৪১/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৯৪ - কিসাসে ন্যায়বিচার
হত্যার বদলে হত্যা
কিসাসে ইনসাফ: প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৯৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৯৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - عَنْ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ قُرَيْظَةُ وَالنَّضِيرُ - وَكَانَ النَّضِيرُ أَشْرَفَ مِنْ قُرَيْظَةَ - فَكَانَ إِذَا قَتَلَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْظَةَ رَجُلاً مِنَ النَّضِيرِ قُتِلَ بِهِ وَإِذَا قَتَلَ رَجُلٌ مِنَ النَّضِيرِ رَجُلاً مِنْ قُرَيْظَةَ فُودِيَ بِمِائَةِ وَسْقٍ مِنْ تَمْرٍ فَلَمَّا بُعِثَ النَّبِيُّ ﷺ قَتَلَ رَجُلٌ مِنَ النَّضِيرِ رَجُلاً مِنْ قُرَيْظَةَ فَقَالُوا ادْفَعُوهُ إِلَيْنَا نَقْتُلْهُ .فَقَالُوا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ النَّبِيُّ ﷺ فَأَتَوْهُ فَنَزَلَتْ ﴾وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ﴿ وَالْقِسْطُ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ ثُمَّ نَزَلَتْ { أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ﴿. قَالَ أَبُو دَاوُدَ قُرَيْظَةُ وَالنَّضِيرُ جَمِيعًا مِنْ وَلَدِ هَارُونَ النَّبِيِّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বনু কুরাইযাহ ও বনু নাযীর নামে দু’টি (ইয়াহুদী) গোত্র ছিল। নাযীর গোত্র কুরাইযাহর চেয়ে অধিক মর্যাদার দাবিদার ছিল। এজন্য যখন কুরাইযার কোনো লোক নাযীর গোত্রের কোনো লোককে হত্যা করতো বিনিময়ে তাকেও হত্যা করা হতো। কিন্তু যখন নাযীর গোত্রের কোনো ব্যক্তি কুরাইযার কোনো লোক হত্যা করতো তখন একশো ওয়াসাক খেজুরের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করা হতো।অতঃপর নবী (ﷺ) যখন নবুওয়াত লাভ করলেন, তখন নাযীর গোত্রীয় এক ব্যক্তি কুরাইযার এক লোককে হত্যা করলে কুরাইযার লোকেরা বললো, হত্যাকারীকে আমাদের হাতে সমর্পণ করো; আমরা তাকে হত্যা করবো। কিন্তু পুরাতন প্রথানুযায়ী এ প্রস্তাবে বনী নাযীর অসম্মতি জানালে তারা বললো, আমাদের ও তোমাদের মাঝে নবী (ﷺ) রয়েছেন।তারপর তারা তাঁর (ﷺ) নিকট উপস্থিত হলে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ “যদি তুমি তাদের মধ্যে ফয়সালা করো, তাহলে ইনসাফের সঙ্গে ফয়সালা করবে” (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৪২)। ইনসাফ হলো প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ। অতঃপর নাযিল হলোঃ “তবে কি তারা জাহিলী যুগের বিধিবিধান কামনা করে (সূরা আল-মায়িদাহঃ ৫০)।
ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বনু কুরাইযাহ ও বনু নাযীর সকলেই নবী হারূন (আঃ)-এর বংশধর।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বনী কুরাইযা ও বনী নযীরের মধ্যে কিসাসের বৈষম্যের কথা এসেছে। নযীর গোত্র নিজেদের কুরাইযার চেয়ে মর্যাদাবান মনে করত। তাই কুরাইযার কেউ নযীরের কাউকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা হতো; কিন্তু নযীরের কেউ কুরাইযার কাউকে হত্যা করলে শুধু খেজুরের মুক্তিপণ নেওয়া হতো। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষয়টি এলে আয়াত নাজিল হয়—ফয়সালা করলে ইনসাফের সঙ্গে ফয়সালা করতে হবে। বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইনসাফ হলো প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ। এরপর আরেক আয়াতে জাহিলী যুগের বিধান চাওয়ার নিন্দা এসেছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, বিচার জাত, গোত্র বা মর্যাদার নামে আলাদা হতে পারে না। কিসাসে ন্যায়বিচার সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে গোত্র, মর্যাদা বা ক্ষমতার ভিত্তিতে বৈষম্য করা ঠিক নয়।
- কিসাসের ক্ষেত্রে ইনসাফের মূল কথা প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ।
- জাহিলী প্রথার বদলে ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা জরুরি।
- বিচার করতে হলে ন্যায় ও সমতা বজায় রাখতে হবে।
