৩১/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯৩৮ - ন্যায্য মূল্য নিরূপণ ও দাসমুক্তি
গোলামকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে কাজ করানো
ন্যায্য মূল্য নিরূপণ করে দাসমুক্তির বিধান
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৯৩৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৯৩৮
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شِقْصًا لَهُ - أَوْ شَقِيصًا لَهُ - فِي مَمْلُوكٍ فَخَلاَصُهُ عَلَيْهِ فِي مَالِهِ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ قُوِّمَ الْعَبْدُ قِيمَةَ عَدْلٍ ثُمَّ اسْتُسْعِيَ لِصَاحِبِهِ فِي قِيمَتِهِ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ " .قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِهِمَا جَمِيعًا " فَاسْتُسْعِيَ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ " . وَهَذَا لَفْظُ عَلِيٍّ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যৌথ মালিকানাভুক্ত কৃতদাসের নিজের অংশ আযাদ করে, সে সম্পদশালী হলে তার কর্তব্য হলো তাকে পূর্ণভাবে আযাদ করার ব্যবস্থা করা। আর সে সম্পদশালী না হলে গোলামটির সঠিক মূল্য নিরূপণ করার পর গোলামের দ্বারা সাধ্য মোতাবেক কাজ করাবে। অতঃপর তার পারিশ্রমিকের অর্থ দ্বারা মূল্য আদায় করবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, উভয় বর্ণনাকারীর বক্তব্য হলো : ‘তাকে দিয়ে সহজসাধ্য পরিশ্রম করাবে’।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যৌথ মালিকানাধীন দাসের অংশ আযাদ করার পর কী করা হবে তা আরও বিস্তারিত এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আযাদকারী যদি সম্পদশালী হয়, তাহলে নিজের সম্পদে দাসটির পূর্ণ মুক্তির ব্যবস্থা করবে। আর তার সম্পদ না থাকলে দাসটির সঠিক ও ন্যায্য মূল্য নিরূপণ করা হবে। এরপর দাসকে তার সাধ্য অনুযায়ী কাজ করানো হবে এবং সেই পারিশ্রমিক দিয়ে মূল্য আদায় করা হবে। তবে তাকে কষ্টে ফেলা যাবে না। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ)-এর নোটেও এসেছে, তাকে সহজসাধ্য পরিশ্রম করানো হবে। এই হাদিস ন্যায্য হিসাব, দাসের প্রতি কোমলতা এবং শরীকদের অধিকার রক্ষার ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাসের মূল্য ন্যায্যভাবে নিরূপণ করতে হবে।
- সম্পদ থাকলে আযাদকারী নিজের অর্থে মুক্তির ব্যবস্থা করবে।
- সম্পদ না থাকলে দাসকে সাধ্যের বাইরে কষ্ট দেওয়া যাবে না।
- শরীকদের অধিকার ও দাসের কষ্ট—দুই দিকই বিবেচনা করতে হয়।
