১৬/১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮২১ - যবেহের নিয়ম ও হালাল গোশত
চকমকি পাথর দ্বারা যবেহ করা
যবেহের নিয়ম: আল্লাহর নাম ও রক্ত প্রবাহ
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮২১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮২১
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَلْقَى الْعَدُوَّ غَدًا وَلَيْسَ مَعَنَا مُدًى أَفَنَذْبَحُ بِالْمَرْوَةِ وَشِقَّةِ الْعَصَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَرِنْ أَوْ أَعْجِلْ مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَكُلُوا مَا لَمْ يَكُنْ سِنًّا أَوْ ظُفْرًا وَسَأُحَدِّثُكُمْ عَنْ ذَلِكَ أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ وَأَمَّا الظُّفْرُ فَمُدَى الْحَبَشَةِ " . وَتَقَدَّمَ بِهِ سَرَعَانٌ مِنَ النَّاسِ فَتَعَجَّلُوا فَأَصَابُوا مِنَ الْغَنَائِمِ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي آخِرِ النَّاسِ فَنَصَبُوا قُدُورًا فَمَرَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِالْقُدُورِ فَأَمَرَ بِهَا فَأُكْفِئَتْ وَقَسَمَ بَيْنَهُمْ فَعَدَلَ بَعِيرًا بِعَشْرِ شِيَاهٍ وَنَدَّ بَعِيرٌ مِنْ إِبِلِ الْقَوْمِ وَلَمْ يَكُنْ مَعَهُمْ خَيْلٌ فَرَمَاهُ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَحَبَسَهُ اللَّهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ لِهَذِهِ الْبَهَائِمِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَمَا فَعَلَ مِنْهَا هَذَا فَافْعَلُوا بِهِ مِثْلَ هَذَا " .
রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কাছে এসে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আগামীকাল সকালে শত্রুর মোকাবিলা করবো। কিন্তু আমাদের কাছে ছুরি নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এমন বস্তু দ্বারা দ্রুত যাবাহ করো যা দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়, আল্লাহর নাম নিয়ে যাবাহ করো এবং তা খাও, কিন্তু দাঁত অথবা নখ দিয়ে যাবাহ করো না। আমি এর কারণ তোমাদের বলছি। দাঁত হচ্ছে হাড় আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি।সৈন্যদলের কিছু লোক সামনে অগ্রসর হয়ে কিছু গনীমাত লাভ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পিছনের দিকে ছিলেন। তারা গোশতের হাড়ি চুলায় বসালো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ডেগের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর নির্দেশ মোতাবেক গোশতের হাঁড়িগুলো উপুর করে ফেলে দেয়া হলো। তিনি তাদের মধ্যে গনীমাত বণ্টন করলেন এবং একটি উটকে দশটি বকরীর সমান ধরলেন।দলের মধ্যকার একটি উট পালিয়ে যায়। তখন তাদের নিকট ঘোড়া ছিলো না। এক লোক (উটকে লক্ষ্য করে) তীর ছুঁড়লে মহান আল্লাহ উটটিকে থামিয়ে দেন। নবী (ﷺ) বললেন, এরূপ পশুর মধ্যেও পালাতে তৎপর পশু আছে, বা বন্য পশুর মধ্যেও থাকে। সুতরাং (যে পশু পালাবে) তোমরা সেটির সাথে এরূপ আচরণ (তীর নিক্ষেপ) করবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যবেহের মূল নিয়ম খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। সাহাবী প্রশ্ন করেছিলেন, শত্রুর মোকাবিলার সময় ছুরি না থাকলে কী করা যাবে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, যে জিনিস দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তা দিয়ে যবেহ করা হলে খাওয়া যায়। তবে দাঁত ও নখ দিয়ে যবেহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ দাঁত হাড়, আর নখকে হাবশিদের ছুরি বলা হয়েছে। একই হাদিসে গনিমত নিয়ে তাড়াহুড়া না করার শিক্ষা আছে। কিছু লোক গনিমতের গোশত রান্না শুরু করলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তা উল্টে দিতে বলেন, এরপর ন্যায্যভাবে বণ্টন করেন। পালানো উটের ঘটনাও দেখায়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া পশুর ক্ষেত্রে প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যবেহের সময় আল্লাহর নাম নেওয়া এবং রক্ত প্রবাহিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- দাঁত ও নখ দিয়ে যবেহ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- গনিমত বা যৌথ সম্পদ বণ্টনের আগে নিজে থেকে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
- পালানো পশু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উপায় নেওয়ার অনুমতি আছে।
