৩৯/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩২১ - দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার আমল
দাজ্জালের আবির্ভাব সম্পর্কে
দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে সূরা কাহফের আমল
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৩২১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩২১
حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ الدِّمَشْقِيُّ الْمُؤَذِّنُ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الطَّائِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيِّ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الدَّجَّالَ فَقَالَ «إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ فَإِنَّهَا جِوَارُكُمْ مِنْ فِتْنَتِهِ».قُلْنَا وَمَا لُبْثُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ «أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ قَالَ «لاَ اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ ثُمَّ يَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ فَيُدْرِكُهُ عِنْدَ بَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلُهُ».
আন-নাওয়াস ইবনু সাম'আন আল-কিলাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকতে যদি সে আবির্ভূত হয় তবে তোমাদের পক্ষ হতে আমিই তার প্রতিপক্ষ হবো। আর আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান না থাকা অবস্থায় যদি সে আবির্ভূত হয় তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজেই তার প্রতিপক্ষ হতে হবে। আর আল্লাহ হবেন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার পক্ষের দায়িত্বশীল। তোমাদের মাঝে যে কেউ তাকে পাবে, সে যেন সূরা আল-কাহ্ফের প্রথম কয়েকটি আয়াত পাঠ করে; কেননা এটাই হবে ফিতনা থেকে তার নিরাপত্তার প্রধান উপায়।আমরা বললাম, সে পৃথিবীতে কতদিন থাকবে? তিনি বললেনঃ চল্লিশ দিন। একদিন হবে এক বছরের সমান, একদিন হবে এক মাসের সমান ও একদিন হবে এক সপ্তাহের সমান, আর বাকি দিনগুলো হবে তোমাদের সাধারণ দিনগুলোর সমান। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যে দিনটি এক বছরের সমান হবে, সে দিনে এক দিন ও এক রাতের সালাত কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ না, তোমরা অনুমান করে দিনের পরিমাণ নির্ধারণ করে (সালাত পড়বে)। অতঃপর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) দামেশকের পূর্ব প্রান্তে একটি সাদা মিনারে অবতরণ করবেন এবং ‘লুদ্দ’ নামক স্থানের দ্বারপ্রান্তে দাজ্জালকে নাগালে পাবেন এবং হত্যা করবেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে খুব স্পষ্ট সতর্কতা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি জীবিত থাকলে উম্মতের পক্ষ থেকে দাজ্জালের মোকাবিলা করবেন। আর তিনি উপস্থিত না থাকলে প্রত্যেক মানুষকে নিজ দায়িত্বে সতর্ক থাকতে হবে। তবে আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের সহায় হবেন—এ কথায় মুমিনের ভরসার দিকটি প্রকাশ পায়। হাদিসে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপত্তার প্রধান আমল হিসেবে সূরা আল-কাহফের প্রথম কয়েকটি আয়াত পড়ার কথা এসেছে। এখানে দাজ্জালের অবস্থানকাল, অস্বাভাবিক দিনের হিসাব এবং দীর্ঘ দিনের সালাত অনুমান করে পড়ার নির্দেশও আছে। শেষে ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-এর অবতরণ ও দাজ্জালকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে ঈমান, সতর্কতা ও আল্লাহর উপর ভরসা জরুরি।
- সূরা আল-কাহফের প্রথম আয়াতগুলো দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে এসেছে।
- অস্বাভাবিক সময়ের মধ্যেও সালাতের গুরুত্ব বজায় থাকবে।
- ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ ও দাজ্জালের শেষ পরিণতি হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
