১৪/৭৮. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৪৬৪ - ইতিকাফের স্থান ও নিয়তের সতর্কতা

ইতিকাফ

ইতিকাফের স্থান, তাঁবু ও আমলের উদ্দেশ্য

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৪৬৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَيَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الْفَجْرَ ثُمَّ دَخَلَ مُعْتَكَفَهُ . قَالَتْ وَإِنَّهُ أَرَادَ مَرَّةً أَنْ يَعْتَكِفَ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ . قَالَتْ فَأَمَرَ بِبِنَائِهِ فَضُرِبَ فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ أَمَرْتُ بِبِنَائِي فَضُرِبَ . قَالَتْ وَأَمَرَ غَيْرِي مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ ﷺ بِبِنَائِهِ فَضُرِبَ فَلَمَّا صَلَّى الْفَجْرَ نَظَرَ إِلَى الأَبْنِيَةِ فَقَالَ «مَا هَذِهِ آلْبِرَّ تُرِدْنَ» . قَالَتْ فَأَمَرَ بِبِنَائِهِ فَقُوِّضَ وَأَمَرَ أَزْوَاجُهُ بِأَبْنِيَتِهِنَّ فَقُوِّضَتْ ثُمَّ أَخَّرَ الاِعْتِكَافَ إِلَى الْعَشْرِ الأُوَلِ يَعْنِي مِنْ شَوَّالٍ .قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ إِسْحَاقَ وَالأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ نَحْوَهُ وَرَوَاهُ مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ مِنْ شَوَّالٍ .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতিকাফের ইচ্ছা করলে ফজরের সালাত আদায়ের পর তাঁর ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। তিনি বলেন, একবার তিনি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের ইচ্ছা করলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তা খাটানো হয়। এরপর তা দেখে আমিও আমার জন্য একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তা খাটানো হয়। তিনি বলেন, আমি ছাড়া নবী (ﷺ) অন্যান্য স্ত্রীরাও অনুরূপ তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তাঁদের জন্যও তা খাটানো হয়।অতঃপর তিনি (ﷺ) ফজর সালাতের পর তাঁবুগুলোর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ এগুলো কি? এটা এমন কি ভালো কাজ যা তোমরা করতে চাইছো? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি নির্দেশ দিলে তাঁর তাঁবু ভেঙ্গে ফেলা হলো। স্ত্রীগণও নির্দেশ দিলে তাঁদের তাঁবুগুলোও ভেঙ্গে ফেলা হলো। অতঃপর তিনি শাওয়াল মাসের প্রথম দশক পর্যন্ত ইতিকাফ পিছিয়ে দেন।

ইমাম আবু দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ইবনু ইসহাক্ব ও আল-আওযাঈ (রহঃ) ইয়াহিয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম মালিক (রহঃ) ইয়াহিয়া ইবনু সাঈদ সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, নবী (ﷺ) শাওয়াল মাসে বিশ দিন ইতিকাফ করেছেন।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৪৬৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইতিকাফের সময়, স্থান এবং আমলের উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ইতিকাফ করতে চাইলে ফজরের সালাতের পর ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। একবার রমজানের শেষ দশকে তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হলো। পরে আয়িশা (রাঃ) ও অন্য স্ত্রীগণও নিজেদের জন্য তাঁবু খাটালেন। ফজরের পর নবী صلى الله عليه وسلم তাঁবুগুলো দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “এগুলো কি? এটা এমন কি ভালো কাজ যা তোমরা করতে চাইছো?” এরপর তাঁবু সরিয়ে দেওয়া হলো এবং ইতিকাফ শাওয়ালের প্রথম দশক পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হলো। হাদিসের আলোকে “ইতিকাফের তাঁবু”, “ইতিকাফের স্থান” এবং “ইতিকাফের নিয়ত” বিষয়গুলো প্রধান। এখানে আমলের বাহ্যিক আয়োজনের সঙ্গে অন্তরের সতর্কতার শিক্ষা দেখা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم ফজরের সালাতের পর ইতিকাফস্থলে প্রবেশ করতেন।
  • ইতিকাফের আয়োজন করলেও উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতার দিকে খেয়াল রাখা দরকার।
  • নবী صلى الله عليه وسلم পরিস্থিতি দেখে ইতিকাফ পিছিয়ে দিয়েছেন।
  • হাদিসে বর্ণিত ভিন্ন বর্ণনার কথা সতর্কভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন