২১/২৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩১২৩ - শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা
মৃতের জন্য শোক প্রকাশ
শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা ও কবরের সীমা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩১২৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩১২৩
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ سَيْفٍ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَبَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ - يَعْنِي مَيِّتًا - فَلَمَّا فَرَغْنَا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَانْصَرَفْنَا مَعَهُ فَلَمَّا حَاذَى بَابَهُ وَقَفَ فَإِذَا نَحْنُ بِامْرَأَةٍ مُقْبِلَةٍ - قَالَ أَظُنُّهُ عَرَفَهَا - فَلَمَّا ذَهَبَتْ إِذَا هِيَ فَاطِمَةُ - عَلَيْهَا السَّلاَمُ - فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا أَخْرَجَكِ يَا فَاطِمَةُ مِنْ بَيْتِكِ " .فَقَالَتْ أَتَيْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَهْلَ هَذَا الْبَيْتِ فَرَحَّمْتُ إِلَيْهِمْ مَيِّتَهُمْ أَوْ عَزَّيْتُهُمْ بِهِ. فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " فَلَعَلَّكِ بَلَغْتِ مَعَهُمُ الْكُدَى " . قَالَتْ مَعَاذَ اللَّهِ وَقَدْ سَمِعْتُكَ تَذْكُرُ فِيهَا مَا تَذْكُرُ. قَالَ " لَوْ بَلَغْتِ مَعَهُمُ الْكُدَى " . فَذَكَرَ تَشْدِيدًا فِي ذَلِكَ فَسَأَلْتُ رَبِيعَةَ عَنِ الْكُدَى فَقَالَ الْقُبُورُ فِيمَا أَحْسِبُ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে আমরা একটি লাশ দাফন করলাম। আমরা অবসর হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন। আমরাও তাঁর সাথে ফিরে এলাম। তিনি ঘরের দরজার নিকট পৌছে থামলেন। আমরা এক মহিলার মুখোমুখি হলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ধারণা করলাম, তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাটিকে চিনতে পেরেছেন। মহিলাটি চলে যাওয়ার সময় দেখা গেলো, তিনি তো ফাত্বিমাহ (রাঃ)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেনঃ হে ফাত্বিমাহ! কোন জিনিস তোমাকে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করেছে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এসেছিলাম এ বাড়ির লোকদের সান্ত্বনা দিতে এবং ধৈর্য ধারণের নসিহত করতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেনঃ খুব সম্ভব তুমি তাদের সাথে কবর পর্যন্ত গিয়েছিলে। তিনি বললেন, আল্লাহর আশ্রয় চাই। নারীদের কবরস্থানে যাওয়ার বিষয়ে আমি আপনার আলোচনা শুনেছি। তিনি বললেনঃ যদি তুমি তাদের সাথে কবরস্থানে যেতে তাহলে আমি তোমাকে এই করতাম। তিনি এ বিষয়ে কঠোর বাণী উচ্চারণ করলেন। আমি (মুফাদ্দাল) রবী’আহকে ‘আল-কুদা’ শব্দের অর্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমার ধারণা, এর অর্থ কবর।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩১২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একটি লাশ দাফন শেষে ফিরছিলেন। পথে ফাতিমা (আঃ)-এর সঙ্গে দেখা হলে তিনি জানতে চান, কী কারণে তিনি ঘর থেকে বের হয়েছেন। ফাতিমা (আঃ) বলেন, তিনি মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে সান্ত্বনা দিতে এবং ধৈর্যের নসিহত করতে গিয়েছিলেন। এতে শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভালো দিকটি বোঝা যায়। তবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যখন জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি তাদের সঙ্গে কবর পর্যন্ত গিয়েছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর আশ্রয় চান এবং বলেন, এ বিষয়ে নবীজির কঠোর কথা তিনি শুনেছেন। তাই এই হাদিসে সান্ত্বনা দেওয়া এবং কবরস্থানে যাওয়ার সীমা—দুই বিষয়ই এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া ও ধৈর্যের কথা বলা ভালো কাজ।
- কবরস্থানে যাওয়ার বিষয়ে নবীজির সতর্কতা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।
- ধর্মীয় সীমা জানা থাকলে মানুষ নিজেকে ভুল কাজ থেকে বাঁচাতে পারে।
