৪৩/৪৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৯০ - প্রকাশ্য অন্যায় ও গোপন অনুসন্ধান
ছিদ্রান্বেষণ নিষেধ
গোয়েন্দাগিরি নয়, প্রকাশ্য অন্যায়ের জবাবদিহি
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৮৯০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৮৯০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ أُتِيَ ابْنُ مَسْعُودٍ فَقِيلَ هَذَا فُلاَنٌ تَقْطُرُ لِحْيَتُهُ خَمْرًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّا قَدْ نُهِينَا عَنِ التَّجَسُّسِ وَلَكِنْ إِنْ يَظْهَرْ لَنَا شَىْءٌ نَأْخُذْ بِهِ.
যায়িদ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা এক ব্যক্তিকে ইবনু মাস‘ঊদের (রাঃ) নিকট এনে বলা হলো, এ সেই লোক যার দাড়ি থেকে মদ টপকে পড়ছে। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমাদের জন্য গোয়েন্দাগিরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু যদি প্রকাশ্যে কোন অন্যায় আমাদের সামনে ধরা পড়ে তাহলে এজন্য আমরা তাকে ধরবো।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে এক ব্যক্তিকে আনা হলো এবং বলা হলো, তার দাড়ি থেকে মদ টপকে পড়ছে। তিনি বললেন, আমাদের জন্য গোয়েন্দাগিরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে কোনো বিষয় প্রকাশ্যে আমাদের সামনে ধরা পড়লে আমরা তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেব। এখানে খুব সুন্দর ভারসাম্য আছে। ইসলাম গোপন দোষ খুঁজে বেড়ানোকে সমর্থন করে না। মানুষকে লুকিয়ে অনুসরণ করা, ব্যক্তিগত বিষয় টেনে বের করা, সন্দেহের ভিত্তিতে অপমান করা—এসব নিন্দনীয়। কিন্তু এর মানে প্রকাশ্য অন্যায় দেখেও চুপ থাকা নয়। প্রকাশ্য বিষয় সামনে এলে দায়িত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা হতে পারে। তাই দোষ গোপন রাখা, নসিহত করা, এবং প্রকাশ্য অন্যায়ের ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ—এগুলো আলাদা বিষয়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, মুসলিমের সম্মান রক্ষা ও ন্যায়বোধ একসাথে চলতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোপন দোষ বের করার জন্য গোয়েন্দাগিরি করা নিষিদ্ধ আচরণের মধ্যে পড়ে।
- প্রকাশ্য অন্যায় সামনে এলে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
- সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অপমান করা ঠিক নয়।
- সম্মান রক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মধ্যে ভারসাম্য দরকার।
