২/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৫ - ধীরে সুস্থে সালাত আদায়ের শিক্ষা
কেউ সালাতের ওয়াক্তে ঘুমিয়ে থাকলে বা সালাতের কথা ভুলে গেলে
ধীরে সুস্থে সালাত আদায়: ছুটে গেলেও অস্থিরতা নয়
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৫
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ، حَدَّثَنَا مُبَشِّرٌ، - يَعْنِي الْحَلَبِيَّ - حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ - حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ ذِي، مِخْبَرٍ الْحَبَشِيِّ وَكَانَ يَخْدُمُ النَّبِيَّ ﷺ فِي هَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَتَوَضَّأَ - يَعْنِي النَّبِيَّ ﷺ - وُضُوءًا لَمْ يَلْثَ مِنْهُ التُّرَابُ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ غَيْرَ عَجِلٍ ثُمَّ قَالَ لِبِلاَلٍ " أَقِمِ الصَّلاَةَ " . ثُمَّ صَلَّى الْفَرْضَ وَهُوَ غَيْرُ عَجِلٍ . قَالَ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ صُلَيْحٍ حَدَّثَنِي ذُو مِخْبَرٍ رَجُلٌ مِنَ الْحَبَشَةِ وَقَالَ عُبَيْدٌ يَزِيدُ بْنُ صَالِحٍ .
যু-মিখ্বার আল-হাবাশী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) -এর খিদমাত করতেন। তাঁর বর্ণনায় রয়েছেঃ তখন নবী (ﷺ) এতটুকু পরিমাণ পানি দিয়ে ওজু করলেন যে, তাতে জমিন ভিজল না। অতঃপর বিলালকে নির্দেশ দিলে তিনি আযান দিলেন। নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে ধীরেসুস্থে শান্তভাবে দু’ রাকাত সুন্নাত পড়ে বিলালকে সালাতের ইক্বামাত দিতে বললেন। এরপর তিনি ধীরেসুস্থে ফরজ সালাত আদায় করালেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন একটি ঘটনার অংশ এসেছে, যেখানে নবী (صلى الله عليه وسلم) অল্প পানি দিয়ে ওজু করেন, এমনভাবে যে জমিন ভিজে যায়নি। এরপর তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে বলেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে ধীরে সুস্থে শান্তভাবে দুই রাকাত সুন্নত পড়েন। এরপর বিলাল (রাঃ)-কে ইকামত দিতে বলেন এবং ফরজ সালাতও ধীরে সুস্থে আদায় করান। এই বর্ণনা সালাত আদায়ের আদব শেখায়। বিশেষ করে যখন সালাত ঘুমে বা কোনো কারণে ছুটে যায়, তখন অনেকেই অস্থির হয়ে পড়ে। কিন্তু এই হাদিস দেখায়, সালাতের মর্যাদা বজায় রেখে, তাড়াহুড়া না করে, মনোযোগ নিয়ে আদায় করা উচিত। মূল শিক্ষা হলো—সালাত ছুটে গেলে তা আদায় করতে হবে, কিন্তু সালাতের শান্তভাব নষ্ট করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত আদায়ের সময় অকারণ তাড়াহুড়া করা উচিত নয়।
- ওজু, আযান, সুন্নত ও ফরজ—সবই শান্তভাবে করা হয়েছে।
- অল্প পানি দিয়েও ওজু করা হয়েছে, অপচয়ের ইঙ্গিত নেই।
