১৩/৩০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৬৪ - ব্যভিচারের সন্তান ও উত্তরাধিকার
জারজ সন্তানের মালিকানা দাবি প্রসঙ্গে
ব্যভিচারের সন্তান ও উত্তরাধিকার বিধান
সুনানে আবূ দাউদ : ২২৬৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২৬৪
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ سَلْمٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي الذَّيَّالِ - حَدَّثَنِي بَعْضُ، أَصْحَابِنَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ مُسَاعَاةَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْ سَاعَى فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَدْ لَحِقَ بِعَصَبَتِهِ وَمَنِ ادَّعَى وَلَدًا مِنْ غَيْرِ رِشْدَةٍ فَلاَ يَرِثُ وَلاَ يُورَثُ " .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে ব্যভিচারের সুযোগ নাই। যারা জাহিলিয়াতের যুগে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে এবং এর ফলে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, ঐ সন্তান যেনাকারীর সাথে সম্পৃক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি যেনার সন্তানকে নিজের সন্তান বলে দাবী করবে, সে তার ওয়ারিস হবে না এবং উক্ত সন্তানও তার ওয়ারিস হবে না।
[২২৬৪] আহমাদ, বায়হাক্বী, হাকিম। আহমাদ শাকির বলেন : এর সানাদ দুর্বল। সাঈদ ইবনু জুবাইর সূত্রে বর্ণনাকারী সন্দেহভাজন হওয়ার কারণে। ইমাম হাকিম বলেন : বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। কিন্তু ইমাম যাহাবী বলেন : আমি বলি, সম্ভবত হাদীসটি মাওযু (বানোয়াট), কেননা ইবনু খুসাইফকে হাদীস বিশারদগণ বর্জন করেছেন। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি মু’তামার থেকে বর্ণনা করেছেন হাকিম বর্ণিত সানাদে। শায়খ আলবানী বলেন : সানাদে সাল্ম ও সাঈদের মাঝখানের শায়খের জাহালাতের কারণে এর সানাদ দুর্বল। এটিকেই ইঙ্গিত করেছেন আল্লামা মুনযিরী। তিনি বলেন : এর সানাদে একজন অজ্ঞাত লোক রয়েছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ইসলামে ব্যভিচারের সুযোগ নেই। জাহিলিয়াতের যুগে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এবং তার ফলে সন্তান জন্মেছিল, সেই সন্তান যেনাকারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে—এ কথা বর্ণনায় এসেছে। এরপর বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি যেনার সন্তানকে নিজের সন্তান বলে দাবি করবে, সে ওই সন্তানের ওয়ারিস হবে না এবং সন্তানও তার ওয়ারিস হবে না। এখানে মূল বিষয় হলো ইসলামে বংশ ও উত্তরাধিকারকে শরিয়তের নির্দিষ্ট নিয়মে রাখা। অবৈধ সম্পর্কের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার দাবি করা যাবে না। হাদিসটি পরিবার, সন্তান ও সম্পদের অধিকার বিষয়ে মানুষের দাবি যেন সত্য ও বৈধ পথে হয়—সে শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলাম ব্যভিচারকে বৈধ সম্পর্কের বিকল্প মনে করে না।
- সন্তান দাবি ও উত্তরাধিকার শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী হয়।
- অবৈধ সম্পর্কের ভিত্তিতে ওয়ারিস দাবি করা যায় না।
- বংশ ও সম্পদের বিষয়ে সত্যতা রক্ষা জরুরি।
