৪০/১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৫৪ - সরকারি পদ চাওয়া ও দায়িত্বের শিক্ষা

মুরতাদ সম্পর্কে বিধান

পদ চাওয়া নয়, দায়িত্ব পালনের শিক্ষা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩৫৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - قَالَ مُسَدَّدٌ - حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بُرْدَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلْتُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ وَمَعِي رَجُلاَنِ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ أَحَدُهُمَا عَنْ يَمِينِي وَالآخَرُ عَنْ يَسَارِي فَكِلاَهُمَا سَأَلَ الْعَمَلَ وَالنَّبِيُّ ﷺ سَاكِتٌ فَقَالَ «مَا تَقُولُ يَا أَبَا مُوسَى» . أَوْ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ " . قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَطْلَعَانِي عَلَى مَا فِي أَنْفُسِهِمَا وَمَا شَعَرْتُ أَنَّهُمَا يَطْلُبَانِ الْعَمَلَ . قَالَ وَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى سِوَاكِهِ تَحْتَ شَفَتِهِ قَلَصَتْ قَالَ " لَنْ نَسْتَعْمِلَ - أَوْ لاَ نَسْتَعْمِلُ - عَلَى عَمَلِنَا مَنْ أَرَادَهُ وَلَكِنِ اذْهَبْ أَنْتَ يَا أَبَا مُوسَى أَوْ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ " .فَبَعَثَهُ عَلَى الْيَمَنِ ثُمَّ أَتْبَعَهُ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَالَ فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ مُعَاذٌ قَالَ انْزِلْ . وَأَلْقَى لَهُ وِسَادَةً فَإِذَا رَجُلٌ عِنْدَهُ مُوثَقٌ قَالَ مَا هَذَا قَالَ هَذَا كَانَ يَهُودِيًّا فَأَسْلَمَ ثُمَّ رَاجَعَ دِينَهُ دِينَ السُّوءِ . قَالَ لاَ أَجْلِسُ حَتَّى يُقْتَلَ قَضَاءُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ . قَالَ اجْلِسْ نَعَمْ . قَالَ لاَ أَجْلِسُ حَتَّى يُقْتَلَ قَضَاءُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَأَمَرَ بِهِ فَقُتِلَ ثُمَّ تَذَاكَرَا قِيَامَ اللَّيْلِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ أَمَّا أَنَا فَأَنَامُ وَأَقُومُ - أَوْ أَقُومُ وَأَنَامُ - وَأَرْجُو فِي نَوْمَتِي مَا أَرْجُو فِي قَوْمَتِي .

আবূ বুরদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ মূসা আশ্‌আরী গোত্রের দু’জন লোককে সঙ্গে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট যাই। তাদের একজন আমার ডানপাশে এবং অপরজন বামপাশে ছিল। তারা উভয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট চাকরি (সরকারী পদ) চাইল। তিনি নীরব রইলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আবূ মূসা অথবা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ক্বাইস! তুমি কি বলো? আমি বললাম, সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! এরা এদের মনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেনি এবং আমি জানতাম না যে, তারা চাকরি চাইবে।আবু মুসা (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর ঠোঁটের নীচে মেস্‌ওয়াকের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তা যেন ফুলে আছে। তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি সরকারী পদে নিয়োগের প্রার্থনা করে আমরা তাকে কখনো তাতে নিয়োগ করি না। তুমি বরং চলে যাও হে আবূ মূসা অথবা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ক্বাইস! অতঃপর তিনি তাকে ইয়ামানে পাঠিয়ে দেন এবং তার পরে মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) কে পাঠালেন।বর্ণনাকারী বলেন, মু‘আয (রাঃ) তার নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন, নেমে আসুন এবং তার জন্য একটি বালিশ পেতে দিলেন। তার নিকট ছিল একটা বাঁধা লোক। তিনি প্রশ্ন করলেন, লোকটি কে? তিনি বললেন, লোকটি ছিল ইয়াহুদী, পরে ইসলাম গ্রহণ করে। পরে আবারো সে তার খারাপ ধর্মে ফিরে যায়। মু‘আয (রাঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়সালা মোতাবেক তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি বসবো না। তিনি বলেন, হাঁ আপনি বসুন। মু‘আয (রাঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়সালা মোতাবেক তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমিও বসবো না। একথা তিনি তিনবার বলেন।অতঃপর তার হুকুমে তাকে হত্যা করা হলো। পরে তারা দু‘জন রাত জেগে ‘ইবাদাত করা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের একজন মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) বলেন, আমি তো রাতে ঘুমাই ও জেগে ইবাদাত করি, অথবা দাঁড়িয়ে ‘ইবাদাত করি, ঘুমাই এবং ‘ইবাদাতার মধ্যে আমি যা কামনা করি, ঘুমের মধ্যেও তাই কামনা করি।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৫৪-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে কয়েকটি বিষয় এসেছে। আবু মূসা আশআরী (রাঃ)-এর সঙ্গে দুজন ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে সরকারি পদ চান। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের কাজের দায়িত্ব নিজে চায়, আমরা তাকে তাতে নিয়োগ করি না। এরপর তিনি আবু মূসা (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠান এবং পরে মু‘আয ইবন জাবাল (রাঃ)-কেও পাঠান। বর্ণনায় আরও এসেছে, এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর আবার আগের ধর্মে ফিরে যায়, এবং মু‘আয (রাঃ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালার কথা উল্লেখ করেন। হাদিসের শেষে রাতের ইবাদত ও ঘুম সম্পর্কেও কথা এসেছে: মু‘আয (রাঃ) ঘুম ও দাঁড়িয়ে ইবাদত—দুই অবস্থাতেই সওয়াবের আশা করেন। মূল শিক্ষা হলো, দায়িত্ব চেয়ে নেওয়া হালকা বিষয় নয়; নেতৃত্ব, বিচার ও ইবাদতে ভারসাম্য দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সরকারি পদ নিজে চাওয়া নবী (صلى الله عليه وسلم) অপছন্দ করেছেন।
  • দায়িত্ব পাওয়ার বিষয় আমানত ও যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
  • রাতের ইবাদতে ঘুম ও কিয়ামের মধ্যে ভারসাম্যের কথা এসেছে।
  • বিচারিক বিষয়কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালার আলোকে দেখা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন