৩৪/৪৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪১৪৯ - দরজার পর্দা ও দুনিয়ার চাকচিক্য
(দরজা-জানালায়) পর্দা ঝুলানো সম্পর্কে
দরজার পর্দা ও দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪১৪৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪১৪৯
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَى فَاطِمَةَ رضى الله عنها فَوَجَدَ عَلَى بَابِهَا سِتْرًا فَلَمْ يَدْخُلْ قَالَ وَقَلَّمَا كَانَ يَدْخُلُ إِلاَّ بَدَأَ بِهَا فَجَاءَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَرَآهَا مُهْتَمَّةً فَقَالَ مَا لَكِ قَالَتْ جَاءَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَىَّ فَلَمْ يَدْخُلْ فَأَتَاهُ عَلِيٌّ رضى الله عنه فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَاطِمَةَ اشْتَدَّ عَلَيْهَا أَنَّكَ جِئْتَهَا فَلَمْ تَدْخُلْ عَلَيْهَا. قَالَ " وَمَا أَنَا وَالدُّنْيَا وَمَا أَنَا وَالرَّقْمَ " . فَذَهَبَ إِلَى فَاطِمَةَ فَأَخْبَرَهَا بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَتْ قُلْ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا يَأْمُرُنِي بِهِ. قَالَ " قُلْ لَهَا فَلْتُرْسِلْ بِهِ إِلَى بَنِي فُلاَنٍ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাত্বিমাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে দরজায় পর্দা ঝুলানো দেখতে পেয়ে তিনি ভেতরে ঢুকলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, অধিকাংশ সময় তিনি ভেতরে ঢুকেই সর্বপ্রথম ফাত্বিমাহ্র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। এসময় ‘আলী (রাঃ) এসে ফাত্বিমাহ্কে চিন্তিত দেখে বললেন, তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) আমার নিকট আসতে চেয়েও আসেননি। অতঃপর ‘আলী (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ফাত্বিমাহ্র নিকট গিয়েও প্রবেশ না করায় এটা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।তিনি বলেনঃ দুনিয়াদারী ও চাকচিক্যতার সাথে আমার কী সম্পর্ক। একথা শুনে ‘আলী ফাত্বিমাহ্র নিকট গিয়ে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) বক্তব্য বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলুন, তিনি আমাকে এটাকে কি করতে আদেশ দেন? (‘আলীর বর্ণনা শুনে) তিনি (ﷺ) বললেনঃ তাঁকে (ফাত্বিমাহ্কে) বলো, তা (পর্দাটি) যেন অমুক গোত্রে পাঠিয়ে দেয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪১৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা (রাঃ)-এর ঘরের দরজায় একটি পর্দা ঝুলানো দেখে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভেতরে প্রবেশ করেননি। ফাতিমা (রাঃ) এতে কষ্ট পেলেন। আলী (রাঃ) নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষয়টি বললে তিনি বলেন, দুনিয়াদারি ও চাকচিক্যের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক। এরপর ফাতিমা (রাঃ) জানতে চাইলেন, পর্দাটি নিয়ে কী করতে হবে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বললেন, সেটি যেন অমুক বনী কাছে পাঠিয়ে দেয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো ঘরের সাজসজ্জা, পর্দা ও দুনিয়ার চাকচিক্য নিয়ে সতর্ক থাকা। হাদিসে পর্দার কারণে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর অপছন্দ প্রকাশ পেয়েছে, তবে তিনি শুধু অপছন্দ করেই থেমে যাননি; বরং সেটি অন্যদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, প্রিয় মানুষদেরও তিনি দুনিয়ার অতিরিক্ত সাজসজ্জা থেকে দূরে রাখতে চাইতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) ঘরের অতিরিক্ত চাকচিক্য পছন্দ করেননি।
- ফাতিমা (রাঃ) নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ জানার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
- অপছন্দের জিনিস নষ্ট না করে অন্য কাজে পাঠানোর নির্দেশ এসেছে।
- প্রিয়জনদেরও দুনিয়ার মোহ থেকে সতর্ক করা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর শিক্ষা।
