৩০/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯০৫ - জ্যোতিষবিদ্যা ও যাদুর সম্পর্ক
জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে
জ্যোতিষবিদ্যা শেখা কেন বিপজ্জনক
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৯০৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৯০৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ " .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্যোতিষীর জ্ঞান শিক্ষা করলো সে যাদু বিদ্যার একটা শাখা শিক্ষা করলো। তা যতো বৃদ্ধি পাবে যাদুবিদ্যাও ততো বাড়বে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم জ্যোতিষীর জ্ঞান শেখার ব্যাপারে সরাসরি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নক্ষত্র-ভিত্তিক এমন জ্ঞান গ্রহণ করল, সে যাদুবিদ্যার একটি শাখা গ্রহণ করল। আর যত বেশি তা বাড়াবে, তত বেশি যাদুর অংশও বাড়বে। এখানে সাধারণভাবে আকাশ, তারা বা সৃষ্টি সম্পর্কে উপকারী জ্ঞান শেখার কথা নয়; বরং মানুষের ভাগ্য, অদৃশ্য বিষয় বা শুভ-অশুভ নির্ণয়ের জন্য নক্ষত্রের উপর নির্ভর করার কথা বোঝানো হয়েছে। তাই এই হাদিস জ্যোতিষবিদ্যা, ভাগ্য গণনা ও কুসংস্কার থেকে ঈমানকে রক্ষা করার শিক্ষা দেয়। একজন মুসলিমের বিশ্বাস হলো—অদৃশ্যের পূর্ণ জ্ঞান আল্লাহর কাছে, আর মানুষের জীবন আল্লাহর ইচ্ছা ও হুকুমের অধীন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জ্যোতিষীর জ্ঞান শেখাকে হাদিসে যাদুর শাখা বলা হয়েছে।
- নক্ষত্র দিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করার বিশ্বাস থেকে দূরে থাকতে হবে।
- অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহর কাছে—এই বিশ্বাসকে মজবুত করা দরকার।
- কুসংস্কার যত বাড়ে, ঈমানের ক্ষতি তত বাড়তে পারে।
