৪০/২৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৪২ - গামিদী নারীর তাওবা ও বিচার
নবী (ﷺ) জুহাইনাহ গোত্রের যে মহিলাকে পাথর মারার আদেশ দিয়েছিলেন
গামিদী নারীর তাওবা ও রজমের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৪২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৪২
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً، - يَعْنِي مِنْ غَامِدَ - أَتَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ فَجَرْتُ. فَقَالَ " ارْجِعِي " . فَرَجَعَتْ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ أَتَتْهُ فَقَالَتْ لَعَلَّكَ أَنْ تَرُدَّنِي كَمَا رَدَدْتَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَحُبْلَى. فَقَالَ لَهَا " ارْجِعِي " . فَرَجَعَتْ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ أَتَتْهُ فَقَالَ لَهَا " ارْجِعِي حَتَّى تَلِدِي " . فَرَجَعَتْ فَلَمَّا وَلَدَتْ أَتَتْهُ بِالصَّبِيِّ فَقَالَتْ هَذَا قَدْ وَلَدْتُهُ. فَقَالَ لَهَا " ارْجِعِي فَأَرْضِعِيهِ حَتَّى تَفْطِمِيهِ " .فَجَاءَتْ بِهِ وَقَدْ فَطَمَتْهُ وَفِي يَدِهِ شَىْءٌ يَأْكُلُهُ فَأَمَرَ بِالصَّبِيِّ فَدُفِعَ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَأَمَرَ بِهَا فَحُفِرَ لَهَا وَأَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ وَكَانَ خَالِدٌ فِيمَنْ يَرْجُمُهَا فَرَجَمَهَا بِحَجَرٍ فَوَقَعَتْ قَطْرَةٌ مِنْ دَمِهَا عَلَى وَجْنَتِهِ فَسَبَّهَا فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ " مَهْلاً يَا خَالِدُ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا صَاحِبُ مَكْسٍ لَغُفِرَ لَهُ " . وَأَمَرَ بِهَا فَصُلِّيَ عَلَيْهَا فَدُفِنَتْ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে তার পিতা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
গামিদ গোত্রের এক নারী নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, আমি ব্যভিচার করেছি, তিনি বললেনঃ ফিরে যাও। সে ফিরে চলে গেলো। পরদিন সকালে সে আবার তাঁর নিকট এসে বললো, আপনি যেরূপ মাঈয ইবনু মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সম্ভবত আমাকেও সেরূপ ফিরিয়ে দিতে চান। আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই গর্ভবতী। তিনি এবারো তাকে ফিরে যেতে বললে সে চলে গেলো। পরদিন সে পুনরায় আসতেই তিনি বললেনঃ তুমি ফিরে যাও যতক্ষণ না সন্তান প্রসব করো। সে ফিরে গেলো।যখন সে পুত্র সন্তান প্রসব করলো, সে সেই শিশুটিকে কোলে করে নিয়ে এসে বললো, আমি এই শিশুটিকে প্রসব করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত তাকে দুধ পান করাতে থাকো। অবশেষে দুধ ছাড়ানো হলে শিশুটিকে নিয়ে সে হাজির হলো। শিশুটি খাদ্য হাতে নিয়ে খাচ্ছিল। তিনি একজন মুসলিমকে তার ছেলেটিকে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন।অতঃপর তার জন্য গর্ত খনন করতে আদেশ দিলে তা খনন করা হলো এবং পাথর মেরে হত্যার আদেশ দিলে তাকে এভাবে হত্যা করা হলো। তাকে পাথর মারার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে খালিদ (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি তাকে পাথর মারলে এক ফোঁটা রক্ত ছিটে এসে তার গালে পড়তেই তিনি তাকে গালি দেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ হে খালিদ! অনুগ্রহ করো। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! সে এরূপ তাওবাহ করেছে যে, কোন জালিম কর আদায়কারীও যদি সেরূপ তাওবাহ করতো, তাহলে অবশ্যই তাকে মাফ করা হতো। অতঃপর তাঁর আদেশে তার জানাযার সালাত পড়া হয় এবং তাকে দাফন করা হয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে গামিদ গোত্রের এক নারীর ঘটনা এসেছে। তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বারবার আসেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেননি; বরং প্রথমে ফিরে যেতে বলেন, পরে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন, এরপর শিশুকে দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত সময় দেন। এতে বোঝা যায়, বিচারকাজে তাড়াহুড়া করা হয়নি এবং শিশুর অধিকারও দেখা হয়েছে। পরে শিশু খাবার খেতে পারার অবস্থায় এলে তাকে একজন মুসলিমের কাছে দেওয়া হয়, তারপর শাস্তি কার্যকর হয়। খালিদ রা. রক্তের ফোঁটা লাগায় তাকে গালি দিলে নবী صلى الله عليه وسلم তাকে থামান এবং নারীর তাওবার প্রশংসা করেন। এখানে প্রধান শিক্ষা হলো, সত্য তাওবা আল্লাহর কাছে বড় মর্যাদার বিষয়, আর অপরাধীর ব্যাপারেও ভাষা ও আচরণে সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বীকারোক্তির ঘটনায়ও নবী صلى الله عليه وسلم ধৈর্য ও সতর্কতা দেখিয়েছেন।
- শিশুর যত্ন ও দুধ ছাড়ানোর বিষয়টি বিচারকাজে বিবেচনা করা হয়েছে।
- তাওবা এমন বিষয়, যার মর্যাদা নবী صلى الله عليه وسلم স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
- অপরাধী হলেও কাউকে গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
