৪৩/৪২. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৮৫ - রহমতকে সংকীর্ণ না করার শিক্ষা

যে ব্যক্তির দোষ চর্চা গীবত নয়

আল্লাহর রহমতকে সংকীর্ণ না করার নববী শিক্ষা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৮৮৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، مِنْ كِتَابِهِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجُشَمِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا جُنْدُبٌ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَأَنَاخَ رَاحِلَتَهُ ثُمَّ عَقَلَهَا ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَتَى رَاحِلَتَهُ فَأَطْلَقَهَا ثُمَّ رَكِبَ ثُمَّ نَادَى اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا وَلاَ تُشْرِكْ فِي رَحْمَتِنَا أَحَدًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَتَقُولُونَ هُوَ أَضَلُّ أَمْ بَعِيرُهُ أَلَمْ تَسْمَعُوا إِلَى مَا قَالَ " . قَالُوا بَلَى.

জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা এক বেদুঈন আসলো এবং তার উট বসিয়ে তা রশি দিয়ে বেঁধে মসজিদে প্রবেশ করলো এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর পিছনে সালাত আদায় করলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ফিরালে সে তার উটের নিকট এসে তার বাঁধন খুলে তাতে আরোহণ করলো, অতঃপর উচ্চ আওয়াজে বললো, হে আল্লাহ! আমাকে ও মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে দয়া করুন এবং আমাদের দয়ার সঙ্গে কাউকে শরীক করবেন না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বলো দেখি, সে বেশি মূর্খ নাকি তার উট? সে কি বলেছে তোমরা কি তা শুনোনি? সাহাবীগণ বললেন, হাঁ, শুনেছি। [৪৮৮৩]

[৪৮৮৩] আহমাদ। বর্ণনাকারী জুরাইরীর শাইখ অজ্ঞাত। “ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বলো দেখি, সে বেশি মূর্খ না তার উট? ...।” এ অংশটি বাদে বর্ণনাটি সহীহ। অথবা দুর্বল, এ অংশে অতিরিক্ত যোগে : “ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বলো দেখি, সে বেশি মূর্খ না তার উট? ...।”

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৮৫-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় একজন বেদুঈনের ঘটনা এসেছে। তিনি মসজিদে এসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পেছনে সালাত আদায় করেন। সালাম ফেরানোর পর উটে উঠে উচ্চ স্বরে দোয়া করেন—হে আল্লাহ, আমাকে ও মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-কে দয়া করুন এবং আমাদের দয়ার সঙ্গে কাউকে শরীক করবেন না। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর কথার দিকে সাহাবীদের দৃষ্টি টানেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর রহমতকে নিজের বা ছোট কোনো গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ভাবা ঠিক নয়। দোয়া করার সময় নিজের জন্য চাওয়া ভালো, কিন্তু অন্য মুমিনদের বাদ দেওয়ার মানসিকতা সুন্দর নয়। বর্ণনার শেষের কিছু অংশ সম্পর্কে দুর্বলতার ইঙ্গিত আছে, তাই ব্যাখ্যাকে মূল কথার মধ্যেই রাখা নিরাপদ। এই হাদিস আমাদের শেখায়—রহমত চাইতে হবে, কিন্তু সংকীর্ণ মন নিয়ে নয়; আল্লাহর দয়া অনেক প্রশস্ত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দোয়ার ভাষায় সংকীর্ণতা না রেখে আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা মনে রাখা দরকার।
  • নিজের জন্য রহমত চাওয়ার পাশাপাশি অন্যদের বাদ দেওয়ার মনোভাব ভালো নয়।
  • নবী صلى الله عليه وسلم ভুল দোয়ার ভাব দেখলে সাহাবীদের তা বুঝিয়ে দিতেন।
  • বর্ণনার দুর্বল অংশ থাকলে মূল সহীহ অর্থের বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন