২৭/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৬৭০ - মদ হারামের ধাপে ধাপে বিধান
মদ হারাম হওয়ার বর্ণনা
মদ হারাম হওয়ার ধাপে ধাপে বিধান
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৬৭০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৬৭০
حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الْخُتَّلِيُّ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ قَالَ عُمَرُ اللَّهُمَّ بَيِّنْ لَنَا فِي الْخَمْرِ بَيَانًا شِفَاءً فَنَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي فِي الْبَقَرَةِ ﴾يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ﴿ الآيَةَ قَالَ فَدُعِيَ عُمَرُ فَقُرِئَتْ عَلَيْهِ قَالَ اللَّهُمَّ بَيِّنْ لَنَا فِي الْخَمْرِ بَيَانًا شِفَاءً فَنَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي فِي النِّسَاءِ { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَقْرَبُوا الصَّلاَةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى } فَكَانَ مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ يُنَادِي أَلاَ لاَ يَقْرَبَنَّ الصَّلاَةَ سَكْرَانُ فَدُعِيَ عُمَرُ فَقُرِئَتْ عَلَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ بَيِّنْ لَنَا فِي الْخَمْرِ بَيَانًا شِفَاءً فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ﴾فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ﴿ قَالَ عُمَرُ انْتَهَيْنَا .
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মদ পান হারাম হওয়া সম্পর্কিত আদেশ তখনও অবতীর্ণ হয়নি। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমাদের জন্য মদের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিন। অতঃপর সূরা আল-বাক্বারাহর (২১৯ নং) আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “(হে রাসূল)! তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। আপনি বলুন, উভয়ের মধ্যে বড় বড় পাপের উপাদান আছে, যদিও এতে লোকদের জন্য কিছু উপকারিতাও আছে। কিন্তু উভয় কাজের পাপ ও অকল্যাণের পরিমাণ উপকারিতার চেয়ে অনেক বেশি।”অতঃপর ‘উমর (রাঃ)-কে ডাকা হলো এবং তাঁকে এ আয়াত পড়ে শুনানো হলো। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! মদের ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্টভাবে বলে দিন। অতঃপর সূরা আন-নিসার (৪২ নং) আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছেও যাবে না; সালাত তখন পড়বে যখন তোমরা বুঝতে পারো তোমরা কি পড়ছো।” এরপর হতে যখন সালাতের জামা‘আত প্রস্তুত হতো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষক ঘোষণা করতেন, সাবধান! মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছেও আসবে না। ‘উমর (রাঃ)-কে ডেকে এনে এ আয়াত পড়ে শুনানো হলো। তিনি আবার দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! মদের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলে দিন।তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, আস্তানা ও পাশা এসবই নাপাক, শয়তানী কাজ। তোমরা এসব থেকে দূরে থাকো......”(সূরা আল-মায়িদাহঃ ৯০-৯১)।‘উমর (রাঃ) বলেন, আমরা এসব কাজ বর্জন করলাম।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৬৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদ হারাম হওয়ার বিষয়ে কয়েকটি আয়াত নাযিলের ধারাবাহিকতা এসেছে। উমর (রাঃ) দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ, মদের বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট করে দিন। প্রথমে সূরা আল-বাকারার আয়াত নাযিল হলো, যেখানে মদ ও জুয়ার মধ্যে বড় পাপ এবং কিছু উপকারের কথা বলা হলো, তবে পাপ উপকারের চেয়ে বেশি। এরপর উমর (রাঃ) আবার স্পষ্টতা চাইলেন। তখন সূরা আন-নিসার আয়াত নাযিল হলো—মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছে যেও না, যতক্ষণ না বুঝতে পারো কী বলছ। এরপর সালাতের সময় ঘোষণা করা হতো, মাতাল ব্যক্তি যেন সালাতের কাছে না আসে। পরে সূরা আল-মায়িদার আয়াত নাযিল হলো, যেখানে মদ, জুয়া, আস্তানা ও পাশাকে শয়তানি কাজ বলে দূরে থাকতে বলা হয়। তখন উমর (রাঃ) বললেন, আমরা বর্জন করলাম।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান আসার জন্য উমর (রাঃ) বারবার আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।
- মদ ও জুয়ার পাপ তাদের উপকারের চেয়ে বেশি বলা হয়েছে।
- মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছে না যাওয়ার নির্দেশ এসেছে।
- চূড়ান্ত নির্দেশ আসার পর সাহাবীরা তা মেনে নিয়েছেন।
