৪৩/১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৭৭৩ - নবীজির কোমল আচরণ ও ধৈর্য

নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহনশীলতা ও চরিত্র সম্পর্কে

নবীজির উত্তম চরিত্র: হাসিমুখ ও কোমল আচরণ

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৭৭৩

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ الشَّعِيرِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ عَمَّارٍ - قَالَ حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ - قَالَ قَالَ أَنَسٌ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ خُلُقًا فَأَرْسَلَنِي يَوْمًا لِحَاجَةٍ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لاَ أَذْهَبُ . وَفِي نَفْسِي أَنْ أَذْهَبَ لِمَا أَمَرَنِي بِهِ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ .قَالَ فَخَرَجْتُ حَتَّى أَمُرَّ عَلَى صِبْيَانٍ وَهُمْ يَلْعَبُونَ فِي السُّوقِ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَابِضٌ بِقَفَاىَ مِنْ وَرَائِي فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَ «يَا أُنَيْسُ اذْهَبْ حَيْثُ أَمَرْتُكَ». قُلْتُ نَعَمْ أَنَا أَذْهَبُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ أَنَسٌ وَاللَّهِ لَقَدْ خَدَمْتُهُ سَبْعَ سِنِينَ أَوْ تِسْعَ سِنِينَ مَا عَلِمْتُ قَالَ لِشَىْءٍ صَنَعْتُ لِمَ فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا . وَلاَ لِشَىْءٍ تَرَكْتُ هَلاَّ فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসুলাল্লাহ (ﷺ) চরিত্রের দিক হতে সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। একদিন তিনি আমাকে কোনো দরকারে পাঠালেন। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যাবো না। কিন্তু আমার অন্তরে ছিলো যে, নবী (ﷺ) আমাকে যে প্রয়োজনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে যাবো। আনাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি রওয়ানা হয়ে বাজারে খেলাধুলারত বালকদের কাছ দিয়ে যেতে খেলায় লিপ্ত হলাম। হঠাৎ পিছন দিক হতে রাসুলাল্লাহ (ﷺ) এসে আমার ঘাড় ধরলেন। পিছন দিকে ফিরে দেখি তিনি হাসছেন। তিনি বললেন, হে উনাইস! আমি তোমাকে যেখানে যেতে বলেছি তুমি সেখানে যাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! হ্যাঁ, এইতো যাচ্ছি।আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি সাত বছর অথবা নয় বছর তাঁর খেদমত করেছি; কিন্তু আমার মনে পড়ছে না যে, তিনি আমার কোনো কাজের জন্য আমাকে বলেছেনঃ তুমি এটা কেনো করলে? অথবা কোনো কাজ না করলে তিনি আমার কৈফিয়ত তালাশ করেননি, এ কাজ কেনো করলে না।

[৪৭৭২] মুসলিম।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৭৭৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চরিত্রের এক সুন্দর দিক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চরিত্রে সর্বোত্তম ছিলেন। একদিন তিনি আনাস (রাঃ)-কে একটি কাজে পাঠান। আনাস মুখে বলেন, যাব না; কিন্তু মনে ছিল যাবেন। পথে শিশুদের খেলায় তিনি কিছুটা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) পেছন থেকে এসে তাঁর ঘাড় ধরেন, আর তিনি তাকিয়ে দেখেন নবী (صلى الله عليه وسلم) হাসছেন। তিনি কোমলভাবে বলেন, হে উনাইস, যেখানে যেতে বলেছি সেখানে যাও। আনাস (রাঃ) জানান, তিনি সাত বা নয় বছর খিদমত করেছেন, কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কোনো কাজের জন্য কঠোর জবাব চাননি। হাদিসটি কোমল আচরণ, ধৈর্য ও সুন্দর ব্যবহারের বড় শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শিশু বা ছোটদের সঙ্গে কোমল আচরণ করা নবীজির আদব।
  • ভুল হলে সব সময় কঠোর ভাষা ব্যবহার করা দরকার নয়।
  • হাসিমুখে বলা কথা অনেক সময় বেশি প্রভাব ফেলে।
  • সেবক বা অধীনদের প্রতি ধৈর্যশীল হওয়া উত্তম চরিত্র।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন