১৩/২৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৪৫ - লি‘আনের বিধান ও দাম্পত্য বিচ্ছেদ

লি‘আন সম্পর্কে

লি‘আনের বিধান: গুরুতর দাম্পত্য অভিযোগের পথ

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২৪৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرَ بْنَ أَشْقَرَ الْعَجْلاَنِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ. فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ عَاصِمٌ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا. فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا. فَأَقْبَلَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ وَسَطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " قَدْ أُنْزِلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ قُرْآنٌ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا " . قَالَ سَهْلٌ فَتَلاَعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا فَرَغَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا . فَطَلَّقَهَا عُوَيْمِرٌ ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ النَّبِيُّ ﷺ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ تِلْكَ سُنَّةَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ.

ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

সাহল ইবনু সা’দ আস-সাঈদী (রাঃ) তাকে জানিয়েছেন যে, একদা ‘উয়াইমির ইবনু আশকার আল-আজলানী (রাঃ) ‘আসিম ইবনু ‘আদী (রাঃ) এর নিকট এসে বলেন, হে ‘আসিম! যদি কোন ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে পায়, এ বিষয়ে তোমার কি অভিমত? সে কি তাকে হত্যা করবে এবং তোমরা তাকে হত্যা করবে বা সে কী করবে? হে ‘আসিম! আমার এ বিষয়ে আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করুন। ‘আসিম (রাঃ) এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা খারাপ ও অশোভন মনে করলেন। রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে ‘আসিম (রাঃ) যা শুনলেন সেটা তার জন্য ভয়ানক মনে হলো।‘আসিম (রাঃ) তার বাড়ি ফিরে এলে ‘উয়াইমির এসে তাকে বলেন, হে ‘আসিম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কি বলেছেন? ‘আসিম বললেন, তুমি আমাকে খুব একটা ভালো কাজ দাওনি। আমি তোমার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অপছন্দ করেন। তখন ‘উয়াইমির (রাঃ) আল্লাহর শপথ করে বললেন, আমি এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস না করে ক্ষান্ত হবো না।এই বলে ‘উয়াইমির (রাঃ) উঠে সরাসরি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) নিকটে উপস্থিত হলেন। এ সময় তিনি চতুর্দিক থেকে লোকজন পরিবেষ্টিত ছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে পায় তবে সে কি তাকে হত্যা করবে? অতঃপর আপনারা তাকে হত্যা করবেন বা সে কী করবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার ও তোমার সঙ্গিনীর ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তাকে নিয়ে এসো!সাহল (রাঃ) বলেন, তারা আসলো এবং উভয়েই লি’আন করলো। তখন আমি অন্যান্য লোকদের সঙ্গে সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাছেই উপস্থিত ছিলাম। তারা লি’আন থেকে অবসর হলে ‘উয়াইমির (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরপর যদি আমি তাকে স্ত্রী হিসাবে রাখি তবে প্রমাণ হবে আমি মিথ্যা বলেছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দেয়ার আগেই তিনি তাকে তিন তালাক দিলেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, তখন থেকে লি’আনকারীদের জন্য এটাই বিধান হয়ে যায়।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৪৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উয়াইমির ইবনু আশকার আল-আজলানী একটি কঠিন দাম্পত্য প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, কেউ যদি নিজ স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে পায়, তবে সে কী করবে। বিষয়টি প্রথমে আসিম ইবনু আদীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে যায়। পরে উয়াইমির নিজেই নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে প্রশ্ন করেন। নবী صلى الله عليه وسلم জানান, তার ও তার স্ত্রীর ব্যাপারে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং স্ত্রীকে নিয়ে আসতে বলেন। এরপর তারা দুজন লি‘আন করেন। লি‘আন শেষে উয়াইমির বলেন, স্ত্রীকে রাখলে যেন তিনি মিথ্যা বলেছেন—এই কারণে তিনি তাকে তিন তালাক দেন। এই হাদিসে “লি‘আনের বিধান”, “স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ” এবং “দাম্পত্য বিচ্ছেদ” বিষয়গুলো স্পষ্ট। এটি শেখায়, গুরুতর অভিযোগে নিজ হাতে শাস্তি নয়; শরিয়তের নিয়মে ফয়সালা করতে হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে নিজে শাস্তি দেওয়া নয়, শরিয়তের পথে যেতে হয়।
  • লি‘আন দাম্পত্য অভিযোগের একটি নির্দিষ্ট ইসলামী পদ্ধতি।
  • নবী صلى الله عليه وسلم মানুষের কঠিন পারিবারিক সমস্যার সমাধান ওহীর আলোকে করেছেন।
  • লি‘আনের পর দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন