২০/৩৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩০৬৩ - লিখিত ফরমান ও জমির অধিকার
কাউকে জায়গীর হিসাবে জমি দেয়া
লিখিত ফরমানের মাধ্যমে জমির অধিকার
সুনানে আবূ দাউদ : ৩০৬৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩০৬৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النَّضْرِ، قَالَ سَمِعْتُ الْحُنَيْنِيَّ، قَالَ قَرَأْتُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ يَعْنِي كِتَابَ قَطِيعَةِ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا أَبُو أُوَيْسٍ حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَقْطَعَ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ جَلْسِيَّهَا وَغَوْرِيَّهَا - قَالَ ابْنُ النَّضْرِ وَجَرْسَهَا وَذَاتَ النُّصُبِ ثُمَّ اتَّفَقَا - وَحَيْثُ يَصْلُحُ الزَّرْعُ مِنْ قُدْسٍ .وَلَمْ يُعْطِ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ حَقَّ مُسْلِمٍ وَكَتَبَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ «هَذَا مَا أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ أَعْطَاهُ مَعَادِنَ الْقَبَلِيَّةِ جَلْسَهَا وَغَوْرَهَا وَحَيْثُ يَصْلُحُ الزَّرْعُ مِنْ قُدْسٍ وَلَمْ يُعْطِهِ حَقَّ مُسْلِمٍ». قَالَ أَبُو أُوَيْسٍ حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مِثْلَهُ زَادَ ابْنُ النَّضْرِ وَكَتَبَ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ .
কাসীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মুযাইনাহ গোত্রের বিলাল ইবনুল হারিসকে ক্বাবালিয়ার উচ্চ ও নিম্ন ভূমির খনিসমূহ দান করেছিলেন। ইবনুন নাদর (রহঃ) বলেন, ক্বাবালিয়ার পার্শ্ববর্তী ভূমি এবং যাতুন-নুসুর এলাকাও দান করেন। অতঃপর উভয় বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন যে, এবং কুদস পাহাড়ের কৃষিভূমিও। তিনি বিলাল ইবনুল হারিসকে কোন মুসলিমের হক দান করেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ফরমান লিখে দেন : বিলাল ইবনুল হারিস আল-মুযানীকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ক্বাবালিয়ার উচ্চ ও নিম্ন ভূমির খনিসমূহ এবং এর সংলগ্ন কুদস পাহাড়ের কৃষিভূমি দান করেছেন। এতে আর কোন মুসলমানের হক রইলো না। তবে ইবনুন নাযরের বর্ণনায় রয়েছে : নবী (ﷺ)–এর দানের ফরমানটি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) লিখেছিলেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩০৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কাবালিয়ার খনি, সংলগ্ন ভূমি এবং কুদস পাহাড়ের কৃষিযোগ্য জমি বিলাল ইবনুল হারিস (রাঃ)-কে দেওয়ার বিষয় এসেছে। এখানে আগের বর্ণনার মতোই জোর দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো মুসলিমের হক তাকে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ জমি দান বা খনি বন্দোবস্ত করা হলেও তা অন্যের অধিকার কেটে নিয়ে করা হয়নি। এই হাদিসের আরেকটি দিক হলো লিখিত ফরমান। বর্ণনায় এসেছে, ফরমানটি উবাই ইবনু কাব (রাঃ) লিখেছিলেন। তাই সম্পদ, জমি ও অধিকার বিষয়ে স্পষ্ট নথি রাখা কতটা জরুরি—এ শিক্ষা পাওয়া যায়। হাদিসটি জমির অধিকার, মুসলিমের হক এবং ন্যায়পূর্ণ বণ্টন নিয়ে সহজ কিন্তু গভীর বার্তা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জমির অধিকার নির্ধারণে স্পষ্ট লিখিত দলিল গুরুত্বপূর্ণ।
- অন্য মুসলিমের হক ক্ষুণ্ণ করে কাউকে জমি দেওয়া হয়নি।
- সম্পদ বণ্টনে ন্যায় ও সীমারেখা রক্ষা করা দরকার।
- শাসক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি অধিকার নির্ধারণে সতর্ক থাকবেন।
