৪৩/৩৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৬৯ - মজলিসের গোপনীয়তা ও সীমা
কথাও এক ধরনের আমানত
মজলিস আমানত, তবে অন্যায়ের মজলিস নয়
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৮৬৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৮৬৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ ابْنِ أَخِي، جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الْمَجَالِسُ بِالأَمَانَةِ إِلاَّ ثَلاَثَةَ مَجَالِسَ سَفْكُ دَمٍ حَرَامٍ أَوْ فَرْجٌ حَرَامٌ أَوِ اقْتِطَاعُ مَالٍ بِغَيْرِ حَقٍّ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সকল মজলিস আমানতস্বরূপ, তবে তিনটি মজলিস ব্যতীত(১) অবৈধভাবে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত মজলিস অথবা(২) যেনার মজলিস অথবা(৩) অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করার মজলিস।
সানাদে জাবিরের ভাতিজার জাহালাতের কারণে এর সানাদ দুর্বল।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মজলিসের গোপনীয়তা সম্পর্কে বলেন, সকল মজলিস আমানতস্বরূপ। অর্থাৎ কোনো বৈঠকে মানুষ যে কথা বলে, তা সাধারণভাবে বিশ্বাসের ভিত্তিতে বলা হয়। কিন্তু হাদিসে তিনটি ব্যতিক্রম এসেছে: অবৈধভাবে কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মজলিস, যিনার মজলিস এবং অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করার মজলিস। এতে বোঝা যায়, গোপনীয়তা ভালো, কিন্তু অন্যায় কাজ লুকানোর জন্য গোপনীয়তা ব্যবহার করা যায় না। মজলিসের আমানত রক্ষা করা যেমন দরকার, তেমনি অন্যায়ের পরিকল্পনা হলে তা আমানতের নামে চাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। এই হাদিস কথাবার্তার দায়িত্ব ও নৈতিক সীমা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাধারণ বৈঠকের কথা আমানত হিসেবে রক্ষা করা উচিত।
- অন্যায়ের পরিকল্পনা গোপনীয়তার অধিকার পায় না।
- হত্যা, যিনা ও অন্যায় সম্পদ দখল গুরুতর অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
- মজলিসের আদব মানে সত্য ও ন্যায়ের সীমাও মানা।
