১৫/২৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫২৪ - বেশি আমলের মর্যাদা
শহীদের কবরে নূর দৃষ্টিগোচর হওয়া
সালাত, সাওম ও আমলের বাড়তি মর্যাদা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৫২৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫২৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رُبَيِّعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ خَالِدٍ السُّلَمِيِّ، قَالَ : آخَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَيْنَ رَجُلَيْنِ فَقُتِلَ أَحَدُهُمَا وَمَاتَ الآخَرُ بَعْدَهُ بِجُمُعَةٍ أَوْ نَحْوِهَا، فَصَلَّيْنَا عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «مَا قُلْتُمْ» . فَقُلْنَا : دَعَوْنَا لَهُ، وَقُلْنَا : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَأَلْحِقْهُ بِصَاحِبِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «فَأَيْنَ صَلاَتُهُ بَعْدَ صَلاَتِهِ وَصَوْمُهُ بَعْدَ صَوْمِهِ» . شَكَّ شُعْبَةُ فِي صَوْمِهِ : «وَعَمَلُهُ بَعْدَ عَمَلِهِ إِنَّ بَيْنَهُمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ».
‘উবাইদ ইবনু খালিদ আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুই ব্যক্তির মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। তাদের একজন (যুদ্ধে) নিহত হন এবং অন্যজন তার পরে কোন এক জুম’আর দিন কিংবা তার কাছাকাছি কোন দিনে মারা যান। আমরা তার জানাযা আদায় করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা (দ্বিতীয় ব্যক্তির জন্য) কি দোয়া করেছো? আমরা বললাম, আমরা তার জন্য দোয়া করেছি এবং বলেছি, “হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা করুন এবং তাকে তার সঙ্গীর সাথে মিলিত করুন”।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে প্রথম ব্যক্তির সালাতের পর দ্বিতীয় ব্যক্তির সালাত, প্রথম ব্যক্তির সাওমের পর দ্বিতীয় ব্যক্তির সাওম ও অন্যান্য আমল কোথায় যাবে? এ দুই ব্যক্তির (মর্যাদার) মধ্যে আসমান-যমীনের ব্যবধান। উল্লেখ্য, এতে সাওমের কথা উল্লেখ হয়েছিল কিনা এ বিষয়ে বর্ণনাকারী শু’বাহ সন্দিহান।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুই ভাইসদৃশ ব্যক্তির ঘটনা এসেছে। তাদের একজন যুদ্ধে নিহত হন। অন্যজন পরে মারা যান। সাহাবিরা দ্বিতীয় ব্যক্তির জন্য দোয়া করে বলেন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তার সঙ্গীর সাথে মিলিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাদের মনে করিয়ে দেন, প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি যে সালাত আদায় করেছে, যে সাওম রেখেছে এবং যে আমল করেছে—সেগুলোর হিসাব কোথায় যাবে? বর্ণনাকারী শু‘বাহ সাওমের উল্লেখ নিয়ে সন্দেহ করেছেন, তাই এ কথা সতর্কভাবে বলা উচিত। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, জীবন যতদিন থাকে, নেক আমলের সুযোগ থাকে। “সালাতের ফজিলত”, “সাওমের মর্যাদা” এবং “নেক আমলের মূল্য” এখানে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। তাই শুধু আগে মৃত্যু বা পরে মৃত্যু নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া সময়কে আমলের সুযোগ হিসেবে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবন বাড়লে নেক আমলের সুযোগও বাড়ে।
- সালাত ও অন্যান্য আমল বান্দার মর্যাদা বাড়ানোর কারণ হতে পারে।
- কাউকে মর্যাদায় কারও সমান ধরে নেওয়ার আগে তার আমলও ভাবা দরকার।
- হাদিসে সন্দেহযুক্ত অংশ থাকলে তা সতর্কভাবে উল্লেখ করা উচিত।
