৪২/৩০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৭৬১ - অন্যায়কে অন্তরে ঘৃণা করার শিক্ষা
খারিজীদের সম্পর্কে
অন্যায়কে অন্তরে ঘৃণা করার ঈমানী শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৭৬১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৭৬১
حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ ضَبَّةَ بْنِ مِحْصَنٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ بِمَعْنَاهُ قَالَ : «فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ، وَمَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ». قَالَ قَتَادَةُ : يَعْنِي مَنْ أَنْكَرَ بِقَلْبِهِ، وَمَنْ كَرِهَ بِقَلْبِهِ .
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তা ঘৃণা করলো সে দায়িত্বমুক্ত হলো। যে ব্যক্তি তা অপছন্দ করলো সে মুক্ত হলো। ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে ঘৃণা করলো এবং যে ব্যক্তি তার অন্তর দিয়ে অপছন্দ করলো।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৭৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অন্যায় বা অপছন্দনীয় কাজের সামনে মুমিনের অন্তরের অবস্থার কথা বলা হয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি তা ঘৃণা করলো সে দায়িত্বমুক্ত হলো, আর যে ব্যক্তি তা অপছন্দ করলো সে মুক্ত হলো। কাতাদাহ (রহঃ) বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন, এখানে উদ্দেশ্য হলো অন্তর দিয়ে ঘৃণা করা এবং অন্তর দিয়ে অপছন্দ করা। তাই হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, সব সময় মানুষ হাতে বা কথায় প্রতিবাদ করতে পারে না; কিন্তু অন্তরে অন্যায়কে মেনে নেওয়া ঠিক নয়। অন্তরের প্রতিবাদ, অন্যায়কে ঘৃণা করা এবং সত্যের পক্ষে মনকে জাগ্রত রাখা—এসব বিষয় এই বর্ণনায় সরাসরি উঠে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায়কে অন্তরে ঘৃণা করাও ঈমানী অবস্থানের অংশ।
- সব সময় প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব না হলেও অন্তরে অপছন্দ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
- ভুলকে স্বাভাবিক মনে করা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার।
- অন্তরের অবস্থাও আল্লাহর কাছে মূল্যবান।
