভালই বলেছো। তুমি এর দ্বারা তার পক্ষ হতে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও এবং তোমার চাচাতো ভাইয়ের কাছে ফিরে যাও। ইয়াহিয়া ইবনু আদাম বলেন, ষাট সা’তে এক ‘আরাক্ব হয়।

[২২১৪] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মহিলাটি তার স্বামীর নির্দেশ ছাড়াই তার পক্ষ হতে কাফফারাহ আদায় করেছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আওস (রাঃ) ছিলেন ‘উবাদাহ ইবনুল সামিত (রাঃ) এর ভাই।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২১৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খাওলা বিনত মালিক রাঃ-এর ঘটনা এসেছে। তাঁর স্বামী আওস ইবনু সামিত রাঃ তাঁর সাথে যিহার করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে অভিযোগ করেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে আল্লাহকে ভয় করতে বলেন এবং স্বামীর আত্মীয়তার বিষয় স্মরণ করান। তিনি সেখান থেকে যাওয়ার আগেই সূরা আল-মুজাদালার আয়াত নাজিল হয়, যেখানে তাঁর কথার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর যিহারের কাফফারা বলা হয়: দাস মুক্ত করা, তা না পারলে একাধারে দুই মাস সাওম, তা না পারলে ষাটজন মিসকিনকে আহার করানো। খাওলা রাঃ জানান, তাঁর স্বামী বৃদ্ধ এবং সাওম রাখতে অক্ষম, আর সদকার সামর্থ্যও নেই। পরে খেজুরের ব্যবস্থা হলে তিনি নিজেও সাহায্য করতে চান। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর কথা ভালো বলেন এবং স্বামীর পক্ষ থেকে মিসকিন খাওয়াতে বলেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অন্যায়ের কষ্ট আল্লাহর দরবারে অদেখা থাকে না।
  • যিহারের কাফফারায় সক্ষমতা অনুযায়ী ধাপ রয়েছে।
  • স্ত্রী স্বামীর পক্ষ থেকে সাহায্য করে কাফফারায় অংশ নিতে পারে—এই বর্ণনায় তা এসেছে।
  • দাম্পত্য সমস্যায় অভিযোগ ও সমাধান শালীনভাবে করা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন