২৯/১৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৮৬ - শির্কমুক্ত ঝাড়ফুঁকের অনুমতি
ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে
শির্ক না থাকলে ঝাড়ফুঁকের অনুমতির হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৮৮৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৮৮৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِي ذَلِكَ فَقَالَ " اعْرِضُوا عَلَىَّ رُقَاكُمْ لاَ بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ تَكُنْ شِرْكًا " .
‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। অতঃপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেনঃ তোমাদের ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থাগুলো আমার সামনে পেশ করো; তবে যেসব ঝাড়ফুঁক শিরকের পর্যায়ে পড়ে না, তাতে কোন দোষ নেই।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আওফ ইবনু মালিক (রা.) বলেন, তারা জাহিলি যুগে ঝাড়ফুঁক করতেন। পরে তারা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করলেন, এ বিষয়ে তাঁর মত কী। নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, তোমাদের ঝাড়ফুঁকের পদ্ধতিগুলো আমার সামনে পেশ করো; যেসব ঝাড়ফুঁক শিরকের পর্যায়ে পড়ে না, তাতে কোনো দোষ নেই। এই হাদিস রুকইয়াহ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি দেয়। সব ঝাড়ফুঁক একরকম নয়। কোনো ঝাড়ফুঁকে যদি শির্ক, আল্লাহ ছাড়া অন্যের ওপর ভরসা, অজানা মন্ত্র বা ভুল বিশ্বাস থাকে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। আর যদি তা শির্কমুক্ত হয় এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার অর্থ বহন করে, তবে এতে দোষ নেই। মূল শিক্ষা হলো, চিকিৎসা বা দোয়ার নামে ঈমানের ক্ষতি করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঝাড়ফুঁক করার আগে তা শির্কমুক্ত কি না দেখা দরকার।
- জাহিলি যুগের সব কাজ অন্ধভাবে গ্রহণ করা ঠিক নয়।
- রুকইয়াহর মূল ভরসা আল্লাহর ওপর হতে হবে।
- ধর্মীয় কাজের নামে ভুল বিশ্বাস ঢুকে পড়লে তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
