১৫/১৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫০১ - আল্লাহর পথে পাহারার ফজিলত

মহান আল্লাহর পথে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রহরা দেয়ার ফজিলত

আল্লাহর পথে পাহারার ফজিলত ও দায়িত্ববোধ

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫০১

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي السَّلُولِيُّ أَبُو كَبْشَةَ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ سَهْلُ ابْنُ الْحَنْظَلِيَّةِ، أَنَّهُمْ سَارُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَأَطْنَبُوا السَّيْرَ حَتَّى كَانَتْ عَشِيَّةً، فَحَضَرْتُ الصَّلاَةَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَجَاءَ رَجُلٌ فَارِسٌ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي انْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ حَتَّى طَلَعْتُ جَبَلَ كَذَا وَكَذَا فَإِذَا أَنَا بِهَوَازِنَ عَلَى بَكْرَةِ آبَائِهِمْ بِظُعُنِهِمْ وَنَعَمِهِمْ وَشَائِهِمُ اجْتَمَعُوا إِلَى حُنَيْنٍ . فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَقَالَ : " تِلْكَ غَنِيمَةُ الْمُسْلِمِينَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . ثُمَّ قَالَ : " مَنْ يَحْرُسُنَا اللَّيْلَةَ " . قَالَ أَنَسُ بْنُ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيُّ : أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ : «فَارْكَبْ» . فَرَكِبَ فَرَسًا لَهُ فَجَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : " اسْتَقْبِلْ هَذَا الشِّعْبَ حَتَّى تَكُونَ فِي أَعْلاَهُ وَلاَ نُغَرَّنَّ مِنْ قِبَلِكَ اللَّيْلَةَ " . فَلَمَّا أَصْبَحْنَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَى مُصَلاَّهُ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ : «هَلْ أَحْسَسْتُمْ فَارِسَكُمْ» . قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَحْسَسْنَاهُ . فَثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي وَهُوَ يَلْتَفِتُ إِلَى الشِّعْبِ حَتَّى إِذَا قَضَى صَلاَتَهُ وَسَلَّمَ قَالَ : «أَبْشِرُوا فَقَدْ جَاءَكُمْ فَارِسُكُمْ» .فَجَعَلْنَا نَنْظُرُ إِلَى خِلاَلِ الشَّجَرِ فِي الشِّعْبِ فَإِذَا هُوَ قَدْ جَاءَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَسَلَّمَ فَقَالَ : إِنِّي انْطَلَقْتُ حَتَّى كُنْتُ فِي أَعْلَى هَذَا الشِّعْبِ حَيْثُ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا أَصْبَحْتُ اطَّلَعْتُ الشِّعْبَيْنِ كِلَيْهِمَا فَنَظَرْتُ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : " هَلْ نَزَلْتَ اللَّيْلَةَ " . قَالَ : لاَ إِلاَّ مُصَلِّيًا أَوْ قَاضِيًا حَاجَةً . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «قَدْ أَوْجَبْتَ فَلاَ عَلَيْكَ أَنْ لاَ تَعْمَلَ بَعْدَهَا» .

সাহল ইবনুল হানযালিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তারা (সাহাবীগণ) রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সঙ্গে হুনাইনের যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সফরে বের হন। রাত আসা পর্যন্ত তার একে অপরের অনুসরণ করে চলতে থাকেন। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাতের সময় উপস্থিত হওয়ার কথা জানানো হলো। এমন সময় একজন অশ্বারোহী এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাদের কাছে থেকে পৃথক হয়ে অমুক অমুক পাহাড়ে উঠে দেখতে পেলাম যে, হাওয়াযিন গোত্রের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই তাদের উট, বকরী সবকিছু নিয়ে হুনাইনে একত্র করেছে, একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে বললেনঃ ইনশাআল্লাহ আগামীকাল এসব কিছুই মুসলিমদের গনীমাতের বস্তু হবে।অতঃপর তিনি বললেনঃ আজ রাতে কে আমাদের পাহারা দিবে? আনাস ইবনু আবূ মারসাদ আল-গানাবী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি। তিনি বললেনঃ তাহলে ঘোড়ায় চড়ো। তিনি তার একটি ঘোড়ায় চড়ে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি এ গিরিপথের দিকে খেয়াল করবে এবং এর শেষ চূড়ায় গিয়ে পাহারা দিবে। সাবধান! আমরা যেন তোমার অসতর্কতার কারণে ধোঁকায় না পড়ি।অতঃপর ভোর হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের জন্য বেরিয়ে এসে দু’ রাক’আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করে বললেনঃ তোমাদের অশ্বারোহীর কি খবর? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার কোন খবর অবহিত নই। অতঃপর সালাতের ইক্বামাত দেয়া হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত পড়ালেন এবং গিরিপথের দিকে তাকাতে থাকলেন। সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে তিনি বললেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, তোমাদের অশ্বারোহী এসে গেছে।সাহাবীগণ বললেন, আমরা গাছের ফাঁক দিয়ে গিরিপথের দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি আসতেছেন। এমনকি তিনি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সামনে এসে তাঁকে সালাম দিয়ে বললো, আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) নির্দেশ অনুযায়ী গিরিপথের শেষ প্রান্তে গিয়েছি এবং ভোর বেলায় উভয় পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছি, কিন্তু কোন (শত্রুকেই) দেখতে পাইনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি কি রাতে ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমেছিলে? তিনি বললেন, সালাত ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া নামিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি তোমার জন্য (জান্নাত) অবধারিত করেছো, এরপর তোমার কোন (অতিরিক্ত) নেক কাজ না করলেও চলবে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫০১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হুনাইনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে সফরে ছিলেন। শত্রুপক্ষ হাওয়াজিনের অবস্থার খবর এলে রাসূল صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের প্রস্তুত রাখলেন এবং রাতের পাহারার জন্য লোক চাইলেন। আনাস ইবন আবু মারসাদ আল-গানাবী (রাঃ) দায়িত্ব নিলেন। তিনি নির্দেশ অনুযায়ী গিরিপথের শেষ চূড়ায় গিয়ে রাতভর পাহারা দিলেন। সালাত ও প্রয়োজন ছাড়া ঘোড়া থেকে নামেননি। সকালে ফিরে এসে জানালেন, কোনো শত্রু দেখা যায়নি। রাসূল صلى الله عليه وسلم তাঁর এই সতর্কতা, আনুগত্য ও কষ্ট সহ্য করার জন্য বড় সুসংবাদ দিলেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর পথে পাহারা শুধু বাহ্যিক কাজ নয়; এটি আমানত, সতর্কতা, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের পরিচয়। যুদ্ধের ময়দানে দায়িত্ব পালন, মুসলিমদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং নেতার নির্দেশ মানা—এসব বিষয় এই হাদিসে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দায়িত্ব নিলে তা সতর্কতার সঙ্গে পালন করা মুমিনের গুণ।
  • সালাত ও প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যেও দায়িত্বের ব্যাপারে অবহেলা করা উচিত নয়।
  • আল্লাহর পথে পাহারা দেওয়া বড় ফজিলতের কাজ।
  • নেতার সঠিক নির্দেশ মানা দলীয় নিরাপত্তার অংশ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন