৩৯/১৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৪১ - ফিতনার সময়ে ধৈর্য ও আত্মরক্ষা

আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে

ফিতনার সময়ে ধৈর্য ও নিজের ঈমানের যত্ন

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩৪১

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ اللَّخْمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ فَقُلْتُ يَا أَبَا ثَعْلَبَةَ كَيْفَ تَقُولُ فِي هَذِهِ الآيَةِ ﴾ عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ ﴿ قَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْىٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ - يَعْنِي بِنَفْسِكَ - وَدَعْ عَنْكَ الْعَوَامَّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ الصَّبْرُ فِيهِ مِثْلُ قَبْضٍ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِمْ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ مِثْلَ عَمَلِهِ».وَزَادَنِي غَيْرُهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْهُمْ قَالَ «أَجْرُ خَمْسِينَ مِنْكُمْ».

আবূ উমাইয়্যাহ আশ-শা’বানী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ সা‘লাবাহকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবূ সা‘লাবাহ! আপনি এ আয়াত ‘আলাইকুম আনফুসাকুম’ (৫:১০৫) সম্পর্কে কি বলেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আপনি এ ব্যাপারে অবহিত ব্যক্তিকেই প্রশ্ন করেছেন। আমি এ আয়াত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছেনঃ তোমরা বরং পরস্পরকে ভালো কাজের আদেশ দাও এবং অন্যায় হতে বিরত রাখো।এমনকি যখন দেখবে যে, কৃপণের আনুগত্য করা হচ্ছে, কুপ্রবৃত্তি তাড়িতকে অনুসরণ করা হচ্ছে ও পার্থিব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং প্রত্যেকে নিজের মতকেই প্রাধান্য দিচ্ছে, তখন তুমি নিজের ব্যাপারে যত্নবান হও এবং জনগণ যা করছে তা ত্যাগ করো। কেননা তোমাদের সামনে এরূপ যুগ আসছে, যখন ধৈর্য ধারণ করা জ্বলন্ত অঙ্গার মুষ্টিবন্ধ করে রাখার মতো কষ্টকর হবে। এ সময় যথার্থ কাজ সম্পাদনকারীকে তার মতই পঞ্চাশজনের সমান পুরস্কার দেয়া হবে।অপর বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে কি সেই সময়কার পঞ্চাশজনের সমান সওয়াব দেয়া হবে? তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশজনের সমান সওয়াব দেয়া হবে।

[৪৩৪০] তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি গরীব। ইবনু মাজাহ। সানাদে ‘উতবাহ ইবনু আবূ হাকিম সত্যবাদী কিন্তু ভুল প্রচুর। এছাড়া সানাদে ‘আমর ইবনু জারিয়াহ এবং আবূ উমাইয়্যাহ উভয়ের অবস্থা মাজহুল (অজ্ঞাত)। যেমন আত-তাক্বরীব গ্রন্থে রয়েছে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৪১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূরা মায়েদার ‘আলাইকুম আনফুসাকুম’ আয়াত নিয়ে প্রশ্নের জবাব এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বুঝিয়ে দিলেন, নিজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ভালো কাজের আদেশ ও অন্যায় থেকে বারণ ছেড়ে দিতে হবে। বরং আগে মানুষকে ভালো পথে ডাকতে হবে এবং মন্দ কাজ থেকে ফিরাতে হবে। কিন্তু এমন সময় আসতে পারে যখন কৃপণতা মানা হবে, খেয়ালখুশি অনুসরণ করা হবে, দুনিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সবাই নিজের মতকে বড় মনে করবে। তখন মানুষকে নিজের ঈমান, আমল ও ধৈর্যের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে। হাদিসে ফিতনার সময়ে ধৈর্যকে জ্বলন্ত অঙ্গার ধরার মতো কঠিন বলা হয়েছে। তাই মূল শিক্ষা হলো, সৎকাজের আদেশ, অন্যায় থেকে বিরত রাখা এবং কঠিন সময়ে নিজের দ্বীন রক্ষায় স্থির থাকা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ভালো কাজের আদেশ ও অন্যায় থেকে বারণ করা মুসলিমের দায়িত্ব।
  • মানুষ যখন নিজের মত ও দুনিয়াকে বেশি প্রাধান্য দেয়, তখন নিজের আমল রক্ষায় সতর্ক থাকা দরকার।
  • ফিতনার সময়ে ধৈর্য রাখা খুব কঠিন হতে পারে, তাই ঈমানকে শক্ত রাখা প্রয়োজন।
  • সঠিক কাজের মূল্য আল্লাহর কাছে বড়, বিশেষ করে কঠিন সময়ে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন