৪০/৩৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৭৫ - অশ্লীল কথা রটানোর শাস্তি
ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ দাতার শাস্তি
অশ্লীল কথা রটানো ও হদের সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৭৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৭৫
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ لَمْ يَذْكُرْ عَائِشَةَ قَالَ فَأَمَرَ بِرَجُلَيْنِ وَامْرَأَةٍ مِمَّنْ تَكَلَّمَ بِالْفَاحِشَةِ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ وَمِسْطَحِ بْنِ أُثَاثَةَ . قَالَ النُّفَيْلِيُّ وَيَقُولُونَ الْمَرْأَةُ حَمْنَةُ بِنْتُ جَحْشٍ .
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব (রহঃ) সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তবে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেনঃ যারা অশ্লীল কথা রটিয়েছিল, তিনি তাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও একজন নারী সম্পর্কে আদেশ দেন। পুরুষ দু’জন হলোঃ হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) ও মিসত্বাহ ইবনু উসাসাহ (রাঃ)। নুফাইলী (রহঃ) বলেন, তারা বলতেনঃ মহিলাটি হলো হামনা বিনতু জাহ্শ (রাঃ)।
[৪৪৭৪] এর পূর্বেরটি দেখুন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের ঘটনার অনুরূপ বর্ণনা এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, যারা অশ্লীল কথা রটিয়েছিল, তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুরুষ দুজনের নাম এসেছে হাসান ইবনু সাবিত ও মিসতাহ ইবনু উসাসা। নুফাইলী বলেন, তারা বলতেন, মহিলাটি ছিলেন হামনা বিনত জাহশ। এই বর্ণনা দেখায় যে, অপবাদ শুধু ব্যক্তিগত ভুল কথা নয়; সমাজে তা বড় ক্ষতি ছড়ায়। কারও চরিত্র নিয়ে মিথ্যা বা অশ্লীল কথা ছড়ানো ইসলামে গুরুতর অপরাধ। তবে হাদিসের ভাষা বিচারিক শাস্তির, তাই এটি ব্যক্তিগত গালি, প্রতিশোধ বা সামাজিক হেনস্তার অনুমতি নয়। মূল শিক্ষা হলো, মুখের কথা নিয়ন্ত্রণ করা, মানুষের সম্মান রক্ষা করা এবং অভিযোগে প্রমাণ ছাড়া কথা না বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অশ্লীল কথা রটানো গুরুতর অপরাধ হিসেবে এসেছে।
- মানুষের সম্মান রক্ষা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
- অভিযোগে প্রমাণ ছাড়া কথা বলা বিপজ্জনক।
- বিচারিক শাস্তি ব্যক্তিগত প্রতিশোধের বিষয় নয়।
