৩৯/১৫. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩২৬ - জাসসাসা, দ্বীপ ও দাজ্জালের খবর

জাসসাস প্রসঙ্গে

জাসসাসা ও দাজ্জালের দ্বীপ: তামিম দারীর বর্ণনা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩২৬

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ حُسَيْنًا الْمُعَلِّمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ الشَّعْبِيُّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ،قَالَتْ سَمِعْتُ مُنَادِيَ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يُنَادِي أَنَّ الصَّلاَةَ جَامِعَةٌ . فَخَرَجْتُ فَصَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الصَّلاَةَ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَضْحَكُ قَالَ «لِيَلْزَمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مُصَلاَّهُ " . ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَدْرُونَ لِمَ جَمَعْتُكُمْ». قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " إِنِّي مَا جَمَعْتُكُمْ لِرَهْبَةٍ وَلاَ رَغْبَةٍ وَلَكِنْ جَمَعْتُكُمْ أَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ كَانَ رَجُلاً نَصْرَانِيًّا فَجَاءَ فَبَايَعَ وَأَسْلَمَ وَحَدَّثَنِي حَدِيثًا وَافَقَ الَّذِي حَدَّثْتُكُمْ عَنِ الدَّجَّالِ حَدَّثَنِي أَنَّهُ رَكِبَ فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ مَعَ ثَلاَثِينَ رَجُلاً مِنْ لَخْمٍ وَجُذَامٍ فَلَعِبَ بِهِمُ الْمَوْجُ شَهْرًا فِي الْبَحْرِ وَأَرْفَئُوا إِلَى جَزِيرَةٍ حِينَ مَغْرِبِ الشَّمْسِ فَجَلَسُوا فِي أَقْرَبِ السَّفِينَةِ فَدَخَلُوا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْهُمْ دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرَةُ الشَّعْرِ قَالُوا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ قَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ انْطَلِقُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي هَذَا الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالأَشْوَاقِ . قَالَ لَمَّا سَمَّتْ لَنَا رَجُلاً فَرِقْنَا مِنْهَا أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً فَانْطَلَقْنَا سِرَاعًا حَتَّى دَخَلْنَا الدَّيْرَ فَإِذَا فِيهِ أَعْظَمُ إِنْسَانٍ رَأَيْنَاهُ قَطُّ خَلْقًا وَأَشَدُّهُ وَثَاقًا مَجْمُوعَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ».فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَسَأَلَهُمْ عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ وَعَنْ عَيْنِ زُغَرَ وَعَنِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ قَالَ إِنِّي أَنَا الْمَسِيحُ وَإِنَّهُ يُوشِكُ أَنْ يُؤْذَنَ لِي فِي الْخُرُوجِ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " وَإِنَّهُ فِي بَحْرِ الشَّامِ أَوْ بَحْرِ الْيَمَنِ لاَ بَلْ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ». مَرَّتَيْنِ وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ قِبَلَ الْمَشْرِقِ قَالَتْ حَفِظْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি শুনতে পেলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোষণা করছেন যে, সালাতের জন্য সমবেত হও। অতএব আমি বেরিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসতে হাসতে মিম্বারের উপর বসে বললেনঃ প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে বসে থাকো। পুনরায় বললেনঃ তোমরা কি জানো, কেন আমি তোমাদের একত্র করেছি? উপস্থিত সকলেই বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন।তিনি বললেনঃ কোন ভয়-ভীতি বা কোন কাঙ্ক্ষিত বস্তুর জন্য আমি তোমাদের একত্র করিনি; বরং তোমাদের একত্র করেছি এজন্য যে, তামীম আদ-দারী খ্রিস্টান ছিল। সে এসে বাই‘আত করে মুসলিম হয়েছে, আর আমাকে দাজ্জাল সম্পর্কে এরূপ একটি ঘটনা শুনিয়েছে, আমি তোমাদের নিকট সে সম্পর্কে যা বলেছি, তার অনুরূপ। সে বলেছে, একদা সে ‘লাখ্‌ম ও জুযাম’ গোত্রের তিরিশজন লোকের সঙ্গে সমুদ্রযানে ভ্রমণ করছিল। এসময় সমুদ্র তরঙ্গ তাদের নিয়ে একমাস পর্যন্ত খেলা করে সূর্যাস্তের সময় উপকূলের দ্বীপে ভিড়িয়ে দেয়।অতঃপর তারা জাহাজের নিকট কিছুক্ষণ বসে থেকে দ্বীপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। সেখানে তারা ঘন-লম্বা লোমবিশিষ্ট এক জন্তুর সাক্ষাত পেয়ে বলল, তোমার জন্য দুঃখ হয় তুমি কে? সে বলল, আমি জাস্‌সাসা, তোমরা এই মন্দিরের লোকটির নিকট যাও, কেননা সে তোমাদের সংবাদের জন্য খুবই আগ্রহী। তামীম আদ-দারী বলেন, যখন সে একটি লোকের নাম বলে দিলো, তখন সে শয়তান কিনা এই ভয়ে আমরা দ্রুতগতিতে চলতে লাগলাম।অতঃপর মন্দিরে প্রবেশ করে দেখলাম, বিরাট দেহের অধিকারী এক ব্যক্তি। এরূপ মজবুত গড়ন এবং কঠিন আকৃতির লোক ইতিপূর্বে আমরা কখনও দেখিনি। তার দু’টি হাত ঘাড়ের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে বাঁধা। অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করেন যে, সে তাদের নিকট ‘বাইসান’-এর খেজুর বাগান ও যুগার ঝর্না সম্পর্কে আর উম্মী নবীর আবির্ভাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললো, আমিই মাসীহ (দাজ্জাল)। শীঘ্রই আমাকে বেরিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হবে।নবী (ﷺ) বলেনঃ সেটা নিশ্চয়ই সিরিয়া বা ইয়ামান সাগরে হবে, না বরং সেটা প্রাচ্যের দিকে হবে। একথা তিনি দু’বার বলেন এবং পূর্ব দিকে ইশারা করে দেখান। তিনি (ফাত্বিমাহ) বলেন, আমি এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে মুখস্ত করেছি।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩২৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ফাতিমা বিনত কাইস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাতের জন্য সবাইকে একত্র করেন। তিনি বলেন, কোনো ভয় বা লোভের কারণে নয়, বরং তামিম আদ-দারীর ঘটনা জানানোর জন্য তাদের ডাকা হয়েছে। তামিম আগে খ্রিস্টান ছিলেন, পরে এসে বাইয়াত করে মুসলিম হন। তিনি সমুদ্রযাত্রা, এক মাস ঢেউয়ের মধ্যে থাকা, দ্বীপে পৌঁছানো, জাসসাসা নামের লোমশ প্রাণী এবং মন্দিরে বাঁধা এক বিশাল মানুষের কথা জানান। সে বাইসানের খেজুর বাগান, যুঘার ঝর্ণা ও উম্মী নবীর আবির্ভাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে এবং নিজেকে মাসীহ দাজ্জাল বলে। শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) পূর্ব দিকের দিকে ইশারা করেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি খবর সাহাবীদের একত্র করে শেখানো হয়েছে।
  • তামিম আদ-দারীর বর্ণনা দাজ্জালের বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পূর্বের কথার সঙ্গে মিলে যায়।
  • দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণনায় বাইসান, যুঘার ও উম্মী নবীর প্রসঙ্গ এসেছে।
  • ফিতনার বিষয়ে সতর্ক থাকা মুমিনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন