২৯/১৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৮৮ - বদনজর ও দংশনে আশ্রয়ের শিক্ষা
ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে
বদনজর ও বিষাক্ত দংশনে রুকইয়াহর শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৮৮৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৮৮৮
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي الرَّبَابُ، قَالَتْ سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ، يَقُولُ مَرَرْنَا بِسَيْلٍ فَدَخَلْتُ فَاغْتَسَلْتُ فِيهِ فَخَرَجْتُ مَحْمُومًا فَنُمِيَ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «مُرُوا أَبَا ثَابِتٍ يَتَعَوَّذْ ". قَالَتْ فَقُلْتُ يَا سَيِّدِي وَالرُّقَى صَالِحَةٌ فَقَالَ «لاَ رُقْيَةَ إِلاَّ فِي نَفْسٍ أَوْ حُمَةٍ أَوْ لَدْغَةٍ». قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْحُمَةُ مِنَ الْحَيَّاتِ وَمَا يَلْسَعُ.
সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি সাহ্ল ইবনু হুনাইফ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি বন্যার প্রবহমান পানির পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাতে নেমে গোসল করায় জ্বরে আক্রান্ত হই। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌছলে তিনি বলেনঃ তোমরা আবূ সাবিতকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদেশ দাও। আমি বললাম, হে আমার নেতা! ঝাড়ফুঁক কি ফলদায়ক? তিনি বলেন, শুধুমাত্র বদনযর লাগা বা সাপ-বিছার দংশনে ঝাড়ফুঁক দেয়া চলে।
[৩৮৮৮] নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ, আহমাদ। সানাদ রাবাব অজ্ঞাত। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘হামাহ’ হলো সাপ ও বিষধর কীটের কামড়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সহল ইবনু হুনাইফ (রা.)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি পানিতে গোসল করার পর জ্বরে আক্রান্ত হন। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বলেন, আবু সাবিতকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলো। এরপর প্রশ্ন করা হয়, ঝাড়ফুঁক কি উপকারী? নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, বদনজর, বিষাক্ত প্রাণীর দংশন বা কামড়ের ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক করা যায়। আবু দাউদ (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, হামাহ বলতে সাপ ও বিষধর কীটের কামড় বোঝানো হয়েছে। এই হাদিসে অসুস্থতা, আশ্রয় চাওয়া এবং রুকইয়াহর নির্দিষ্ট ক্ষেত্র একসঙ্গে এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, বিপদে আল্লাহর আশ্রয় নিতে হবে এবং রুকইয়াহর নামে সীমা ছাড়ানো যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থতা বা ভয় দেখা দিলে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে।
- বদনজর ও বিষাক্ত দংশনে বৈধ রুকইয়াহ করা যায়।
- রুকইয়াহর ক্ষেত্রে শির্ক ও সীমালঙ্ঘন থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- কষ্টের সময় নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের দোয়ার দিকে পথ দেখাতেন।
