৪২/২৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৭৫৫ - কিয়ামতের তিন কঠিন স্থান
মীযান প্রসঙ্গ
কিয়ামতের তিন স্থান: মীযান, আমলনামা ও সিরাত
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৭৫৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৭৫৫
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، : أَنَّهَا ذَكَرَتِ النَّارَ فَبَكَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «مَا يُبْكِيكِ» .قَالَتْ : ذَكَرْتُ النَّارَ فَبَكَيْتُ، فَهَلْ تَذْكُرُونَ أَهْلِيكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : " أَمَّا فِي ثَلاَثَةِ مَوَاطِنَ فَلاَ يَذْكُرُ أَحَدٌ أَحَدًا : عِنْدَ الْمِيزَانِ حَتَّى يَعْلَمَ أَيَخِفُّ مِيزَانُهُ أَوْ يَثْقُلُ، وَعِنْدَ الْكِتَابِ حِينَ يُقَالُ ﴾ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ ﴿ حَتَّى يَعْلَمَ أَيْنَ يَقَعُ كِتَابُهُ أَفِي يَمِينِهِ أَمْ فِي شِمَالِهِ أَمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ، وَعِنْدَ الصِّرَاطِ إِذَا وُضِعَ بَيْنَ ظَهْرَىْ جَهَنَّمَ " .قَالَ يَعْقُوبُ : عَنْ يُونُسَ وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِهِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা তিনি জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কাঁদছো কেন? তিনি বললেন, জাহান্নামের কথা স্মরণ হওয়ায় কাঁদছি। আপনি কি কিয়ামতের দিন আপনার পরিবারের কথা মনে রাখবেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ অবশ্য তিনটি স্থান যেখানে কেউ কারো কথা স্মরণ রাখবে না। মীযানের নিকট, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জানতে পারবে তার আমলের পরিমাণ কম হবে নাকি বেশি; আমলনামা প্রাপ্তির স্থান, যখন বলা হবে, “তোমার আমলনামা পাঠ করো” (সূরা আল-হাক্কাহঃ ১৯); কেননা তখন সবাই পেরেশান থাকবে যে, তার আমলনামা ডান হাতে পাচ্ছে নাকি বাম হাতে পাচ্ছে নাকি পিছন দিক হতে পাচ্ছে; আর পুলসিরাতের নিকট, যখন তা জাহান্নামের উপর প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
[৪৭৫৪] আহমাদ। বর্ণনাকারী হাসান হাদীসটি ‘আয়িশাহ হতে শুনেননি। কাজেই তা মুরসাল।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৭৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের তিনটি কঠিন অবস্থার কথা এসেছে। আয়েশা (রাঃ) জাহান্নামের কথা মনে করে কাঁদেন এবং জিজ্ঞেস করেন, কিয়ামতের দিন পরিবারকে কি মনে রাখা হবে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনটি স্থানে কেউ কাউকে স্মরণ রাখবে না। প্রথম হলো মীযানের কাছে, যতক্ষণ না সে জানতে পারে তার আমলের পাল্লা হালকা হবে নাকি ভারী। দ্বিতীয় হলো আমলনামা পাওয়ার সময়, যখন মানুষ দুশ্চিন্তায় থাকবে সে ডান হাতে, বাম হাতে নাকি পেছন দিক থেকে আমলনামা পাবে। তৃতীয় হলো পুলসিরাতের কাছে, যখন তা জাহান্নামের উপর স্থাপন করা হবে। এই হাদিস কিয়ামতের ভয়, আমলের হিসাব, মীযান, আমলনামা ও সিরাত নিয়ে সতর্ক করে। তবে এতে নিরাশা নয়, বরং প্রস্তুতির শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিয়ামতের দিন কিছু অবস্থায় মানুষ নিজের পরিণতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
- মীযান, আমলনামা ও পুলসিরাত অত্যন্ত গুরুতর স্থান।
- জাহান্নামের স্মরণ মানুষের অন্তরে ভয় ও সতর্কতা আনতে পারে।
- আখিরাতের জন্য আমল ও ঈমান নিয়ে প্রস্তুত থাকা দরকার।
