২/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৭ - ঘুমে গাফিলতি ও জাগ্রত অবস্থার অবহেলা
কেউ সালাতের ওয়াক্তে ঘুমিয়ে থাকলে বা সালাতের কথা ভুলে গেলে
ঘুমে সালাত ছুটে গেলে দোষ নেই, জেগে অবহেলা অন্যায়
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৩৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩৭
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ فِي سَفَرٍ لَهُ فَمَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَمِلْتُ مَعَهُ فَقَالَ " انْظُرْ " . فَقُلْتُ هَذَا رَاكِبٌ هَذَانِ رَاكِبَانِ هَؤُلاَءِ ثَلاَثَةٌ حَتَّى صِرْنَا سَبْعَةً. فَقَالَ " احْفَظُوا عَلَيْنَا صَلاَتَنَا " .يَعْنِي صَلاَةَ الْفَجْرِ فَضُرِبَ عَلَى آذَانِهِمْ فَمَا أَيْقَظَهُمْ إِلاَّ حَرُّ الشَّمْسِ فَقَامُوا فَسَارُوا هُنَيَّةً ثُمَّ نَزَلُوا فَتَوَضَّئُوا وَأَذَّنَ بِلاَلٌ فَصَلَّوْا رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ صَلَّوُا الْفَجْرَ وَرَكِبُوا فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ قَدْ فَرَّطْنَا فِي صَلاَتِنَا. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّهُ لاَ تَفْرِيطَ فِي النَّوْمِ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ فَإِذَا سَهَا أَحَدُكُمْ عَنْ صَلاَةٍ فَلْيُصَلِّهَا حِينَ يَذْكُرُهَا وَمِنَ الْغَدِ لِلْوَقْتِ " .
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কোন এক সফরে ছিলেন। সে সময় নবী (ﷺ) একদিকে মনোনিবেশ করলে আমিও তাঁর সাথে মনোনিবেশ করি। তিনি বললেনঃ লক্ষ্য রাখ। আমি বললাম, এই একজন যাত্রী, এই দু’জন যাত্রী, এই তিনজন যাত্রী। এভাবে আমরা সাতজন হয়ে গেলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাদের ফাজ্র সালাতের ব্যাপারে সজাগ থাক। কিন্তু তাঁদের সবার কান বন্ধ হয়ে গেল (সকলেই ঘুমিয়ে পড়লেন) এবং গায়ে সূর্যতাপ না লাগা পর্যন্ত তাঁরা ঘুম হতে জাগতে পারলেন না।অতঃপর ঘুম থেকে জেগে কিছু দূর সফর করে তাঁরা (এক স্থানে) অবতরণ করে ওজু করলেন। বিলাল (রাঃ) আযান দিলে সবাই প্রথমে ফাজ্রের দু’ রাক’আত সুন্নাত, অতঃপর ফরজ সালাত আদায় করে সওয়ারীতে আরোহণ করলেন। তারপর পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, আমরা (নির্ধারিত সময়ে) সালাত আদায়ে অবহেলা করেছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ ঘুমের কারণে গাফলতি হলে দোষ নেই। কিন্তু জাগ্রতাবস্থায় গাফিলতি করা অন্যায়। তোমাদের কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যেন স্মরণ হলেই সালাত আদায় করে নেয়। আর পরবর্তী দিন যেন নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করে (অর্থাৎ সালাত ক্বাযা করা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের সময় ফজর সালাত ছুটে যাওয়ার একটি ঘটনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের বলেন, আমাদের ফজর সালাতের ব্যাপারে সজাগ থাকবে। কিন্তু সবাই ঘুমিয়ে পড়েন এবং সূর্যের তাপ না লাগা পর্যন্ত জাগতে পারেননি। এরপর তাঁরা কিছু দূর গিয়ে ওজু করেন। বিলাল (রাঃ) আজান দেন। সবাই আগে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত, তারপর ফজর সালাত আদায় করেন। পরে কেউ কেউ বলেন, আমরা সালাতে অবহেলা করেছি। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, ঘুমের কারণে গাফিলতি হলে দোষ নেই; গাফিলতি হলো জাগ্রত অবস্থায় অবহেলা করা। কেউ সালাত ভুলে গেলে স্মরণ হলেই আদায় করবে এবং পরের দিন নির্ধারিত সময়ে পড়বে। এখানে ঘুমে সালাত ছুটে গেলে করণীয়, কাজা সালাত এবং ইচ্ছাকৃত অবহেলার পার্থক্য খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুমের কারণে সালাত ছুটে গেলে তা জাগ্রত অবস্থার অবহেলার মতো নয়।
- ভুলে গেলে বা মনে পড়লে সালাত আদায় করতে হবে।
- ফজরের দুই রাকাত সুন্নাতের পর ফরজ আদায়ের বর্ণনা আছে।
- পরের দিন সালাত নির্ধারিত সময়েই আদায় করতে বলা হয়েছে।
