১৪/৫৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৪২৮ - নফল সাওমে শরীরের হক
হারাম (সম্মানিত) মাসসমূহে সওম পালন সম্পর্কে
নফল সাওমে নিজেকে কষ্ট না দেওয়ার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৪২৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৪২৮
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْ مُجِيبَةَ الْبَاهِلِيَّةِ، عَنْ أَبِيهَا، أَوْ عَمِّهَا أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ انْطَلَقَ فَأَتَاهُ بَعْدَ سَنَةٍ وَقَدْ تَغَيَّرَتْ حَالَتُهُ وَهَيْئَتُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا تَعْرِفُنِي قَالَ " وَمَنْ أَنْتَ " . قَالَ أَنَا الْبَاهِلِيُّ الَّذِي جِئْتُكَ عَامَ الأَوَّلِ . قَالَ " فَمَا غَيَّرَكَ وَقَدْ كُنْتَ حَسَنَ الْهَيْئَةِ " . قَالَ مَا أَكَلْتُ طَعَامًا إِلاَّ بِلَيْلٍ مُنْذُ فَارَقْتُكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لِمَ عَذَّبْتَ نَفْسَكَ " . ثُمَّ قَالَ " صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ " . قَالَ زِدْنِي فَإِنَّ بِي قُوَّةً . قَالَ " صُمْ يَوْمَيْنِ " . قَالَ زِدْنِي . قَالَ " صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . قَالَ زِدْنِي . قَالَ " صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ " . وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ الثَّلاَثَةِ فَضَمَّهَا ثُمَّ أَرْسَلَهَا .
বাহিলিয়্যাহ গোত্রীয় ‘মুজীবা’ নাম্নী নামক জনৈক মহিলা হতে তার পিতা অথবা চাচা হতে বর্ণিতঃ
একদা তিনি (পিতা অথবা চাচা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে দেখা করে চলে যান। অতঃপর এক বছর পরে তিনি আসেন। তখন তাঁর মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটেছিলো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি কি আমাকে চিনতে পারেননি? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কে? তিনি বললেন, আমি ঐ বাহিলী, আমি গত বছর এসেছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি কারণে তোমার এরূপ পরিবর্তন ঘটলো, অথচ তুমি তো সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলে? আমি বললাম, আমি আপনার নিকট থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে রাত ছাড়া আহার করিনি (দিনে অনবরত সাওম রেখেছি)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার নাফসকে কেন এরূপ কষ্ট দিয়েছো? অতঃপর তিনি বলেনঃ ধৈর্যের মাস (রমাযান) এবং প্রতি মাসে একটি করে সাওম রাখো। তিনি বললেন, আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন, কেননা আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেনঃ দুদিন সাওম রাখো। লোকটি বললেন, আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ (প্রতি মাসে) তিন দিন সাওম রাখো। লোকটি বললেন, আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি হারাম মাসগুলোতে সাওম রাখো এবং সাওম বর্জনও করো। তুমি হারাম মাসগুলোতে সাওম রাখো এবং সাওম বর্জনও করো। তুমি হারাম মাসগুলোতে সাওম রাখো এবং সাওম বর্জনও করো। একথা বলে তিনি তিনটি আঙ্গুল একত্র করার পর ফাঁক করে দিলেন।
[২৪২৮]
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৪২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নফল সাওমের ক্ষেত্রে শরীরের হক ও সামর্থ্যের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে এসেছে। এক ব্যক্তি এক বছর পরে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে ফিরে এলেন, কিন্তু তার স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তিনি জানান, নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছ থেকে যাওয়ার পর থেকে তিনি দিনে খাবার খাননি, শুধু রাতে খেয়েছেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তুমি তোমার নফসকে কেন কষ্ট দিলে? এরপর তিনি ধৈর্যের মাস অর্থাৎ রমজান এবং প্রতি মাসে একটি সাওম রাখার কথা বলেন। লোকটি সামর্থ্যের কথা বললে দুই দিন, তারপর তিন দিনের কথা বলা হয়। পরে হারাম মাসগুলোতে সাওম রাখা এবং আবার বিরত থাকার নির্দেশ তিনবার আসে। এই হাদিস নফল রোজায় ভারসাম্য, শরীরের যত্ন এবং ধাপে ধাপে আমলের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল সাওমের নামে নিজের শরীরকে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।
- রমজান ও প্রতি মাসে কিছু সাওম নিয়মিত আমলের পথ হিসেবে এসেছে।
- সামর্থ্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে নফল সাওম বাড়ানো যেতে পারে।
- হারাম মাসগুলোতে সাওম রাখার পাশাপাশি বিরত থাকার কথাও এসেছে।
