১৫/৩৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫৩০ - জিহাদের আগে পিতা-মাতার অনুমতি
পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদে যোগদান প্রসঙ্গে
জিহাদের আগে পিতা-মাতার অনুমতির শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৫৩০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫৩০
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، : أَنَّ رَجُلاً، هَاجَرَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مِنَ الْيَمَنِ، فَقَالَ: «هَلْ لَكَ أَحَدٌ بِالْيَمَنِ». قَالَ: أَبَوَاىَ. قَالَ: «أَذِنَا لَكَ». قَالَ: لاَ. قَالَ: «ارْجِعْ إِلَيْهِمَا فَاسْتَأْذِنْهُمَا، فَإِنْ أَذِنَا لَكَ فَجَاهِدْ، وَإِلاَّ فَبِرَّهُمَا " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি ইয়ামান থেকে হিজরত করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ইয়ামানে তোমার কেউ আছেন কি? জবাবে সে বলল, আমার মাতা-পিতা আছেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ তারা তোমাকে জিহাদের অনুমতি দিয়েছেন কিনা? সে বলল, না। তিনি বলেনঃ তবে তুমি ফিরে গিয়ে তাদের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করো। তারা তোমাকে অনুমতি দিলে জিহাদে অংশগ্রহণ করবে, অন্যথায় তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি ইয়ামান থেকে হিজরত করে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে জিজ্ঞেস করেন, ইয়ামানে তার কেউ আছে কি না। সে বলে, তার পিতা-মাতা আছেন। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কি তাকে জিহাদের অনুমতি দিয়েছেন? সে না বললে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তাদের কাছে ফিরে গিয়ে অনুমতি চাও। তারা অনুমতি দিলে জিহাদ করবে, আর অনুমতি না দিলে তাদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো “পিতা-মাতার অনুমতি”। “জিহাদের আগে অনুমতি”, “মা-বাবার সেবা” এবং “পিতা-মাতার হক” এই হাদিসে খুব পরিষ্কার। হাদিসটি দেখায়, নেক কাজের মাঝেও নিজের ঘরের দায়িত্ব ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। পিতা-মাতার অনুমতি ও তাদের সেবা—দুটিই এখানে গুরুত্ব পেয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিহাদে যাওয়ার আগে পিতা-মাতার অবস্থা ও অনুমতি বিবেচনা করতে হয়।
- পিতা-মাতা অনুমতি না দিলে তাদের সেবায় থাকা এই বর্ণনায় নির্দেশিত।
- নিজ পরিবারের হক আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- সদাচরণকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم গুরুত্ব দিয়েছেন।
