২/১০. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩২ - বিলম্বিত সালাতে ফরজ ও নফলের নিয়ম

ইমাম ওয়াক্ত মোতাবেক সালাত আদায়ে বিলম্ব করলে

শাসক দেরিতে সালাত পড়লে নিজের সালাত সময়মতো আদায়

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، دُحَيْمٌ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ، - يَعْنِي ابْنَ عَطِيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الأَوْدِيِّ، قَالَقَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ الْيَمَنَ رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِلَيْنَا - قَالَ - فَسَمِعْتُ تَكْبِيرَهُ مَعَ الْفَجْرِ رَجُلٌ أَجَشُّ الصَّوْتِ - قَالَ - فَأُلْقِيَتْ عَلَيْهِ مَحَبَّتِي فَمَا فَارَقْتُهُ حَتَّى دَفَنْتُهُ بِالشَّامِ مَيْتًا ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى أَفْقَهِ النَّاسِ بَعْدَهُ فَأَتَيْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ فَلَزِمْتُهُ حَتَّى مَاتَ فَقَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " كَيْفَ بِكُمْ إِذَا أَتَتْ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يُصَلُّونَ الصَّلاَةَ لِغَيْرِ مِيقَاتِهَا " . قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِمِيقَاتِهَا وَاجْعَلْ صَلاَتَكَ مَعَهُمْ سُبْحَةً " .

‘আমর ইবনু মায়মূন আল-আওদী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর দূত হিসেবে মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) ইয়ামানে আমাদের নিকট আসলেন। আমি ফজরের সালাতে তাঁর তাকবির শুনতে পেলাম। তিনি উচ্চ কণ্ঠস্বর বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর সাথে আমার ভালবাসা সৃষ্টি হওয়ায় তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর সাহচর্য ত্যাগ করিনি। অতঃপর তাঁর মৃত্যু হলে সিরিয়ায় তাঁকে দাফন করি। এরপর আমি ভাবলাম, তাঁর পরবর্তী সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি কে হতে পারে? অবশেষে আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) –এর কাছে যাই এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সাহচর্যে থাকি।তিনি (ইবনু মাসউদ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, যখন তোমাদের উপর এমন শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা বিলম্ব করে সালাত আদায় করবে তখন তোমরা কী করবে? আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এ ব্যাপারে আমার জন্য আপনার নির্দেশ কী? তিনি বললেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করবে। আর পুনরায় তাদের সাথে আদায়কৃত সালাতকে নফল হিসেবে ধরে নিবে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ)-এর ইয়ামানে আগমন, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং পরে ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর সাহচর্যের কথা এসেছে। এরপর মূল শিক্ষা হলো, ভবিষ্যতে এমন শাসক আসবে যারা নির্ধারিত সময় ছাড়া সালাত আদায় করবে। তখন কী করতে হবে—এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ হলো, তোমরা নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করবে। আর তাদের সাথে যে সালাত আদায় করবে, সেটিকে নফল হিসেবে ধরে নেবে। এই হাদিসে সময়মতো সালাতের গুরুত্ব আবারও স্পষ্ট হয়েছে। নেতৃত্বের বিলম্ব যেন একজন মুসলিমের ফরজ সালাতকে সময় থেকে সরিয়ে না দেয়। একই সঙ্গে জামাতের সাথে থাকার বিষয়ও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি; বরং দ্বিতীয় সালাতকে নফল হিসেবে বিবেচনা করার কথা এসেছে। তাই সালাতের সময়, ফরজ সালাত এবং নফল সালাত—তিনটি বিষয় এখানে সুন্দরভাবে যুক্ত হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শাসক দেরি করলেও ফরজ সালাত সময়মতো আদায় করতে হবে।
  • পরে শাসকদের সাথে পড়া সালাত নফল হিসেবে ধরা যাবে।
  • ইলমের জন্য সাহাবীরা জ্ঞানী মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করতেন।
  • সালাতের সময় রক্ষা করা নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন