২১/২৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩১২৫ - মৃত্যুতে রহমত ও ধৈর্য
মৃতের জন্য কান্নাকাটি করা
মৃত্যুর মুহূর্তে রহমত, অশ্রু ও ধৈর্য
সুনানে আবূ দাউদ : ৩১২৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩১২৫
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ ابْنَةً لِرَسُولِ اللَّهِ، ﷺ أَرْسَلَتْ إِلَيْهِ وَأَنَا مَعَهُ وَسَعْدٌ وَأَحْسِبُ أُبَيًّا أَنَّ ابْنِي أَوْ بِنْتِي قَدْ حُضِرَ فَاشْهَدْنَا. فَأَرْسَلَ يُقْرِئُ السَّلاَمَ فَقَالَ " قُلْ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَمَا أَعْطَى وَكُلُّ شَىْءٍ عِنْدَهُ إِلَى أَجَلٍ " .فَأَرْسَلَتْ تُقْسِمُ عَلَيْهِ فَأَتَاهَا فَوُضِعَ الصَّبِيُّ فِي حِجْرِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَنَفْسُهُ تَقَعْقَعُ فَفَاضَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ مَا هَذَا قَالَ " إِنَّهَا رَحْمَةٌ وَضَعَهَا اللَّهُ فِي قُلُوبِ مَنْ يَشَاءُ وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ " .
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা (যাইনাব (রাঃ)) তাঁর নিকট লোক পাঠালেন। তখন আমি ও সাদ (রাঃ) তাঁর সাথে ছিলাম। সম্ভবত উবাই (রাঃ) আমাদের সাথেই ছিলেন। তিনি বলে পাঠান, আমার একটি শিশু পুত্র বা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) কন্যা মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি তাঁকে লোক মারফত সালাম পাঠিয়ে বললেনঃ বলো, আল্লাহ যা গ্রহণ করেন এবং যা দান করেন তা সবই তাঁর। তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুর একটা নির্দিষ্ট সময়কাল আছে।তিনি পুনরায় কসম দিয়ে লোক পাঠালেন। তিনি সেখানে গেলেন। বাচ্চাটি রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোলে রাখা হলো। তখন তার প্রাণ ছটফট করছিল। এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। সা’দ (রাঃ) তাঁকে বললেন, এ কি? তিনি বললেনঃ এটাই হলো মায়া। আল্লাহ যাদেরকে চান তাদের অন্তরে এটি স্থাপন করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়াবানদের দয়া করেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩১২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কন্যা তাঁর কাছে খবর পাঠান যে, তাঁর একটি শিশু মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। নবীজি প্রথমে সালাম পাঠিয়ে বলেন, আল্লাহ যা গ্রহণ করেন এবং যা দান করেন, সবই তাঁর; প্রতিটি বস্তুর নির্দিষ্ট সময় আছে। পরে তিনি সেখানে যান। শিশুটিকে তাঁর কোলে রাখা হলে তার প্রাণ ছটফট করছিল। এ দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চোখে অশ্রু আসে। সাদ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি রহমত, যা আল্লাহ যাদের চান তাদের অন্তরে রাখেন। এই হাদিস শেখায়, দুঃখে চোখের পানি আসা নিষিদ্ধ নয়; তবে ধৈর্য, আল্লাহর মালিকানা ও নির্ধারিত সময়ের বিশ্বাস জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর হাতে—এই বিশ্বাস শোকের সময় মনে রাখা দরকার।
- চোখের অশ্রু দয়া ও মমতার প্রকাশ হতে পারে।
- দয়ালু মানুষের প্রতি আল্লাহর দয়ার আশা করা যায়।
- মৃত্যুর সময় পরিবারকে ধৈর্যের কথা স্মরণ করানো উচিত।
