১/২৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮ - প্রতি সালাতে ওযু ও মিসওয়াকের শিক্ষা
মিসওয়াক করা
প্রতি সালাতে ওযু ও মিসওয়াক: সামর্থ্য ও আমলের ভারসাম্য
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قُلْتُ أَرَأَيْتَ تَوَضُّؤَ ابْنِ عُمَرَ لِكُلِّ صَلاَةٍ طَاهِرًا وَغَيْرَ طَاهِرٍ عَمَّ ذَاكَ فَقَالَ حَدَّثَتْنِيهِ أَسْمَاءُ بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي عَامِرٍ حَدَّثَهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أُمِرَ بِالْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلاَةٍ طَاهِرًا وَغَيْرَ طَاهِرٍ فَلَمَّا شَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ أُمِرَ بِالسِّوَاكِ لِكُلِّ صَلاَةٍ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَرَى أَنَّ بِهِ قُوَّةً فَكَانَ لاَ يَدَعُ الْوُضُوءَ لِكُلِّ صَلاَةٍ .قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহিয়া ইবনু হাব্বান তার নিকট জিজ্ঞেস করেছিলেন, ওজু থাকুক বা না থাকুক প্রত্যেক সালাতের পূর্বেই যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) ওজু করে থাকেন তার কারণ কী? জবাবে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, যায়িদ ইবনুল খাত্তাবের কন্যা আসমা এ মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানযালাহ তাঁকে বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে প্রত্যেক সালাতের পূর্বে ওজু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল– তাঁর ওজু থাকুক বা না থাকুক। তাঁর জন্য যখন এটা কষ্টকর হয়ে পড়ল, তখন তাঁকে সালাতের পূর্বে কেবল মিসওয়াক করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) নিজের সক্ষমতা অনুভব করে কোন সালাতের জন্যই ওজু ত্যাগ করতেন না।
এ অনুচ্ছেদের হাদীস থেকে শিক্ষাঃ১। প্রত্যেক সালাতের জন্য নতুনভাবে ওজু করা মুস্তাহাব।২। মিসওয়াক করার প্রতি গুরুত্বদান। বিশেষ করে সালাতের প্রাক্কালে।৩। আল্লাহ স্বীয় ইচ্ছা মোতাবেক যেকোন হুকুম রহিত করেন এবং যেকোন হুকুম প্রতিষ্ঠা করেন৪। নাবী (ﷺ) স্বীয় উম্মাতের প্রতি দয়াশীল।৫। ‘ইশার সালাত বিলম্বে আদায় করা মুস্তাহাব।৬। কলমের ন্যায় কানের নীচে মিসওয়াক রাখা যাবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রতি সালাতের আগে ওযু এবং মিসওয়াক নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) ওযু থাকুক বা না থাকুক, প্রত্যেক সালাতের আগে ওযু করতেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি একটি বর্ণনার কথা বলেন। তাতে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে প্রত্যেক সালাতের আগে ওযু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, উযু থাকুক বা না থাকুক। পরে যখন এটি তাঁর জন্য কষ্টকর হলো, তখন তাঁকে সালাতের আগে কেবল মিসওয়াক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইবনু উমর (রাঃ) নিজের সামর্থ্য দেখে কোনো সালাতের জন্য ওযু ছাড়তেন না। এই হাদিসে সামর্থ্য, কষ্ট, ওযু এবং মিসওয়াক—সব বিষয়ই আছে। এখানে ব্যক্তিগত আগ্রহের সঙ্গে শরিয়তের সহজতার সম্পর্ক বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্য থাকলে ভালো আমলে যত্ন নেওয়া যায়।
- কষ্টকর হলে সহজ নির্দেশের দিকও হাদিসে এসেছে।
- সালাতের আগে মিসওয়াকের গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট।
- ইবনু উমর (রাঃ) নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ওযু করতেন।
