৪৩/৫২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯০৪ - দ্বীনে অযথা কঠোরতা ও হিংসার ক্ষতি
হিংসা-বিদ্বেষ
দ্বীনে অযথা কঠোরতা ও হিংসার সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৯০৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৯০৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الْعَمْيَاءِ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ أَبِي أُمَامَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، دَخَلَ هُوَ وَأَبُوهُ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بِالْمَدِينَةِ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فَإِذَا هُوَ يُصَلِّي صَلاَةً خَفِيفَةً دَقِيقَةً كَأَنَّهَا صَلاَةُ مُسَافِرٍ أَوْ قَرِيبًا مِنْهَا فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ أَبِي يَرْحَمُكَ اللَّهُ أَرَأَيْتَ هَذِهِ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ أَوْ شَىْءٌ تَنَفَّلْتَهُ قَالَ إِنَّهَا الْمَكْتُوبَةُ وَإِنَّهَا لَصَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا أَخْطَأْتُ إِلاَّ شَيْئًا سَهَوْتُ عَنْهُ - فَقَالَ - إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يَقُولُ " لاَ تُشَدِّدُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ فَيُشَدَّدَ عَلَيْكُمْ فَإِنَّ قَوْمًا شَدَّدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ فَشَدَّدَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ فَتِلْكَ بَقَايَاهُمْ فِي الصَّوَامِعِ وَالدِّيَارِ ﴾ رَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ ﴿ " . ثُمَّ غَدَا مِنَ الْغَدِ فَقَالَ أَلاَ تَرْكَبُ لِتَنْظُرَ وَلِتَعْتَبِرَ قَالَ نَعَمْ فَرَكِبُوا جَمِيعًا فَإِذَا هُمْ بِدِيَارٍ بَادَ أَهْلُهَا وَانْقَضَوْا وَفَنَوْا خَاوِيَةً عَلَى عُرُوشِهَا فَقَالَ «أَتَعْرِفُ هَذِهِ الدِّيَارَ " . فَقُلْتُ مَا أَعْرَفَنِي بِهَا وَبِأَهْلِهَا هَذِهِ دِيَارُ قَوْمٍ أَهْلَكَهُمُ الْبَغْىُ وَالْحَسَدُ إِنَّ الْحَسَدَ يُطْفِئُ نُورَ الْحَسَنَاتِ وَالْبَغْىُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ أَوْ يُكَذِّبُهُ وَالْعَيْنُ تَزْنِي وَالْكَفُّ وَالْقَدَمُ وَالْجَسَدُ وَاللِّسَانُ وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ أَوْ يُكَذِّبُهُ .
সাহল ইবনু আবূ উমামাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ও তার পিতা ‘উমর ইবনু ‘আবদুল ‘আযীযের মাদীনার আমীর থাকাকালে মাদীনায় আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি খুবই সংক্ষেপে সালাত আদায় করলেন, যেন তা মুসাফিরের সালাত বা প্রায় অনুরূপ। তিনি সালাম ফিরানোর পর আমার পিতা প্রশ্ন করলেন, আল্লাহ আপনার প্রতি সদয় হোন! আমাকে বলুন, এটা কি ফরজ সালাত না নফল সালাত? তিনি বলেন, এটা ফরজ সালাত এবং তা অবশ্যই রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত। আমি ভুল করিনি, তবে তার যতোটুকু বিস্মৃত হয়েছি।তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলতেনঃ তোমরা নিজেদের উপর কঠিন করো না; ফলে তোমাদের উপর কঠোরতা চাপিয়ে দেয়া হবে। অতীতে এক সম্প্রদায় নিজেদের জন্য কঠোরতা অবলম্বন করেছিল, ফলে আল্লাহও তাদের উপর কঠোর বিধান চাপিয়ে দেন। অতঃপর তাদের শেষ উত্তরসুরি দৃষ্টিগোচর হয় মাঠে ও নির্জন ঘরে।“কিন্তু সন্ন্যাসবাদ, তারা নিজেরাই তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অবলম্বন করেছিল। আমি তাদেরকে এ বিধান দেইনি” (সূরা হাদীদঃ ২৭)।পরবর্তী দিন সকালে তিনি গিয়ে বল্লেন,উপদেশ গ্রহণ করতে পারো? অতএব তারা সদলবলে সফর করলেন এবং একটি এলাকায় পৌঁছালেন যার অধিবাসীরা ধবংসপ্রাপ্ত হয়েছে, অতীতের মধ্যে বিলীন হয়েছে এবং বাসস্থানের ছাদসহ ধবংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, তুমি কি এ জনপদ চিনতে পেরেছো? তিনি বলেন, এ হলো সেই জাতির জনপদ যাদের স্বৈরাচারীতা ও হিংসা-বিদ্বেষ তাদের ধবংস করেছে। নিশ্চয়ই হিংসা নেক কাজের নূরকে নিভিয়ে দেয় এবং স্বৈরাচার তাকে সত্যে বা মিথ্যায় পরিণত করে। চোখ যেনা করে এবং হাত-পা, শরীর, জবান ও লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবায়িত করে অথবা ত্যাগ করে।
[৪৯০২] সানাদের সাঈদ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। প্রথমে আনাস ইবনু মালিক রা. সংক্ষেপে ফরজ সালাত আদায় করেন এবং বলেন, এটি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাত। এরপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আমাদের বলতেন—নিজেদের উপর কঠোরতা করো না; নইলে তোমাদের উপর কঠোরতা চাপিয়ে দেওয়া হবে। অতীতে এক সম্প্রদায় নিজেদের জন্য এমন কঠোরতা নিয়েছিল, যা তাদের উপর ছিল না। বর্ণনার পরের অংশে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদের কথা আসে, যাদের ধ্বংসের কারণ হিসেবে স্বৈরাচারিতা ও হিংসা-বিদ্বেষের কথা বলা হয়। এখানে হিংসা নেক কাজের নূর নিভিয়ে দেওয়ার কথা এসেছে। তাই হাদিসটি সালাতে সহজতা, দ্বীনে ভারসাম্য, হিংসা থেকে বাঁচা এবং অন্যায় আচরণ এড়িয়ে চলার বড় শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনে নিজের উপর অযথা কঠোরতা চাপানো ঠিক নয়।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের আদর্শ সহজতা ও সংযম শেখায়।
- হিংসা নেক কাজের আলো কমিয়ে দেয়।
- স্বৈরাচারী ও অন্যায় আচরণ ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
