৪২/১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৮৩ - মুমিন ও মুসলিম পরিচয়ের সূক্ষ্ম পার্থক্য
ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের দলিল
মুমিন ও মুসলিম পরিচয়ের সূক্ষ্ম পার্থক্য
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৬৮৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৬৮৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، قَالَ وَأَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رِجَالاً وَلَمْ يُعْطِ رَجُلاً مِنْهُمْ شَيْئًا فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْطَيْتَ فُلاَنًا وَفُلاَنًا وَلَمْ تُعْطِ فُلاَنًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " أَوْ مُسْلِمٌ " . حَتَّى أَعَادَهَا سَعْدٌ ثَلاَثًا وَالنَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ " أَوْ مُسْلِمٌ " . ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنِّي أُعْطِي رِجَالاً وَأَدَعُ مَنْ هُوَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُمْ لاَ أُعْطِيهِ شَيْئًا مَخَافَةَ أَنْ يُكَبُّوا فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ " .
আমির ইবনু সা'দ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কিছু মালামাল বণ্টন করছিলেন। আমি তাঁর নিকট অনুরোধ করলাম যে, অমুক ব্যক্তিকে দিন, কেননা সে মুমিন। তিনি বললেন, অথবা মুসলিম। আমি ঐ ব্যক্তিকে কোন অনুদান দেয়ার চেয়ে সেই সব লোকদেরকে দেয়া পছন্দ করি যাদেরকে না দিলে (মুরতাদ হয়ে যাবে) পরিণামে তাদের মুখের উপর হেঁচড়িয়ে টেনে নেয়া হবে (জাহান্নামে যাবে)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, নবী صلى الله عليه وسلم কিছু মালামাল বণ্টন করছিলেন। সা‘দ (রা.) একজন ব্যক্তির জন্য অনুরোধ করে বলেন, তিনি মুমিন। নবীজি صلى الله عليه وسلم উত্তর দেন, অথবা মুসলিম। এই কথাটি বারবার বলা হয়। এতে বোঝা যায়, কারও ভেতরের ঈমান সম্পর্কে নিশ্চিত ভাষায় কথা বলা খুব সতর্কতার বিষয়। বাহ্যিকভাবে একজনকে মুসলিম বলা যায়, কিন্তু তার অন্তরের ঈমানের পূর্ণ অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন। এরপর নবীজি صلى الله عليه وسلم বণ্টনের আরেকটি হিকমত বলেন। তিনি কখনও এমন লোকদের দিতেন, যাদের না দিলে তাদের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, আর প্রিয় ব্যক্তিদের না-ও দিতেন। এই হাদিসে দান বণ্টনের হিকমত, ঈমান ও ইসলাম, মুসলিম পরিচয় এবং মানুষের অন্তর সম্পর্কে সতর্কতার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও অন্তরের ঈমান সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করতে সতর্ক থাকা দরকার।
- বাহ্যিক পরিচয়ে কাউকে মুসলিম বলা যায়, কিন্তু অন্তরের অবস্থা আল্লাহ জানেন।
- নবীজি صلى الله عليه وسلم দান বণ্টনে মানুষের দ্বীনি অবস্থার ঝুঁকিও বিবেচনা করতেন।
- সবসময় বেশি প্রিয় ব্যক্তি বেশি দান পাবেন—এমন নিয়ম নয়।
